ভারতের কেন্দ্রীয় বন্দর, জাহাজ চলাচল ও জলপথ মন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়াল জানিয়েছেন, ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও মিয়ানমারের মধ্যে যোগাযোগ বাড়াতে নেওয়া কৌশলগত ‘কালাদান মাল্টিমোডাল ট্রানজিট ট্রান্সপোর্ট প্রকল্প’ ২০২৭ সালের মধ্যে সম্পূর্ণভাবে চালু হয়ে যাবে। খবর ইকোনমিক টাইমস ও এনডিটিভি।
সোমবার (৭ জুলাই) আসামের গোয়াহাটিতে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় সোনোয়াল এ কথা জানান।
তিনি জানান, এই প্রকল্পের জলপথ উন্নয়নে শিপিং মন্ত্রণালয় ১,০০০ কোটি রুপি বিনিয়োগ করেছে। ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে জলপথ ও সমুদ্র পথে সংযুক্ত করতে সরকার প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগে একাধিক উদ্যোগ নিচ্ছে। এই খাতে কাজের জন্য উত্তর-পূর্বাঞ্চলের প্রায় ৫০ হাজার যুবককে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।
সোনোয়াল বলেন, পরিবহন ছাড়া পরিবর্তন সম্ভব নয়। কালাদান প্রকল্প ভারত-মিয়ানমার মৈত্রী চুক্তির ফল। এটি একটি কৌশলগত পদক্ষেপ যা ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও মিয়ানমারের মধ্যে সংযোগ উন্নত করতে সহায়ক হবে। প্রকল্পটি ২০২৭ সালের মধ্যে সম্পূর্ণভাবে চালু হয়ে যাবে।
সোনোয়াল বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দূরদর্শী নেতৃত্বে উত্তর-পূর্ব ভারত এখন ভারত নির্মাণ পরিকল্পনার কেন্দ্রবিন্দুতে। মোদির রূপান্তরমূলক অ্যাক্ট ইস্ট নীতির ফলে একসময় অবরুদ্ধ এই অঞ্চল এখন আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথে সরাসরি ও সংক্ষিপ্ত প্রবেশাধিকার পেতে চলেছে। মিয়ানমারে সিতওয়ে বন্দর দ্রুত নির্মিত হয়েছে, যা এই অঙ্গীকারের বড় প্রমাণ।
তিনি বলেন, সিতওয়ে বন্দর এবং কালাদান প্রকল্প ত্রিপুরার জন্যও বিশেষভাবে লাভজনক হবে, কারণ এতে পরিবহন সময় এবং ব্যবস্থাপনা খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাবে। এই অঞ্চল শুধু উত্তর-পূর্ব ভারত নয়, বাংলাদেশ, ভুটান, নেপাল ও মিয়ানমারকেও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সঙ্গে সংযুক্ত করে নতুন বাণিজ্য সম্ভাবনার দ্বার খুলে দেবে।’
সোনোয়াল বলেন, কালাদান নদী ১৫৯ কিলোমিটার পর্যন্ত মিয়ানমারের পালেতওয়া পর্যন্ত বিস্তৃত, এরপর মিজোরাম পর্যন্ত ১১০ কিলোমিটার সড়কপথ রয়েছে। এই সড়ক বর্তমানে নির্মাণাধীন এবং ২০২৭ সালের মধ্যে তা সম্পন্ন হবে।
সোনোয়াল বলেন, ‘বন্দরের সক্ষমতা ও কার্গো হ্যান্ডেলিংয়ে ঐতিহাসিক বৃদ্ধি থেকে শুরু করে পরিবেশবান্ধব শিপিং, ক্রুজ টুরিজম ও যুবসমাজের জন্য দক্ষতা উন্নয়ন পর্যন্ত—এই সাফল্যগুলো প্রমাণ করে যে ভারতকে একটি বৈশ্বিক সামুদ্রিক শক্তি হিসেবে গড়ে তোলা এবং উপকূল ও নদীভিত্তিক অঞ্চলগুলোর সার্বিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতেই মোদি সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’
