‘পাকিস্তানের হামলা নয়, যান্ত্রিক ত্রুটিতে ভূপাতিত রাফাল’,– দাবি ফরাসি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের

আপডেট : ০৯ জুলাই ২০২৫, ১৩:২৬

পাকিস্তানের সঙ্গে সাম্প্রতিক সংঘাতের সময় ভারত একটি রাফাল যুদ্ধবিমান হারিয়েছে—এমন দাবি ঘিরে শুরু হয়েছে বিতর্ক। পাকিস্তান দাবি করেছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষায় রাফালসহ ছয়টি ভারতীয় যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হয়েছে। তবে ভারত এই দাবিকে বারবার অস্বীকার করে আসছে।

তবে এবার ফরাসি যুদ্ধবিমান নির্মাতা প্রতিষ্ঠান দাসো অ্যাভিয়েশন–এর চেয়ারম্যান ও সিইও এরিক ত্রাপিয়ের জানিয়েছেন, ভারত একটি রাফাল হারালেও সেটি যুদ্ধ বা শত্রুপক্ষের হামলার কারণে নয়, বরং উচ্চমাত্রার প্রযুক্তিগত ত্রুটির ফলেই দুর্ঘটনাটি ঘটে।

ফরাসি ওয়েবসাইট এভিওঁ দে শ্যাসি–এর প্রতিবেদনে বলা হয়, ১২ হাজার মিটারেরও বেশি উচ্চতায় একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রশিক্ষণ মিশনের সময় এই রাফালটি ধ্বংস হয়। সে সময় কোনো শত্রু রাডার বা আগ্রাসনের সিগনাল পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন এরিক ত্রাপিয়ের।

ভারত এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে এই ঘটনার কথা স্বীকার করেনি। তবে গত মাসে সিঙ্গাপুরে ‘শাংরি-লা ডায়ালগে’ ভারতের চিফ অব ডিফেন্স স্টাফ (সিডিএস) জেনারেল অনিল চৌহান বলেন, ‘অপারেশন সিন্দুর’-এ কিছু ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে ঠিকই, তবে পাকিস্তানের দাবি—রাফালসহ ছয়টি যুদ্ধবিমান গুলি করে নামানো হয়েছে—তা ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা’।

একই দিনে রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জেনারেল চৌহান আরও জানান, ‘আমরা কৌশল বদলে ৭, ৮ এবং বিশেষভাবে ১০ মে তারিখে পাকিস্তানের অভ্যন্তরে সুনির্দিষ্ট বিমানঘাঁটিতে সফল হামলা চালিয়েছি।’

এছাড়া ইন্দোনেশিয়ায় অনুষ্ঠিত এক সেমিনারে ভারতের প্রতিরক্ষা অ্যাটাশে ক্যাপ্টেন শিব কুমার বলেন, কিছু যুদ্ধবিমান ভারত হারিয়েছে, তবে তা রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের সীমাবদ্ধতার কারণে—যেখানে আক্রমণের লক্ষ্য ছিল শুধু জঙ্গি ঘাঁটি, সামরিক স্থাপনা নয়।

এর আগে পাকিস্তানের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছিল, তারা তিনটি রাফাল ভূপাতিত করেছে। সেই দাবিও ‘ভুল ও ভিত্তিহীন’ বলে একাধিকবার প্রত্যাখ্যান করেন দাসো সিইও এরিক ত্রাপিয়ের।

তিনি বলেন, রাফালের স্পেকট্রা ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম কিংবা ফ্রেন্ড-অর-ফো চ্যানেল—কোনোটিই শত্রুপক্ষের উপস্থিতি শনাক্ত করেনি। ফলে এটিকে যুদ্ধক্ষেত্রের ক্ষতি বলা যাবে না।

এরিক ত্রাপিয়ের আরও দাবি করেন, পাকিস্তানের এই প্রচার রাফালের আন্তর্জাতিক বাজার ক্ষতিগ্রস্ত করার জন্য পরিচালিত ‘দেয়ালিয়া প্রচারণা’র অংশ। তিনি জানান, কলম্বিয়া, মালয়েশিয়া, সার্বিয়াসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে রাফালের প্রতিযোগিতা চলছে এবং এ সময় এমন বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে।

ফরাসি সামরিক ও গোয়েন্দা সূত্র বলছে, চীন এই প্রচারে সক্রিয় ভূমিকা রাখছে। অ্যাসোশিয়েটেড প্রেস–এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়, চীনের প্রতিরক্ষা সংযুক্তিরা বিশেষ করে ইন্দোনেশিয়ায় রাফাল কিনতে নিরুৎসাহিত করে নিজেদের ফাইটার জেট বেছে নিতে চাপ সৃষ্টি করছে।

ইত্তেফাক/এনএন