হামলার পাল্টা জবাবে ৮০ সশস্ত্র জঙ্গিকে হত্যার দাবি মালি সেনাবাহিনীর

আপডেট : ০২ জুলাই ২০২৫, ১০:১৮

দেশজুড়ে একযোগে চালানো হামলার জবাবে অন্তত ৮০ জন সশস্ত্র জঙ্গিকে হত্যার দাবি করেছে মালির সামরিক বাহিনী। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (০১ জুলাই) টেলিভিশন চ্যানেলে প্রচারিত এক ভিডিও বার্তায় এ তথ্য জানান দেশটির সমারিক বাহিনীর মুখপাত্র সুলেইমান ডেম্বেলে।

তিনি বলেন, ‘যেসব স্থানে নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা বাহিনীর সঙ্গে জঙ্গিদের সংঘর্ষ হয়েছে, প্রতিটি জায়গাতেই শত্রুপক্ষ বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির শিকার হয়েছে।’ ভিডিওতে নিহত বিদ্রোহীদের মরদেহ, অস্ত্রশস্ত্র, মোটরসাইকেল ও যানবাহনের দৃশ্যও দেখানো হয়।

আল-কায়েদা সংশ্লিষ্ট জঙ্গি সংগঠন জামায়াতে নুসরাত আল-ইসলাম ওয়াল মুসলিমিন (জেএনআইএম) হামলার দায় স্বীকার করে জানিয়েছে, তারা ‘সমন্বিত ও পরিকল্পিত হামলা’ চালিয়ে তিনটি সেনা ব্যারাক ও ডজনখানেক সামরিক অবস্থান দখলে নিয়েছে।

মালির সেনাবাহিনীর ভাষ্য অনুযায়ী, দেশটির মধ্য ও পশ্চিম অঞ্চলের সাতটি শহরে এই হামলা চালানো হয়। গতকাল মঙ্গলবার চালানো এই হামলার শিকার হয় সেনেগালের সীমান্তবর্তী পশ্চিম মালির ডিবোলি শহর এবং পাশের কায়েস ও সান্দারে। দেশটির রাজধানী বামাকোর উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত নিয়োরো দ্যু সাহেল ও গোগুই শহর এবং মধ্য মালির মোলোডো ও নিয়োনোতেও হামলা হয়। সেনাবাহিনীর দাবি, এসব শহরে গোলাবর্ষণ চালানো হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা ও এক রাজনীতিক অন্তত দেশটির চারটি শহরে হামলার ঘটনা নিশ্চিত করেছেন।

কায়েস শহরের এক বাসিন্দা বলেন, আজ সকালে আতঙ্ক নিয়ে ঘুম থেকে উঠেছি। গুলি চলছে,  আমার বাড়ি থেকেই গভর্নরের বাসভবনের দিকে ধোঁয়া উড়তে দেখছি।’
তিনি গোলাগুলিকে ‘ভয়াবহ ও তীব্র’ বলে বর্ণনা করেন। অপর এক বাসিন্দা বলেন, গোলাগুলির সময় তিনি নিজ বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছিলেন।

এদিকে, এক স্থানীয় রাজনীতিক ফেসবুকে লিখেছেন, ‘নিয়োরো অঞ্চল আতঙ্ক নিয়ে ঘুম থেকে জেগেছে।’ তিনি জানান, নিয়োরো, সান্দারে ও গোগুই শহর হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল।

উল্লেখ্য, মালি এক দশকেরও বেশি সময় ধরে আইএস ও আল-কায়েদা সংশ্লিষ্ট জঙ্গি গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে লড়ছে। এর পাশাপাশি দেশটির উত্তরাঞ্চলে টুয়ারেগ বিদ্রোহের দীর্ঘ ইতিহাসও রয়েছে।

 

 

 

 

Ask ChatGPT

ইত্তেফাক/কেএইচ