খুলনা মহানগর পুলিশের (কেএমপি) কমিশনার মো. জুলফিকার আলী হায়দারের অপসারণ দাবিতে চলমান আন্দোলনের মধ্যে নিজ অবস্থান পরিষ্কার করেছেন তিনি। বলেছেন, “আমাকে আনফ্রেন্ড করবেন না। আমি আপনাদের শত্রু নই। আমি খুলনাবাসীর জন্য কাজ করতে চাই।”
মঙ্গলবার (৯ জুলাই) কেএমপি সদর দপ্তরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন কমিশনার। সেখানে তার পদত্যাগের দাবির বিষয়টি ঘুরে ফিরে উঠে আসে।
কমিশনার বলেন, ‘আমাদের দিয়ে কাজ আদায় করে নেন, কিন্তু দূরে সরিয়ে দেবেন না। আমি চলে গেলে আরেকজন আসবে, তাকেও তো দায়িত্ব পালন করতে হবে। খুলনায় ৩ হাজার ১০০ পুলিশ সদস্য রয়েছেন। তাঁদের মনোবল ভেঙে গেলে সেটি কারো জন্যই ভালো হবে না।’
পদত্যাগ বা সরিয়ে দেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমি কোনো তদবির করে এখানে আসিনি। আবার থাকার জন্যও তদবির করছি না। পেশাদারি মনোভাব নিয়ে কাজ করতে চাই।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমার হৃদয়টা যদি খুলে দেখাতে পারতাম, বুঝতেন আমি খুলনাবাসীর জন্যই কাজ করতে চাই।’
সংবাদ সম্মেলনে কমিশনার জানান, গত ১০ মাসে কেএমপি এলাকায় ২৬টি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। এর মধ্যে ২২টি মামলার রহস্য উদ্ঘাটন হয়েছে এবং আসামিরা গ্রেপ্তার হয়েছে। বাকি দুটি তদন্তাধীন, তবে অগ্রগতি আছে। হত্যাকাণ্ডগুলোর কারণ বিশ্লেষণ করে তিনি জানান: ইজিবাইক চুরি বা ছিনতাই: ৫টি, মাদক ও আধিপত্য বিস্তার: ৭টি, পরকীয়া: ৫টি, পারিবারিক কলহ: ৩টি, অন্যান্য: ৫টি, চুরি সংক্রান্ত: ১টি হত্যাকাণ্ড ঘটে।
মাদক ইস্যুতে তিনি বলেন, ‘মাদকের কারণে তরুণ প্রজন্ম ধ্বংস হচ্ছে। মাদক বিক্রেতা, বাহক ও সরবরাহকারীদের ওপর নজরদারি অব্যাহত আছে।’ সম্প্রতি হরিণটানা থানা এলাকা থেকে ১৯ হাজার ইয়াবা উদ্ধার হয়েছে বলেও জানান তিনি।
তিনি অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “স্কুল-কলেজ পড়ুয়া সন্তানদের সন্ধ্যায় পড়ার টেবিলে ফিরিয়ে আনুন। যেন অযথা বাইরে না ঘোরাফেরা করে।”
খুলনায় প্রতিদিন ২০–২২ হাজার ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক চলাচল করে, যার ৬০ শতাংশ বাইরের এলাকা থেকে আসে। চালকদের ট্রাফিক আইনের জ্ঞান না থাকায় যানজট বাড়ছে। এখন পর্যন্ত সাড়ে ৬ হাজার চালককে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। বাকি চালকদের তিন–চার মাসের মধ্যে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।
তিনি বলেন, ‘রাজশাহীর মতো খুলনাতেও ইজিবাইক দুই রঙে ভাগ করে এক দিন পরপর চালানোর ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে।’ এ বিষয়ে কেসিসির সঙ্গে আলোচনা চলছে।
সংবাদ সম্মেলনে কেএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) মোহাম্মদ রাশিদুল ইসলাম খানসহ বেশ কয়েকজন উপকমিশনার উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, প্রসঙ্গত, গত ২৫ জুন থেকে কেএমপি কমিশনার মো. জুলফিকার আলী হায়দারের অপসারণ দাবিতে স্থানীয়ভাবে আন্দোলন চলছে। বিষয়টি নিয়ে সরকার বা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া এখনো পাওয়া যায়নি।
