৪ বছরেও শেষ হয়নি রাস্তার নির্মাণ, চরম দুর্ভোগে ১০ গ্রামের মানুষ

আপডেট : ০৩ জুলাই ২০২৫, ১৭:১৩

দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলার এলুয়ারি ইউনিয়নের একটি গ্রামীণ রাস্তা নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছিল চার বছর আগে। কিন্তু আজও কাজ শেষ হয়নি। দুই দফায় ঠিকাদার নিয়োগ দেওয়া হলেও উভয় ঠিকাদারই কিছু অংশের কাজ করে রাস্তা ফেলে চলে গেছেন। এতে বর্ষা মৌসুমে সামান্য বৃষ্টিতেই রাস্তা পরিণত হয়েছে কাঁদাময় জলাশয়ে। চরম দুর্ভোগে পড়েছেন অন্তত ১০ গ্রামের হাজারো মানুষ।

জানা গেছে, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) তত্ত্বাবধানে ২০২১ সালের ১৪ মার্চ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স সাফা অ্যান্ড সিনহা এন্টারপ্রাইজের সঙ্গে চুক্তি হয়। দেড় কিলোমিটার দীর্ঘ এবং ৩ মিটার প্রশস্ত ওই রাস্তাটির নির্মাণ ব্যয় নির্ধারিত হয় প্রায় ৮৪ লাখ টাকা। ২০২১ সালের ২০ সেপ্টেম্বর কাজ শুরু হলেও ২০২২ সালের নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে কাজ শেষ না করে কেবলমাত্র ‘বক্স কাটিং’ বা মাটি খননের পরই উধাও হয়ে যায় প্রতিষ্ঠানটি।

পরবর্তীতে কাজ বাতিল করে এলজিইডি চলতি বছরের মার্চ মাসে নতুন করে দরপত্র আহ্বান করে। এবার চিরিরবন্দর উপজেলার ‘মনতাজ ট্রেডার্স’ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ১ কোটি ৪৭ লাখ টাকায় কাজটি পায়। এপ্রিল মাসে তারা কিছু মাটি খনন ও বালু ফেলার পর কাজ বন্ধ করে দেয়।

রাস্তাটি ব্যবহারে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন ফরিদপুর, রাজখন্ডা, জুঝারপুর, পাকাপান, দাসপাড়া, শালগ্রাম, পার্বতীপুর, বড়গাছা, লালদীঘি বাজারসহ আশপাশের অন্তত ১০ গ্রামের মানুষ। যানবাহন চলাচল প্রায় বন্ধ। হাঁটাচলায় কাদায় পা আটকে যাচ্ছে। স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী ও কৃষকরা রয়েছেন সবচেয়ে বড় বিপাকে।

জুঝারপুর দাসপাড়া গ্রামের ধনী রায়, মদন রায় ও প্রদীপ রায় বলেন, “এই সড়ক প্রায় ৪ বছর ধরে এ অবস্থায় পড়ে আছে। আগের ঠিকাদার মাটি কেটে পালিয়েছে। এখন সামান্য বৃষ্টিতেই রাস্তায় হাঁটু সমান কাদা জমে যায়। কৃষিপণ্য বাজারে নিতে ভ্যানও ঢুকতে চায় না। আমাদের অতিরিক্ত ভাড়া দিতে হচ্ছে।”

পাকাপান গ্রামের কৃষক আব্দুল মজিদ ও খাদেমুল ইসলাম জানান, “রাস্তা নষ্ট থাকায় ঠিকমতো ফসল বাজারে নিতে পারছি না। লাভ তো দূরের কথা, এখন লোকসান গুনছি।”

মনতাজ ট্রেডার্সের মালিক মোস্তাফিজার রহমান জানান, “চুক্তিভিত্তিকভাবে আমবাড়ীর ঠিকাদার মো. বাচ্চুকে কাজ দিয়েছি। তাকে দ্রুত কাজ শেষ করতে বলেছি। দেখা যাক, সে কত দ্রুত শেষ করতে পারে।”

এলুয়ারি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাওলানা মো. নবিউল ইসলাম বলেন, “রাস্তার কাজ শুরু হলেও অনেক দিন ধরে বন্ধ রয়েছে। এতে জনগণের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। বিষয়টি উপজেলা প্রকৌশলীকে জানিয়েছি।”

উপজেলা প্রকৌশলী শফিকুল ইসলাম জানান, “নতুন টেন্ডারের পর এপ্রিল মাসে কাজ শুরু হয়। কিছু বালু ফেলা হলেও ঠিকাদার পরে জানান, বালু পাচ্ছেন না। আমরা কাজ দ্রুত শেষ করতে নির্দেশ দিয়েছি।”

ইত্তেফাক/এএইচপি