পায়ে ফুটলো পেরেক, ডাক্তার দিলেন জলাতঙ্কের ভ্যাকসিন

আপডেট : ০৯ জুলাই ২০২৫, ১২:০৪

চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে এক কিশোরের পায়ে পেরেক ঢোকার পর হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গিয়ে ভুল ইনজেকশন পুশ করার ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে তার পরিবারে। টিটেনাসের পরিবর্তে তাকে দেওয়া হয়েছে জলাতঙ্ক প্রতিরোধী ভ্যাকসিন, যা কুকুর বা বিড়ালের কামড়ের পর দেওয়া হয়।

ঘটনাটি ঘটে গত ৩০ জুন মিরসরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। তবে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে মঙ্গলবার (৮ জুলাই)। ১৪ বছর বয়সী শাফায়েত হোসেন নাঈম মিরসরাইয়ের রাফিয়া মোটরস অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপে কাজ করে। কাজ করার সময় তার ডান পায়ের তালুতে একটি পুরনো জংধরা পেরেক ঢুকে যায়। পরে সে সহকর্মী ইকবাল হোসেন সাব্বিরকে নিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যায়।

সেখানে তাকে দেওয়া হয় টিটেনাস টক্সয়েড (এটিএস) ভ্যাকসিনের পাশাপাশি ইনসেপটা ফার্মার তৈরি র‌্যাবিস-আইজি নামক জলাতঙ্কের প্রতিষেধক, যা মূলত কুকুর, বিড়াল, শিয়াল বা বাদুড়ের কামড়ের ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়। এই অনভিপ্রেত ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর নাঈমের পরিবারে আতঙ্ক দেখা দেয়।

নাঈম দক্ষিণ সোনাপাহাড় গ্রামের বাসিন্দা ও সালাহ উদ্দিনের ছেলে। ভ্যাকসিন নেওয়ার পর তার শরীরে জ্বর দেখা দিলে পরিবার বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ে। পরে তার বাবা সালাহ উদ্দিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মুহাম্মদ মিনহাজ উদ্দিনের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি জানান, জরুরি বিভাগের ইন্টার্ন মেডিকেল অ্যাসিসট্যান্ট নাজমুল হাসান ভুলবশত ওই ভ্যাকসিন পুশ করেছেন এবং তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে।

ভুক্তভোগী কিশোর নাঈম বলেন, ‘আমি গাড়ির গ্যারেজে কাজ করি। কাজ করার সময় পায়ে পেরেক ঢোকে। হাসপাতালে গিয়ে আমাকে দুটি ইনজেকশন দেওয়া হয়। পরে ফার্মেসিতে গেলে ওষুধ বিক্রেতা জানতে চান, আমাকে কি কুকুর কামড়েছে? তখন আমি বুঝতে পারি ভুল ইনজেকশন দেওয়া হয়েছে। যারা এই ভুল করেছে, আমি তাদের বিচার চাই।’

নাঈমের বাবা সালাহ উদ্দিন বলেন, ‘আমার ছেলের শরীরে যে ইনজেকশন প্রয়োজন ছিল না, সেটা পুশ করা হয়েছে। এতে আজ না হোক, কাল ক্ষতি হতে পারে। তাই উন্নত চিকিৎসা করাতে চাই। তার সব চিকিৎসার খরচ সংশ্লিষ্টদেরই বহন করতে হবে।’

উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মিনহাজ উদ্দিন বলেন, ‘এই ঘটনাটি খুবই দুঃখজনক। আমার ১৪ বছরের কর্মজীবনে এমন ঘটনা ঘটেনি। জরুরি বিভাগে ১৭টি পদের বিপরীতে মাত্র ৫ জন কর্মরত। স্বল্পসংখ্যক জনবলের কারণে কিছু প্রশিক্ষিত স্বেচ্ছাসেবক ইন্টার্ন হিসেবে কাজ করছেন। তাদেরই একজন নাজমুল হাসান ভুল করে র‌্যাবিস ভ্যাকসিন দিয়েছেন। তবে এটি প্রতিরক্ষামূলক ভ্যাকসিন হওয়ায় শারীরিক ক্ষতির আশঙ্কা নেই। তবুও এমন ভুল হওয়া অনুচিত। তাই সঙ্গে সঙ্গে তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে।’

ইত্তেফাক/এনএন