গাজায় ধ্বংসস্তূপে চাপা পড়ে আছে মরদেহ: আনাদোলু

আপডেট : ০৮ জুলাই ২০২৫, ১১:১২

গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি বাহিনীর চলমান সামরিক অভিযানে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে প্রাণ হারিয়েছেন আরও ১০৫ জন ফিলিস্তিনি। একই সময়ে আহত হয়েছেন কমপক্ষে ৩৫৬ জন। তাতে গত ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে চলমান আগ্রাসনে ফিলিস্তিনে মোট প্রাণহানি ছাড়িয়েছে ৫৭ হাজার ৫০০-এর ঘর, আহত হয়েছেন ১ লাখ ৩৬ হাজারেরও বেশি মানুষ।

সোমবার (৮ জুলাই) তুরস্কভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আনাদোলু এজেন্সি এবং গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে এ তথ্য উঠে আসে।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, ইসরায়েলি বাহিনীর গোলাবর্ষণ ও বিমান হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৭ হাজার ৫২৩ জনে। আহত হয়েছেন ১ লাখ ৩৬ হাজার ৬১৭ জন।

বিবৃতিতে আরও জানানো হয়, 'গত ২৪ ঘণ্টায় গাজার বিভিন্ন হাসপাতাল থেকে ১০৫ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। শহরের বিভিন্ন এলাকা এখনো ধ্বংসস্তূপে পরিণত। বহু মরদেহ ধ্বংসস্তূপের নিচে ও রাস্তায় পড়ে থাকলেও উদ্ধারকর্মীরা নিরাপত্তার অভাবে সেখানে পৌঁছাতে পারছেন না।'

এর আগে চলতি বছরের জানুয়ারিতে সীমিত যুদ্ধবিরতি ও বন্দি বিনিময় চুক্তি কার্যকর হলেও তা ভেঙে দিয়ে গত ১৮ মার্চ থেকে গাজায় নতুন করে সামরিক অভিযান শুরু করে ইসরায়েল। ওই সময় থেকে নতুন এই ধাপে এখন পর্যন্ত আরও ৬ হাজার ৯৬৪ জন নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন অন্তত ২৪ হাজার ৫৭৬ জন।

ইসরায়েলি বাহিনীর লাগাতার হামলায় পুরো গাজা ভূখণ্ডে মানবিক বিপর্যয় নেমে এসেছে। ধ্বংস হয়ে গেছে বসতবাড়ি, হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও শরণার্থী শিবির।
স্থানীয় সূত্র বলছে, চিকিৎসা, খাদ্য এবং পানীয় জলের সংকট চরমে পৌঁছেছে।

ইসরায়েল দাবি করে, তারা হামাসের অবকাঠামো ধ্বংস এবং বন্দি ইসরায়েলি নাগরিকদের উদ্ধারের লক্ষ্যে অভিযান পরিচালনা করছে। ইসরায়েলি গণমাধ্যম বলছে, হামাসের প্রায় ৯৫ শতাংশ শীর্ষ নেতাকে ‘নিষ্ক্রিয়’ করা হয়েছে।

তবে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা এবং জাতিসংঘের বিভিন্ন অঙ্গসংগঠন বলছে, বেসামরিক মানুষের ওপর এই মাত্রার আক্রমণ আন্তর্জাতিক মানবিক আইন লঙ্ঘনের শামিল।

ইত্তেফাক/টিএইচ