দাউদকান্দিতে কৃষক দল নেতার মাথা ফাটালেন বিএনপি নেতা

আপডেট : ০৪ জুলাই ২০২৫, ২০:২৭

কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলায় দলীয় কমিটিতে কাঙ্ক্ষিত পদ না পাওয়ায় উপজেলা কৃষকদলের আহ্বায়ক আহমেদ হোসেন তালুকদারের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে ইউনিয়ন বিএনপির সদ্যঘোষিত সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান প্রধানের বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার (৩ জুলাই) রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার গোয়ালমারী বাজারে এ হামলার ঘটনা ঘটে।

আহত আহমেদ হোসেন তালুকদার গোয়ালমারী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান এবং দাউদকান্দি উপজেলা কৃষকদলের আহ্বায়ক। হামলার পর তাকে প্রথমে দাউদকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয় এবং পরে গুরুতর অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

ঘটনার পেছনের কারণ
বৃহস্পতিবার উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক লতিফ ভূঁইয়া ও সদস্য সচিব ভিপি জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে গোয়ালমারী ইউনিয়নে রায়হান উদ্দিন রেনু মুন্সিকে সভাপতি ও মিজানুর রহমান প্রধানকে সাধারণ সম্পাদক করে কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়। তবে মিজানুর রহমান সভাপতি পদ না পেয়ে ক্ষুব্ধ হন এবং তার অনুসারীরা তালুকদার আহমেদের ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ রয়েছে।

দলীয় ব্যবস্থার মুখে মিজান
ঘটনার পরপরই উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব ভিপি জাহাঙ্গীর আলম মিজানুর রহমান প্রধানকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেন। নোটিশে বলা হয়, "এই হামলার পেছনে আপনার (মিজান) প্রত্যক্ষ ইন্ধন ও নির্দেশ রয়েছে। আপনি ২৪ ঘণ্টার মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা না দিলে দলীয় গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"

নোটিশে আরও উল্লেখ করা হয়, মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে অতীতে একাধিক অপকর্ম, চাঁদাবাজি, সাধারণ মানুষকে ঘরছাড়া করা এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে হামলার মতো অভিযোগ রয়েছে।

পরিবার ও কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের প্রতিক্রিয়া
আহমেদ হোসেন তালুকদারের ছোট ভাই শাহাদাত হোসেন সাকু বলেন, “আমার ভাই মিজানকে সমর্থন করেননি, এ কারণেই তার ওপর প্রাণঘাতী হামলা চালানো হয়েছে।”

এ ঘটনায় কেন্দ্রীয় বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মারুফ হোসেন বলেন, “আমি ইতোমধ্যে ফেসবুকে একটি বিবৃতি দিয়েছি—সন্ত্রাসীর কোনো দল নেই। যারা এ হামলার সঙ্গে জড়িত, তাদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।”

মিজানুর রহমান প্রধানের বক্তব্য জানতে একাধিকবার মোবাইলে যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

ইত্তেফাক/এএইচপি