নোয়াখালীতে জনদুর্ভোগের নতুন নাম ‘ভেসাল জাল’, নিষ্ক্রিয় প্রশাসন

আপডেট : ০৯ জুলাই ২০২৫, ০৯:০৮

নোয়াখালীতে টানা দুদিনের ভারী বর্ষণে আবারও ডুবে গেছে জেলা শহরসহ বিভিন্ন উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ এলাকা। সড়ক, বাজার, বাসাবাড়ি—সবখানেই জমে গেছে হাঁটু থেকে কোমরসমান পানি। জনজীবনে দেখা দিয়েছে চরম দুর্ভোগ। তবে বর্ষণের পাশাপাশি জলাবদ্ধতার বড় কারণ হিসেবে উঠে এসেছে খাল-বিল ও ড্রেনের মুখে বসানো অবৈধ ‘ভেসাল জাল’। এসব জালের কারণে বৃষ্টির পানি স্বাভাবিকভাবে নিষ্কাশন হচ্ছে না বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

জানা গেছে, জেলার ৯টি উপজেলার মধ্যে মাইজদী, চৌমুহনী, সোনাপুর, বেগমগঞ্জ, চাটখিল, সোনাইমুড়ী, সুবর্ণচর, কবিরহাটসহ বেশ কয়েকটি এলাকায় খাল-নালার মুখে অবৈধভাবে ভেসাল জাল স্থাপন করা হয়েছে। এর ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই পানি আটকে গিয়ে সৃষ্টি হচ্ছে দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা।

জেলা শহরের বাসিন্দা মোতাহার হোসেন বলেন, “টানা বৃষ্টিতে কাঁচা ও আধাপাকা সড়ক পানিতে ডুবে আছে। রিকশা, অটোরিকশা, মোটরসাইকেলসহ ছোট যানবাহন চলাচল প্রায় বন্ধ। পথচারীরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। অনেক দোকানেও পানি ঢুকে গেছে, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে মালামাল।”

সুবর্ণচর উপজেলার চর বৈশাখী এলাকার বাসিন্দা মো. আরিফ সবুজ বলেন, “গত বছরের ভয়াবহ বন্যার সময়েও ভেসাল জালের কারণে পানি নামতে পারেনি। খালের মুখে অবৈধভাবে এসব জাল বসানো হয়েছে, কেউ তোয়াক্কা করছে না। প্রশাসন দেখেও কোনো ব্যবস্থা নেয় না।”

বেগমগঞ্জের ব্যবসায়ী আনোয়ার হোসেন বলেন, “আমার দোকানে পানি উঠে প্রায় লাখ টাকার পণ্য নষ্ট হয়েছে। অথচ আমাদের এলাকায় অনেক বড় বড় খাল রয়েছে। এসব খালের মুখে জাল বসিয়ে পানি চলাচলের পথ বন্ধ করে রাখা হচ্ছে। এতে জলাবদ্ধতা আরও বেড়ে যাচ্ছে।”

জেলা শহরের আরেক বাসিন্দা নুর হোসেন মনু বলেন, “খাল-বিল হলো পানি নিষ্কাশনের প্রাকৃতিক পথ। সেগুলো বন্ধ করে দিলে যে জলাবদ্ধতা হবে, সেটা তো জানা কথা। এখনই ভেসাল জাল না সরালে ভবিষ্যতে অবস্থা আরও ভয়াবহ হবে।”

এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মহিউদ্দিন বলেন, “খাল-ড্রেনের মুখে পাটা ও জাল বসিয়ে মাছ ধরার অভিযোগ পেয়েছি। এসব কর্মকাণ্ড জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করে—এগুলোকে গণউপদ্রব হিসেবে ধরা হবে। প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নিতে আমরা প্রস্তুত।” তিনি আরও জানান, ইতোমধ্যে প্রশাসন, পানি উন্নয়ন বোর্ড ও স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলো সম্মিলিতভাবে কাজ করছে। পাশাপাশি তিনি সবাইকে সহযোগিতা ও সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।

স্থানীয়রা বলছেন, শুধু প্রশাসনিক উদ্যোগ নয়, ভেসাল জালের বিরুদ্ধে সামাজিকভাবে প্রতিরোধ গড়েও তোলা জরুরি। তা না হলে প্রতি বছরই এই দুর্ভোগ পোহাতে হবে সাধারণ মানুষকে।

ইত্তেফাক/এএইচপি