মধ্যপাড়া পাথরখনিতে শ্রমিকদের অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট, পাথর উত্তোলন বন্ধ

আপডেট : ০২ জুলাই ২০২৫, ২০:৫১

দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলার পার্শ্ববর্তী মধ্যপাড়া পাথরখনিতে কর্মরত খনি শ্রমিকরা প্রোডাকশন প্রফিট বোনাস প্রদান ও চাকরিচ্যুত শ্রমিকদের পুনর্বহালের দাবিতে অনির্দিষ্টকালের জন্য ধর্মঘটে গেছেন। এর ফলে খনিতে ভূগর্ভ থেকে পাথর উত্তোলন কার্যক্রম সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে গেছে।

বুধবার (২ জুলাই) সকাল ৭টা থেকে শ্রমিকরা খনির প্রধান ফটকের সামনে অবস্থান নিয়ে এ ধর্মঘট শুরু করেন। আন্দোলনকারী শ্রমিকরা জানিয়েছেন, দাবিগুলো পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।

জানা গেছে, মধ্যপাড়া গ্রানাইট মাইনিং কোম্পানি লিমিটেডের (এমজিএমসিএল) ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জার্মানিয়া ট্রাস্ট কনসোর্টিয়াম (জিটিসি)-এর অধীনে কর্মরত খনি শ্রমিকরা দীর্ঘদিন ধরে তিন শিফটে ভূগর্ভ থেকে পাথর উত্তোলন করে আসছেন। চলতি বছরের মে মাসে শ্রমিকরা কর্তৃপক্ষের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি পাথর উত্তোলন করেন। কিন্তু সেই অনুযায়ী প্রোডাকশন প্রফিট বোনাস না দেওয়ায় শ্রমিকদের মধ্যে চরম অসন্তোষ দেখা দেয়। বিষয়টি নিয়ে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে একাধিকবার আলোচনার পরও সমাধান না হওয়ায় ক্ষোভ বাড়তে থাকে।

এমন পরিস্থিতিতে দাবির পক্ষে অবস্থান নেওয়া কয়েকজন শ্রমিক— ব্লাস্টার শফিকুল ইসলাম, লং ড্রিল অপারেটর রফিকুল ইসলাম, অপারেটর ওমর আলী ও জুনিয়র হেলপার হাসান আলীকে চাকরিচ্যুত করা হয়। এতে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা চাকরিচ্যুতদের পুনর্বহাল এবং বোনাস প্রদানের দাবিতে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটের ডাক দেন।

চাকরিচ্যুত খনি শ্রমিক ও আন্দোলনকারী সোলাইমান ইসলাম বলেন, “জীবনের ঝুঁকি নিয়ে লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি পাথর উত্তোলন করেও আমাদের বোনাস দেওয়া হয়নি। আর প্রতিবাদ করায় কয়েকজন শ্রমিককে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। যতদিন না দাবি মানা হবে, ততদিন ধর্মঘট চলবে।”

এ বিষয়ে জিটিসি কর্তৃপক্ষের বক্তব্য নিতে চেষ্টা করেও সম্ভব হয়নি। তারা মোবাইল নম্বর না দেওয়ায় যোগাযোগ করা যায়নি।

তবে এমজিএমসিএল-এর উপ-মহাব্যবস্থাপক সৈয়দ রফিজুল ইসলাম বলেন, “শ্রমিকদের ধর্মঘটের কারণে আজ সকাল থেকে ভূগর্ভস্থ পাথর উত্তোলন বন্ধ রয়েছে। তবে উপরিভাগের পাথর বিক্রিসহ অন্যান্য কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে চলছে। ধর্মঘটকারীরা সরাসরি আমাদের অধীনে কর্মরত নয়, তারা জিটিসি’র আওতায় কাজ করছেন। বিষয়টি নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান চেষ্টার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।”

ইত্তেফাক/এএইচপি