বিএনপির তিন মাসের আহ্বায়ক কমিটিতে ৬ বছর পার

আপডেট : ০৯ জুলাই ২০২৫, ০৯:৪৫

রাজশাহী জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি তিন মাসের মেয়াদে গঠিত হলেও ছয় বছর পেরিয়ে গেলেও পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠিত হয়নি। এর প্রতিবাদে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নেতা-কর্মীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে ব্যাপক ক্ষোভ ও হতাশা।

২০১৯ সালের ৫ জুলাই আবু সাঈদ চাঁদকে আহ্বায়ক এবং বাবু বিশ্বনাথ সরকারকে সদস্যসচিব করে গঠিত হয় ৪১ সদস্যের এই আহ্বায়ক কমিটি। গত ৫ জুলাই এই কমিটির গঠনের ছয় বছর পূর্তিতে জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম মোস্তফা মামুন ফেসবুকে লেখেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ। রাজশাহী জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি ৬ বছর পূর্ণ হলো!’ তার এই পোস্টে নেতাকর্মীরা সমালোচনার ঝড় তুলেছেন।

দলীয় সূত্র বলছে, এ দীর্ঘ সময়ে জেলার অধীনে থাকা ২৩টি সাংগঠনিক ইউনিটের অধিকাংশের সম্মেলনও হয়নি। স্থানীয় নেতাদের নিষ্ক্রিয়তা, কোন্দল, লবিং, আত্মীয়প্রীতি ও ব্যক্তিস্বার্থকে দায়ী করছেন নেতাকর্মীরা। অনেকের মতে, বর্তমান কমিটি দলকে ঐক্যবদ্ধ রাখতে ব্যর্থ হয়েছে এবং অঙ্গসংগঠনগুলোতেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।

এই পরিস্থিতিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন অনেক নেতা-কর্মী। জেলা যুবদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক জুলফিকার রহমান ভুট্টু ফেসবুকে লেখেন, ‘আজ ৫ জুলাই। ২০১৯ সালের এই দিনে রাজশাহী জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি ঢাকা থেকে আরোপ করা হয়েছিল। মেয়াদ ছিল মাত্র ৩ মাস, পেরিয়ে গেছে ৭২ মাস।’

তিনি আরও লেখেন, ‘এই সময়ে জেলার ২৩টি ইউনিটের একটিতেও সম্মেলন হয়নি। দলীয় গ্রুপিং-লবিং, স্বজনপ্রীতি ও কোন্দল ইউনিয়ন থেকে ওয়ার্ড পর্যায়ে বিস্তার লাভ করেছে। বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনগুলো কার্যত কোমায় চলে গেছে।’

এই পোস্টে মন্তব্য করেন বিড়ালদহ এলাকার বিএনপি সমর্থক জাহিদ নয়ন। তিনি লিখেছেন, ‘রাজশাহী জেলা বিএনপি মৃতপ্রায় বৃক্ষ, যার শিকড়ে পানি নেই, পত্রপল্লবে প্রাণ নেই। ৬ বছরের নিষ্ক্রিয়তা রাজনৈতিক আত্মহত্যা।’

জেলা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক আবু সায়েম মো. রাজিব লিখেছেন, ‘যিনি ২০০০ সালে নেত্রীর গাড়ির সামনে শুয়ে পড়ে ব্ল্যাকমেল করেছিলেন, ঠিক তেমনিভাবে আমাদেরও শুয়ে পড়া ছাড়া তো আর কোনো উপায় দেখছি না।’

মেহেদি হাসান প্রিন্স নামে একজন মন্তব্য করেন, ‘রাজশাহী জেলা বিএনপিকে আইসিইউতে পাঠিয়েছে এই কমিটি। অশিক্ষা, স্বেচ্ছাচারিতা আর স্বজনপ্রীতি আজ এর রন্ধ্রে রন্ধ্রে।’

বাগমারা উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব অধ্যাপক কামাল হোসেন বলেন, ‘আমার উপজেলায় বিভেদ দূর করে ঐক্য ফিরিয়েছিলাম। কিন্তু জেলার নেতারা ৫ আগস্টের পর বিভাজনে প্রত্যক্ষভাবে উসকানি দিয়েছেন।’

তিনি বলেন, ‘কর্মসূচিতে অংশ নিয়েও তারা বিভেদের আগুনে ঘি ঢেলেছেন। অথচ দলকে সুসংগঠিত করার দিকে তাদের কোনো মনোযোগ নেই। তারা সম্ভাব্য প্রার্থীদের পেছনে ঘুরছেন।’

দলীয় হাইকমান্ডের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, রাজশাহী জেলা বিএনপিকে চাঙা করতে দ্রুত পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন এবং সম্মেলনের ব্যবস্থা নিতে হবে। তা না হলে দল আরও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবু সাঈদ চাঁদ। তিনি বলেন, ‘কমিটির সময়সীমা তিন মাস নির্ধারিত ছিল না। বিষয়টি দলের হাইকমান্ড দেখবে।’

তিনি দাবি করেন, ‘জেলার অধীনে ইতিমধ্যে সিংহভাগ ইউনিটের কমিটি গঠন করা হয়েছে। অনেকেই ফেসবুকে বিভ্রান্তিমূলক পোস্ট দিচ্ছেন।’

আবু সাঈদ চাঁদ আরও বলেন, ‘বর্তমান জেলা নেতৃত্বের বিরুদ্ধে যাঁরা অভিযোগ আনছেন, তারা স্বৈরাচার হাসিনার সময় মাঠে ছিলেন না, ঘরের মধ্যে ছিলেন।’

ইত্তেফাক/এনএন