সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে প্রায় ১,৬০০টি ভূমিকম্পের পর দক্ষিণ জাপানের প্রত্যন্ত দ্বীপগুলো থেকে বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। স্থানীয় মেয়র জেনিচিরো কুবো সোমবার (৭ জুলাই) এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানিয়েছেন।
আকুসেকি দ্বীপের বাসিন্দা এই মেয়র বলেন, রাতারাতি ৫.১ মাত্রার ভূমিকম্পের পরেও সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এই দ্বীপে কোনো বড় ধরনের শারীরিক ক্ষতি হয়নি।
কিন্তু ২১ জুনের পর থেকে প্রায় অবিরাম ভূমিকম্প এলাকার বাসিন্দাদের ওপর তীব্র মানসিক চাপ সৃষ্টি করেছে। ঘন ঘন ভূমিকম্পের ফলে অনেকেই ঘুমাতেও পারছেন না।
জেনিচিরো কুবো বলেন, আকুসেকির ৮৯ জন বাসিন্দার মধ্যে ৪৪ জন রোববারের মধ্যে কাগোশিমার আঞ্চলিক কেন্দ্রে স্থানান্তরিত হয়েছেন এবং আরও ১৫ জন কাছাকাছি আরেকটি দ্বীপ ছেড়ে গেছেন।
সাতটি জনবসতিপূর্ণ এবং পাঁচটি জনবসতিহীন দ্বীপ নিয়ে গঠিত তার পৌরসভাটি কাগোশিমা থেকে ফেরিতে প্রায় ১১ ঘণ্টা দূরে।
২১ জুন থেকে সোমবার ভোর পর্যন্ত এই অঞ্চলে ১,৫৮২টি ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। ভূকম্পবিদরা এটিকে 'ভূমিকম্পের ঝাঁক' বলে অভিহিত করেছেন।
বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, তারা বিশ্বাস করেন পানির নিচের আগ্নেয়গিরি এবং ম্যাগমার প্রবাহে কারণে এমনটা হতে পারে। তারা বলেছেন, তারা জানেন না যে, কতক্ষণ এভাবে কম্পন অব্যাহত থাকবে।
মেয়র কুবো সাংবাদিকদের বলেন, ভবিষ্যতে কী ঘটতে পারে, তা আমরা আগে থেকে বলতে পারি না। কখন এটি শেষ হবে, তা আমরা এখনো দেখতে পাচ্ছি না।
জাপান আবহাওয়া সংস্থা অনুসারে, ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে এই অঞ্চলে একই রকম তীব্র ভূমিকম্পের ঘটনা ঘটেছিল। সে সময় ৩৪৬টি ভূমিকম্প রেকর্ড করা হয়েছিল।
জাপান বিশ্বের সবচেয়ে ভূমিকম্পপ্রবণ দেশগুলোর মধ্যে একটি, যা প্রশান্ত মহাসাগরের পশ্চিম প্রান্তে 'রিং অফ ফায়ার' বরাবর চারটি প্রধান টেকটোনিক প্লেটের ওপরে অবস্থিত।
প্রায় ১২৫ মিলিয়ন মানুষের আবাসস্থল এই দ্বীপপুঞ্জে সাধারণত প্রতি বছর প্রায় ১,৫০০টি ভূমিকম্প অনুভূত হয়। এই সংখ্যা বিশ্বের প্রায় ১৮ শতাংশ ভূমিকম্পের সমান।
এদিকে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক ভূমিকম্পের আশঙ্কায় জাপানে আসা বন্ধ করে দিয়েছেন কিছু বিদেশি পর্যটক।

