এজবাস্টনে দ্বিতীয় টেস্টের দ্বিতীয় দিনে ব্যাটে-বলে শাসন করেছে ভারত। অধিনায়ক শুভমান গিলের অনবদ্য ২৬৯ রানের ইনিংস আর পেসারদের দুর্দান্ত শুরুর সুবাদে ইংল্যান্ডের ওপর স্পষ্ট দাপট দেখাচ্ছে সফরকারীরা। দিন শেষে ইংল্যান্ডের সংগ্রহ ৩ উইকেটে ৭৭ রান। ভারত এখনো এগিয়ে ৫১০ রানে।
এর আগে প্রথম ইনিংসে ভারত তুলেছিল ৫৮৭ রান। সেই পাহাড়সম রানের পেছনে সবচেয়ে বড় অবদান শুভমান গিলের। ব্যাট হাতে যেন দুর্বার ছিলেন ভারতীয় অধিনায়ক। গিলের সঙ্গে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেন ইয়াশস্বী জয়সওয়াল (৮৭), রবীন্দ্র জাদেজা (৮৯) ও ওয়াশিংটন সুন্দর (৪২*, অপরাজিত)।
রেকর্ডের খতিয়ান
- ভারতীয় অধিনায়ক হিসেবে সর্বোচ্চ রান
গিলের ২৬৯ রানের ইনিংসটি এখন ভারতীয় টেস্ট অধিনায়কদের মধ্যে সর্বোচ্চ। এর আগে এই রেকর্ড ছিল বিরাট কোহলির দখলে—২০১৯ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে পুনে টেস্টে করেছিলেন ২৫৪*। - ইংল্যান্ডের মাটিতে ভারতীয় ব্যাটারের সর্বোচ্চ স্কোর
বার্মিংহ্যামে গিল পেছনে ফেলেছেন ১৯৭৯ সালে ওভালে সুনীল গাভাসকরের ২২১ রানকে। - বিদেশের মাটিতে ভারতীয় ব্যাটারের তৃতীয় সর্বোচ্চ স্কোর
বিদেশে ভারতের হয়ে সর্বোচ্চ রানের ইনিংস ভিরেন্দর শেবাগের (৩০৯, ২০০৪, পাকিস্তানের বিপক্ষে)। এরপর রাহুল দ্রাবিড় (২৭০), আর তৃতীয় স্থানে এখন শুভমান গিল। - SENA দেশের মাঠে এশীয় অধিনায়কদের মধ্যে সর্বোচ্চ রান
দক্ষিণ আফ্রিকা, ইংল্যান্ড, নিউজিল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ায় (SENA) অধিনায়ক হিসেবে এত রান আগে কোনো এশীয় ব্যাটার করেননি। এর আগের রেকর্ড ছিল তিলকরত্নে দিলশানের—২০১১ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে লর্ডসে ১৯৩। - SENA দেশে এশীয় ব্যাটারদের মধ্যে তৃতীয় সর্বোচ্চ ইনিংস
গিলের ওপরে আছেন কেবল জাহির আব্বাস (২৭৪, ১৯৭১, ইংল্যান্ডের বিপক্ষে) ও জাভেদ মিয়াঁদাদ (২৭১, ১৯৮৯, নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে)। - এজবাস্টনে পঞ্চম সর্বোচ্চ স্কোর
এই মাঠে গিলের ইনিংসটি পঞ্চম সর্বোচ্চ। এর চেয়ে বেশি রান করেছেন আলেস্টার কুক (২৯৪), পিটার মে (২৮৫*), গ্রায়েম স্মিথ (২৭৭) ও জাহির আব্বাস (২৭৪)। - ইংল্যান্ডে ভারতের চতুর্থ সর্বোচ্চ টেস্ট সংগ্রহ
৫৮৭ রানের এই ইনিংসটি ইংল্যান্ডে ভারতের চতুর্থ সর্বোচ্চ দলগত স্কোর। এর চেয়ে বেশি রান ভারত তুলেছে ২০০৭ সালে ওভালে (৬৬৪), ২০০২ সালে হেডিংলিতে (৬২৮/৮ ডিক্লেয়ার) এবং ১৯৯০ সালে ওভালে (৬০৬/৯)।
৫৮৭ রানের বিশাল স্কোরের পর দ্বিতীয় ইনিংসে বল হাতে দুর্দান্ত শুরু এনে দেন পেসার আকাশ দীপ ও মোহাম্মদ সিরাজ।
মাত্র ২৫ রানে তিন উইকেট তোলে নেন এই দুই পেসার। এক বলের ব্যবধানে বেন ডাকেট ও অলি পোপকে ফেরান আকাশ দীপ। এরপর জ্যাক ক্রলিকেও সাজঘরে পাঠান সিরাজ। তিন শীর্ষ ব্যাটারকে হারিয়ে ইংল্যান্ড পড়ে যায় বিশাল চাপে। শেষ বিকেলে জো রুট ও হ্যারি ব্রুক কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করলেও দিন শেষে ইংল্যান্ড পড়ে রয়েছে ৫১০ রানে পিছিয়ে।
