ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির বিরুদ্ধে ইসরায়েলি-মার্কিন আগ্রাসী পদক্ষেপ তেহরানকে বহিরাগত হুমকির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ হিসেবে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির কথা বিবেচনা করতে উৎসাহিত করতে পারে। তার মতে, আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার পরিদর্শনের অনুপস্থিতি এই কাজটিকে সহজতর করে তোলে।
বুধবার (৯ জুলাই) রাশিয়ান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের 'MGIMO' বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক স্টাডিজ ইনস্টিটিউটের ইরান-বিষয়ক বিশেষজ্ঞ আদলান মারগোয়েভ বার্তা সংস্থা তাসকে এ কথা বলেন।
বিশেষজ্ঞ উল্লেখ করেন, 'ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হুমকি এবং পারমাণবিক অবকাঠামোর ওপর হামলা তেহরানকে জাতীয় নিরাপত্তার উপায় হিসেবে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সম্ভাবনা বিবেচনা করার দিকে ঠেলে দিচ্ছে।'
মারগোয়েভ বলেন, 'সক্রিয় যুদ্ধ অভিযান বন্ধ করার পরও ইসলামী প্রজাতন্ত্রের নিরাপত্তার জন্য হুমকি দূর হয়নি: যে কোনো মুহূর্তে যুদ্ধ পুনরায় শুরু হতে পারে।'
ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সম্ভাবনা নিয়ে রুশ বিশেষজ্ঞ বলেন, 'পারমাণবিক অস্ত্রাগার তৈরির রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত থাকলেও বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর বাধার মুখে এটি অবাধে বাস্তবায়ন করা অত্যন্ত কঠিন হবে। যদিও আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থা (IAEA) পরিদর্শনের অনুপস্থিতি এই কাজটিকে সহজতর করে তোলে। কিন্তু ইসরায়েলি এবং আমেরিকান বিশেষ পরিষেবাগুলোর ক্ষমতা পারমাণবিক কর্মসূচির সামরিক উপাদানের গোপন উন্নয়নের ক্ষমতাকে সন্দেহের মধ্যে ফেলে দেয়। এটি উত্তেজনার একটি নতুন তরঙ্গ শুরু করতে পারে, আরও বড় মাত্রার।'
বিশেষজ্ঞ উল্লেখ করেন, 'এই ইস্যুর 'মতবাদ-নৈতিক' দিকটিও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। পারমাণবিক অস্ত্র থাকলেও, ইরান ফিলিস্তিনি লোকজনকে বিপদে ফেলে এগুলো ব্যবহার করতে সক্ষম হবে না। তেহরান ফিলিস্তিনকে ঐতিহ্যগতভাবে সমর্থন করে। একটি ফতোয়া - সর্বোচ্চ নেতা (খামেনির) একটি ধর্মীয় ফরমান - ২০০৩ সাল থেকে ইরানে কার্যকর রয়েছে এবং এটি গণবিধ্বংসী অস্ত্রের উন্নয়ন, উৎপাদন, সংরক্ষণ এবং ব্যবহার নিষিদ্ধ করে। কারণ বেসামরিক নাগরিকদের মধ্যে অনিবার্য এবং নির্বিচারে ক্ষয়ক্ষতি ইসলামী শিক্ষার নির্ধারিত যুদ্ধের নিয়মের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।'
মারগোয়েভ বলেন, 'এমন পরিস্থিতিতে, যদি তেহরান পারমাণবিক অস্ত্রের অধিকারী হয়, তাহলে ইসরায়েল তার বিরুদ্ধে সরাসরি বৃহৎ আকারের আগ্রাসন থেকে বিরত থাকতে পারে। কিন্তু ইরানের ভূখণ্ডে ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাবে, কারণ তারা জানে, তাদের (ইসরায়েলি-মার্কিন) কর্মকাণ্ড প্রতিশোধমূলক পারমাণবিক হামলার কারণ হবে না। ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে ঘিরে সংকট শুরু হওয়ার পর থেকে ২২ বছর ধরে তেহরান তার দৃঢ়তা প্রমাণ করে এসেছে। তবে, যদি সংঘাতের রাজনৈতিক সমাধানের শেষ সুযোগটি পরিত্যাগ করা হয় এবং সামরিক পরিস্থিতিতে ফিরে আসা হয়, তাহলে ইরানের সর্বোচ্চ নেতার কাছে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির বিরুদ্ধে কোনো যুক্তিসঙ্গত যুক্তি অবশিষ্ট থাকবে না।'
