ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলায় গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারী ৪৪টি কমিউনিটি ক্লিনিকের মধ্যে ৩১টি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। এসব ঝুঁকিপূর্ণ ক্লিনিকের মধ্যে বেশ কয়েকটির ছাদের পলেস্তরা খসে পড়ছে, দেয়ালে ফাটল দেখা দিয়েছে, কোথাও ছাদ চুইয়ে পানি পড়ছে। ফলে চিকিৎসা সেবা যেমন ব্যাহত হচ্ছে, তেমনি সেবা প্রদানকারীরাও রয়েছেন দুর্ঘটনার ঝুঁকিতে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের (ভারপ্রাপ্ত) পরিসংখ্যানবিদ রাজেশ চক্রবর্তী জানান, মাঠ পর্যায়ে জরিপ চালিয়ে দেখা গেছে, ৩১টি ক্লিনিক ঝুঁকিপূর্ণ। এর মধ্যে ১৭টি অতি ঝুঁকিপূর্ণ এবং ১৪টি মধ্যম ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
ছাদ চুইয়ে পানি পড়ে, পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখেন সিএইচসিপি
অতি ঝুঁকিপূর্ণ বড়হিত ইউনিয়নের রাজেন্দ্রপুর কমিউনিটি ক্লিনিকের সিএইচসিপি শফিকুল ইসলাম জানান, “ছাদ চুইয়ে পানি পড়ে। ছাদের পলেস্তরা খসে পড়ছে। মাথার উপর পলিথিন টানিয়ে কাজ চালাতে হচ্ছে। আসবাবপত্র, দরজা-জানালা ভাঙা।”
উচাখিলা ইউনিয়নের বালিহাটা, রাজীবপুরের বৃ-দেবস্থান, তারুন্দিয়ার চরজিতর ও ঈশ্বরগঞ্জ ইউনিয়নের দড়িপাঁচাশি ক্লিনিকের সিএইচসিপিরাও জানান, একই অবস্থা তাদের ক্লিনিকগুলোতেও বিরাজ করছে। দেখা গেছে বৃষ্টিতে ছাদ চুইয়ে ভেতরে পানি পড়ে। দেয়ালে ফাটল। নেই বিদ্যুৎ, টয়লেট, বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা। ওষুধ, রেজিস্ট্রার বই, আসবাবপত্র নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
প্রসূতি সেবা নিয়ে দুশ্চিন্তা
বালিহাটার সিএইচসিপি জানান, “আমার ক্লিনিকে এখন পর্যন্ত পাঁচজন গর্ভবতী মায়ের নিরাপদ প্রসব করানো হয়েছে। কিন্তু এখনকার দুরবস্থায় মায়েদের সেবা দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।”
থৈ থৈ পানি, প্রবেশ করতে পারেন না রোগীরা
বড়হিত ক্লিনিকে সরেজমিনে দেখা যায়, ক্লিনিকের সামনে হাঁটু সমান পানি জমে আছে। ভেতরেও থৈ থৈ করছে পানি। ক্লিনিকের সিএইচসিপি আহসানুল হক দিদার বলেন, “পানি জমে থাকায় রোগীরা ভিতরে ঢুকতেই পারে না। চিকিৎসা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।”
রাজেন্দ্রপুর ক্লিনিকে আসা কেশবপুর গ্রামের উসমান আলী (৭০) ও মধ্যপালা গ্রামের মদিনা খাতুন (৩০) বলেন, “প্রাথমিক চিকিৎসা পেলেও পানীয়জল ও টয়লেট সুবিধা না থাকায় দুর্ভোগে পড়তে হয়।”
স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা যা বলছেন
এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সাদিয়া তাসনিম মুনমুন বলেন, “ঝুঁকিপূর্ণ ক্লিনিকগুলো পুনর্নির্মাণের জন্য লাইন ডিরেক্টর সিবিএইচসি বরাবর চিঠি দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে চারটি পুনর্নির্মাণ করা হয়েছে। বাকিগুলোর কাজ ধাপে ধাপে সম্পন্ন হবে।”
গ্রামীণ জনস্বাস্থ্য সেবার প্রাণকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোই যদি ন্যূনতম অবকাঠামো থেকে বঞ্চিত হয়, তবে স্বাস্থ্য সেবা পৌঁছানো কঠিন হয়ে দাঁড়াবে। দ্রুত সংস্কার না হলে বিপর্যয় আরও ঘনীভূত হবে বলে আশঙ্কা করছেন সেবাগ্রহীতা ও সেবাদানকারীরা।
