‘বুম বুম তেল আবিব’ গানে ক্ষুব্ধ কেন ইসরায়েল?

আপডেট : ০৮ জুলাই ২০২৫, ১৮:৫০

ইহুদিবাদী ইসরায়েলি শাসক গোষ্ঠীর অপরাধ এবং তেল আবিবে বোমা হামলার বিষয়ে ইরানের প্রতিশোধমূলক হামলার পর ‘বুম বুম তেল আবিব’ নামে একটি সঙ্গীত সামাজিক নেটওয়ার্কগুলোতে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম পার্সটুডের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইহুদিবাদী ইসরায়েলি শাসক গোষ্ঠীর অপরাধ এবং তেল আবিবে বোমা হামলার বিষয়ে ইরানের প্রতিক্রিয়ার পর ইন্টারনেটে প্রকাশিত ‘বুম বুম তেল আবিব’ গানটি প্রকাশের ২৪ ঘন্টারও কম সময়ের মধ্যে ৫৭৭ মিলিয়ন ভিউ পেয়েছে। তবে বর্তমানে ইউটিউবে অরিজিনালে পোস্টটি না পাওয়া গেলেও বিভিন্ন চ্যানেলে এটির কপি ভার্সন রয়েছে। 

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, এই গানের কথা দর্শকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। গানের বিষয়বস্তুতে ইহুদিবাদী শাসক গোষ্ঠীর প্রতারণামূলক আচরণ এবং বেসামরিক নাগরিকদের হত্যা এবং নিরীহ মানুষের বিরুদ্ধে বিশেষ করে গাজায় ইসরাইলি অপরাধের পশুসুলভ প্রকৃতির উপর জোর দেয়া হয়েছে।

গানের গীতিকার বিশ্বাস করেন, এটি ইসরাইল যে রক্তপাত চালিয়েছে তার কর্মের ফলাফল এবং এখন তার ‘মন্দ কাজের’ ফলাফল দেখার সময়। গানের কথাগুলোও মর্মস্পর্শি- ‘ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রগুলো তোমার পুরো আকাশকে আলোকিত করুক এবং তুমি চিৎকার করছ যে তুমি একজন শিকার এবং তুমি বলছ যে তুমি এই যুদ্ধ শুরু করেননি; যখন পুরো বিশ্ব তোমার মিথ্যার স্বাক্ষী।’

সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যবহারকারীরা এই গানটি নিয়ে বিভিন্ন প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। একজন লিখেছেন, ‘বুম বুম তেল আবিব’ একটি শক্তিশালী বার্তা এবং একটি আন্তরিক কণ্ঠস্বর বহন করে যা অন্যায়ের মুখে থাকা মানুষের অনুভূতি প্রতিফলিত করে, এর কথাগুলো চিত্তাকর্ষক এবং এর পরিবেশনা আবেগ এবং আশায় পূর্ণ।

এই প্রসঙ্গে, গানটির গায়ক ও সংগীত প্রযোজক লুকাস গেজ এক্স-এ লিখেছেন, ‘ইহুদিবাদীরা এই গানটি প্রায় পুরো ইন্টারনেট থেকে মুছে ফেলেছে। আমেরিকান-ইতালীয় নাগরিক গেজ সোশ্যাল মিডিয়ায় তার ব্যক্তিগত পৃষ্ঠায় জোর দিয়ে বলেছেন যে মার্কিনিরা চায় না, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে নামুক।’ 

তিনি আরো জোর দিয়ে বলেছেন, ‘ইরান কখনো আমাদের প্রেসিডেন্টদের হত্যা করেনি। ইরান কখনো আমাদের কর্মীদের ধ্বংস করেনি। ইরান কখনো আমাদের প্রযুক্তি চীনের কাছে বিক্রি করেনি। ইরান কখনো আমাদের ভবন উড়িয়ে দেয়নি। ইরান কখনোই আমাদের যুদ্ধে নামার জন্য প্রতারণা করেনি কিন্তু ইসরায়েল এই কাজগুলো করেছে।’

বলা দরকার, ইহুদিবাদী সরকারের বর্ণবাদী ও অমানবিক নীতির বিরুদ্ধে নির্মিত সাংস্কৃতিক কাজ অপসারণের পদক্ষেপ নেওয়ার ঘটনা এই প্রথম নয়। এই পদক্ষেপগুলোর মধ্যে রয়েছে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে গাজার প্রতি ইসরায়েলের নীতির প্রতিবাদকারী কিছু লেখককে বয়কট করা এবং নাটি আঙ্গোবানের ‘ফ্রম রিভার টু সি’ এর মতো কিছু সাহিত্য কর্ম অপসারণ করা। একটি বইয়ের দোকানে এই বই বিক্রির অপরাধে ইহুদিবাদী সরকারের বাহিনী ওই দোকানে হামলা চালায় এবং এর মালিককে গ্রেপ্তার করে।

ইত্তেফাক/এসএ