সহজ শর্তে ঋণের প্রলোভন দেখিয়ে ২০ লাখ টাকা নিয়ে উধাও এনজিও

আপডেট : ০২ জুলাই ২০২৫, ১৬:১৭

জামালপুরের মাদারগঞ্জে সহজ শর্তে ঋণ দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে শতাধিক মানুষের কাছ থেকে প্রায় ২০ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে উধাও হয়েছে একটি প্রতারক এনজিও। মঙ্গলবার (১ জুলাই) বিকেলে ঋণ বিতরণের কথা থাকলেও দুপুর গড়াতেই এনজিওটির কর্মীদের আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পেরে অনেকেই কান্নায় ভেঙে পড়েন।

প্রতিষ্ঠানটির নাম ‘সমাজ কল্যাণ উন্নয়ন সংস্থা’ বলে জানা গেলেও, এটির কোনো বৈধ অনুমোদন বা রেজিস্ট্রেশনের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়নি। সঞ্চয় বইয়ে শুধু একটি রেজিস্ট্রেশন নম্বর (৪৩৯/১৯৯০) উল্লেখ করা হয়েছে, যার বৈধতা বা উৎস সম্পর্কে নিশ্চিত করতে পারেননি কেউ। প্রতিষ্ঠানটির কথিত প্রধান কার্যালয় ঢাকার মিরপুর-২ এর ডি-ব্লকে বলে উল্লেখ রয়েছে।

যেভাবে প্রতারণা চালায়
ভুক্তভোগীরা জানান, গত দুই দিন ধরে একদল লোক এনজিও পরিচয়ে এলাকায় ঘুরে ঘুরে সদস্য সংগ্রহ করছিল। মাত্র ২০০ টাকার বিনিময়ে সদস্যপদ, এবং ১১ হাজার টাকা জমা দিলে ১ লাখ টাকার ঋণ দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হচ্ছিল। শর্ত ছিল, এই ঋণ দুই বছরের মধ্যে সহজ কিস্তিতে পরিশোধ করা যাবে।

মাদারগঞ্জ পৌরসভার ক্ষুদ্র জোনাইল এলাকার ভুক্তভোগী শিউলী বেগম বলেন, "মঙ্গলবার সকালে ৩ লাখ টাকা ঋণ দেওয়ার কথা বলে তারা আমার কাছ থেকে ৩৩ হাজার টাকা নেয়। বালিজুড়ী বাজারের দোস্ত মার্কেটের মল্লিকা প্লাজায় তাদের অফিসে নিয়ে যাওয়া হয়। বিকেল ৩টার সময় ভবনের ছাদে ৫০০ জনকে ঋণ দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বিকালে গিয়ে দেখি অফিস তালাবদ্ধ, কেউ নেই।"

একই এলাকার মিনা বেগম বলেন, "গত দুই দিন ধরে আমাদের এলাকায় ঘোরাঘুরি করে তারা বলে ৬ লাখ টাকা ঋণ দেবে। আমরা ৬০ হাজার টাকা জমা দিই। বিকালে এসে দেখি বহু মানুষ জড়ো হয়েছে, কিন্তু এনজিওর কেউ নেই।"

অফিস ভাড়া নিয়েও প্রতারণা
দোস্ত মার্কেটের মালিক ইমান আলী জানান, "সোমবার বিকেলে কয়েকজন এসে অফিস ভাড়া নিতে চায়। তারা বলে এটা ‘আকিজ কোম্পানির’ অফিস হবে। পরদিন চুক্তির কথা ছিল। কিন্তু শুনি তারা টাকা নিয়ে পালিয়ে গেছে।"

প্রশাসনের বক্তব্য
এনজিওটির ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরগুলোতে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও সবগুলো নম্বরই বন্ধ পাওয়া গেছে।

মাদারগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল্লাহ সাইফ বলেন, "এ বিষয়ে এখনো কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"

ইত্তেফাক/এএইচপি