মধ্যপাড়া পাথরখনিতে অচলাবস্থা, আন্দোলনে তৃতীয় দিনে শ্রমিকরা

আপডেট : ০৪ জুলাই ২০২৫, ১৫:৪২

দিনাজপুরের মধ্যপাড়া পাথরখনিতে অনির্দিষ্টকালের জন্য ভূগর্ভ থেকে পাথর উত্তোলন কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এর প্রতিবাদে চাকরিচ্যুত শ্রমিকদের পুনর্বহালসহ ৯ দফা দাবিতে শুক্রবার (৪ জুলাই) তৃতীয় দিনের মতো শ্রমিকদের আন্দোলন অব্যাহত রয়েছে।

সকালে খনির সম্মুখভাগে অবস্থিত কার্যালয় চত্বরে অবস্থান নিয়ে আন্দোলনরত খনি শ্রমিকরা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে কর্মসূচি পালন করেন। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে:

১. ছাঁটাইকৃত ৪ জন শ্রমিককে পুনর্বহাল,
২. অনিয়ন্ত্রিত ছাঁটাই বন্ধ,
৩. বার্ষিক ৫০% হারে পদোন্নতি,
৪. নিয়োগের এক বছরের মধ্যে অপারেটর স্কেলে বেতন প্রদান,
৫. বেতন-ভাতা আইনের কোন ধারা অনুযায়ী দেওয়া হয় তা জানানো,
৬. বেতন কর্তন বন্ধ,
৭. বয়সের কারণে অব্যাহতি দিলে ৬ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ,
৮. লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম করলে অতিরিক্ত পাথরের জন্য ২০০ টাকা/টন হারে প্রোডাকশন বোনাস,
৯. প্রতি মাসে পূর্ণ রেশন প্রদান।

শ্রমিকদের আন্দোলনের জেরে খনির বিশৃঙ্খলা রোধ ও মূল্যবান যন্ত্রপাতিসহ কর্মরত বিদেশি বিশেষজ্ঞদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে গত বুধবার (২ জুলাই) রাত থেকে ভূগর্ভস্থ পাথর উত্তোলন কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করে খনির ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জার্মানিয়া ট্রাস্ট কনসোর্টিয়াম (জিটিসি)। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নিরাপত্তা ও শ্রমিক কল্যাণ কর্মকর্তা অবসরপ্রাপ্ত মেজর রুহুল আমিন স্বাক্ষরিত এক লিখিত নোটিশে এ ঘোষণা দেওয়া হয়।

আন্দোলনকারী শ্রমিক কমিটির সমন্বয়ক সোলায়মান ইসলাম, মামুনুর রশীদ, সিরাজুল ইসলাম, নবিউল ইসলাম ও ফিরোজ রহমান বলেন, “প্রতিষ্ঠানের নীতিমালায় রয়েছে—প্রতি মাসে এক লাখ মেট্রিক টন পাথর উত্তোলনের পর অতিরিক্ত প্রতি টনের জন্য ১০০ টাকা করে বোনাস দেওয়া হবে। কিন্তু মে মাসে ১ লাখ ৩৪ হাজার মেট্রিক টন উত্তোলন হলেও অতিরিক্ত ৩৪ হাজার টনের বোনাস দেওয়া হয়নি। বরং এ বিষয়ে প্রশ্ন তোলায় চারজন শ্রমিককে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে।”

চাকরিচ্যুতরা হলেন—শফিকুল ইসলাম, হাসান আলী, রফিকুল ইসলাম ও ওমর আলী। তাদের পুনর্বহাল ও বোনাস প্রদানের দাবিতে খনির ৮২০ জন শ্রমিক আন্দোলনে নেমেছেন। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে বলে তারা জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জিটিসি'র কোনো কর্মকর্তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। যোগাযোগের জন্য মোবাইল নম্বর না থাকায় তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

মধ্যপাড়া পাথরখনির উপ-মহাব্যবস্থাপক সৈয়দ রফিজুল ইসলাম বলেন, “শ্রমিকরা পেট্রোবাংলার অধীনে নয়, জিটিসি’র অধীনে নিয়োজিত। তাই পাথর উত্তোলন বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিজেই। ভূগর্ভস্থ কার্যক্রম আপাতত বন্ধ থাকলেও উপরিভাগে পাথর বিক্রি ও অন্যান্য কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে।”

ইত্তেফাক/এএইচপি