মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, সিরিয়ার ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে অনেক দেশ অনুরোধ করেছিল, যার মধ্যে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুও ছিলেন। সোমবার (৭ জুলাই) হোয়াইট হাউসে নেতানিয়াহুর সঙ্গে নৈশভোজের আগে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।
ট্রাম্প জানান, তাকে আগেই জানানো হয়েছিল, 'সিরিয়ার নতুন নেতা খুব কঠিন পটভূমি থেকে উঠে এসেছেন।'
ট্রাম্প বলেন, 'আমি বলেছিলাম, ঠিক আছে, এতে অবাক হওয়ার কিছু নেই। মধ্যপ্রাচ্য এমনিতেই কঠিন একটি অঞ্চল। কিন্তু আমি তার (আল-শারা) সঙ্গে দেখা করে মুগ্ধ হয়েছিলাম। আমরা নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছি, কারণ আমরা তাদের একটি সুযোগ দিতে চেয়েছি।'
এ সময় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সিরিয়ার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট আল-শারার সরকারের দ্রুত ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন করা হলে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু বলেন, ইরান ও এর মিত্র শক্তিগুলোর দুর্বলতা অঞ্চলজুড়ে নতুন সুযোগ সৃষ্টি করেছে। দামেস্কের নতুন সরকারের সঙ্গে একটি সংলাপের চ্যানেল খুলে দেওয়ার জন্য তিনি ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানান।
নেতানিয়াহু ইসরায়েল ও সিরিয়ার মধ্যে সরাসরি সংলাপ হচ্ছে কিনা, সে বিষয়ে কিছু বলতে অস্বীকৃতি জানান। এখন পর্যন্ত কেবল পরোক্ষ সংযোগের বিষয়টিই প্রকাশ্যে নিশ্চিত করা হয়েছে।
ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদেওন সা'আর ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরাইল কাটজ এর আগে সিরিয়ার প্রেসিডেন্টকে 'স্যুট পরা সন্ত্রাসী' বলে অভিহিত করেছিলেন। তবে গত কয়েক সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের সিরিয়া-নীতি উষ্ণ হওয়ার পর, তারা ওই কঠোর ভাষা পরিত্যাগ করেছেন।
সন্ত্রাসী গোষ্ঠী আল-কায়েদার সাবেক নেতা জোলানিকে (আল-সারা) ধরিয়ে দিতে ২০১৮ সালে ১০ মিলিয়ন ডলার পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। গত বছরের ডিসেম্বরে পশ্চিমা মদদে বাশার আল-আসাদ সরকার পতনের পর যুক্তরাষ্ট্র সিরিয়ার ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নেয়। এরই ধারাবাহিকতায় ওয়াশিংটন নতুন সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করতে একাধিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
ট্রাম্প প্রশাসন সিরিয়ার সশস্ত্র গোষ্ঠী হায়াত তাহরির আল-শাম (এইচটিএ)-এর ওপর থেকে বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠনের তকমাও প্রত্যাহার করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, এই সন্ত্রাসী তকমা প্রত্যাহার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের একটি স্থিতিশীল, ঐক্যবদ্ধ ও শান্তিপূর্ণ সিরিয়ার স্বপ্ন পূরণের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
এই সিদ্ধান্ত দুই সপ্তাহ আগে গৃহীত হয়। আসাদের শাসনামলে যুক্তরাষ্ট্র যে বহু নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল, তার অনেকগুলোই এখন শিথিল বা বাতিল করা হয়েছে।
