লক্ষ্যে সফল হওয়ায় খুশি বাটলার

আপডেট : ০৩ জুলাই ২০২৫, ১৩:০৮

কঠিন পরীক্ষায় পাশ করেছেন আফঈদারা। এএফসি নারী এশিয়ান কাপের বাছাইপর্বের 'সি' গ্রুপের শক্তিশালী প্রতিপক্ষ স্বাগতিক মিয়ানমারকে হারিয়ে দিয়েছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। পরে সন্ধ্যার ম্যাচে বাহরাইন-তুর্কমিনিস্তানের ম্যাচ ২-২ ব্যবধানে ড্র হলে পথ পরিষ্কার হয়ে যায় বাংলাদেশের। নিশ্চিত হয়ে যায় আগামী বছর অস্ট্রেলিয়াতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এশিয়ান কাপের মূল পর্বে খেলার টিকিট। তাতে বাছাইপর্বের আগামী শনিবারের শেষ ম্যাচটি তুর্কমেনিস্তানের বিপক্ষে এখন দাঁড়িয়েছে নিয়মরক্ষার।

স্বাগতিক মিয়ানমারকে বাংলাদেশ হারিয়েছে ২-১ ব্যবধানে। খেলা শেষে এই ম্যাচ নিয়ে বাফুফের দেওয়া এক বার্তার দলের ইংলিশ কোচ পিটার বাটলার বলেন, 'এই ম্যাচকে ঘিরে আমাদের একটি পরিকল্পনা ছিল এবং যেটা বাস্তবায়নের জন্য নিখুঁতভাবে প্রস্তুতি নিয়েছিলাম। সে সময় আমরা জানতাম যে, মাঠের খেলা দেখতে সুন্দর লাগবে না। তবে আমরা চেয়েছিলাম যাতে ওরা নিজেদের পাসিং ফুটবলটা যাতে মাঠে ঠিকঠাক ভাবে না খেলতে পারে। সেটায় সফল হয়েছি। তবে তাদের টেকনিক্যালি ভালো খেলোয়াড় ছিল বলে কেবল এক-দু'বার আমাদের সমস্যায় ফেলতে পেরেছে। সত্যি বলতে আমার খেলোয়াড়দের পুরো কৃতিত্ব দিতে হবে। রক্ষণে তারা বেশ ভালোভাবে সামাল দিয়েছে এবং খেলার সবচেয়ে কঠিন ও পরিশ্রমী কাজটি করেছে। তারা খুবই ভালো খেলেছে।'

মিয়ানমারের আক্রমণ ভাগ ছিল বেশ শক্তিশালী। বারবার বাংলাদেশের জাল খুঁজে নেওয়ার চেষ্টা করেছে যদিও বার বার ব্যর্থ হয়েছে তারা। লাল-সবুজের শক্ত রক্ষণভাগ বারবার তাদের থামিয়ে দিয়েছে। তবে মিয়ানমার থামাতে পারেননি বাংলাদেশের এক ঋতুপর্ণা চাকমাকে। চোখ ধাঁধানো গোল করে জিতিয়েছে দলকে। পরে হয়েছেন ম্যাচ সেরাও। খেলা শেষে তার ব্যাপক প্রশংসা শোনা যায় কোচের মুখেও। 

বাটলার বলেন, 'এই মেয়েটা (ঋতুপর্ণা) অনেক প্রতিভাবান ফুটবলার। তার অনেক উচ্চপর্যায়ে পৌঁছানোর সামর্থ্য রয়েছে। আমার মনে হয়, এটা সবাই জানে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে বাংলাদেশে নারীদের কোনো লিগ হয় না, তাই তাকে ভুটানে গিয়ে লিগ খেলতে হয়েছে। অথচ সামর্থ্য অনুসারে তার খেলা হওয়া উচিত সৌদি আরব, মধ্যপ্রাচ্য বা আরও উন্নত মানের কোনো লিগে। কারণ সে দারুণ বুদ্ধিমান, দৃঢ়চেতা ও প্রতিভাবান মেয়ে। তার মধ্যে অনেক গুণ রয়েছে। আর সে এখনো তরুণ। তো আমি সত্যিই আশাবাদী, সে আরও বড় কোনো মঞ্চে যাবে, আরও ভালো কিছু অর্জন করবে, কারণ সে সেটা প্রাপ্য।'

এ দিকে ম্যাচ শেষে ঋতুপর্ণা বলেন, 'দেশ থেকে একটা লক্ষ্য নিয়ে এসেছিলাম ম্যাচ বাই ম্যাচ জয় তুলে নেওয়ার। সেই লক্ষ্য অর্জন করতেই আমরা যার যার সেরা পারফরম্যান্স দেওয়ার চেষ্টা করছি, যেটাতে আমরা সফল হয়েছি। দুটি ম্যাচে জয় পেয়েছি আর একটি ম্যাচ এখনো বাকি রয়েছে। তো এখন সেটা নিয়েই আমরা পরিকল্পনা সাজাবো।' 

তবে মিয়ানমারের বিপক্ষে পাওয়া এই ঐতিহাসিক জয়ের উদযাপন এখনই করবে না দল। যা উদযাপন তারা করবেন শেষ ম্যাচের পরই। ঋতুপর্ণা বলেন, 'দেশে আমরা সারা বছর অনুশীলন করি, কষ্ট করি। তো আমরা এখানে এসেছি একটা লক্ষ্য নিয়েই। সেটা হলো ম্যাচ বাই ম্যাচ জয় তুলে নেওয়া ও মূল পর্বের জন্য কোয়ালিফাই করা। তো এই জয়ের উদযাপন তো অবশ্যই করবো। তবে এখনো একটা ম্যাচ বাকি রয়েছে, সেটায় যদি ভালো ফলাফল করতে পারি অবশ্যই আমরা উদযাপন করবো।' এসময় দর্শকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তরুণ এই ফরওয়ার্ড।

ইত্তেফাক/জেডএইচ