মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কিয়েভে আরও প্রতিরক্ষামূলক অস্ত্র পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দেওয়ার কয়েক ঘণ্টা পরই গত রাতভর রেকর্ড ৭২৮টি ড্রোন দিয়ে ইউক্রেনে হামলা চালিয়েছে রাশিয়া।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে শত শত ড্রোন ছাড়াও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে। এই হামলা যুদ্ধের চতুর্থ বছরে ইউক্রেনীয় বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ব্যাপক চাপের মুখে ফেলেছে।
ইউক্রেনীয় বিমান বাহিনীর মুখপাত্র ইউরি ইহনাত ইউক্রেনীয় টেলিভিশনে বলেছেন করেছে, প্রায় সবগুলো ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে। তবে রাশিয়ার ছোড়া ছয়টি হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যে কয়েকটি 'অনির্দিষ্ট' ক্ষতি করেছে।
বুধবার (৯ জুলাই) রোমে মার্কিন রাষ্ট্রদূত কিথ কেলগের সঙ্গে দেখা করে ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, এই হামলা রাশিয়ার যুদ্ধের অর্থায়নের জন্য ব্যবহৃত আয়ের উৎসগুলোর ওপর 'কঠোর নিষেধাজ্ঞা' আরোপের প্রয়োজনীয়তা দেখিয়েছে, রাশিয়ার তেল কেনার ওপরও।
ট্রাম্প গতকাল মঙ্গলবার বলেছেন, তিনি এমন একটি বিলকে সমর্থন করার কথা বিবেচনা করছেন, যা রাশিয়ার ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করবে। এর মধ্যে রাশিয়ার তেল, গ্যাস, ইউরেনিয়াম এবং অন্যান্য রপ্তানি পণ্য কেনা দেশগুলোর ওপর ৫০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে।
আলাদাভাবে ইউরোপও মস্কোর বিরুদ্ধে একটি নতুন নিষেধাজ্ঞা প্যাকেজ নিয়ে কাজ করছে।
'কয়েকদিনের মধ্যে' ইউক্রেন যুদ্ধের অবসানের প্রতিশ্রুতি দিয়ে এই বছর ক্ষমতায় ফিরে আসা ট্রাম্প কিয়েভের প্রতি বাইডেন প্রশাসনের দৃঢ় সমর্থন থেকে সরে এসে মস্কোর প্রতি আরও সমঝোতার সুর তুলেছিলেন। তবে ট্রাম্পের প্রস্তাবিত নিঃশর্ত যুদ্ধবিরতি এখনো কেউ মেনে নেয়নি বা এ ধারণা গ্রহণ করেনি।
মার্কিন প্রেসিডেন্টের আরও প্রতিরক্ষামূলক অস্ত্র সরবরাহের প্রতিশ্রুতি ইউক্রেনে কিছু গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র সরবরাহ বন্ধ করার জন্য পেন্টাগনের কয়েকদিন আগে করা সিদ্ধান্তের ঠিক উল্টো।
বুধবারের হামলার কিছুক্ষণ পরেই জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্জ বলেন, যুদ্ধ সমাধানের কূটনৈতিক উপায় শেষ হয়ে গেছে। তিনি কিয়েভকে সমর্থন অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার করেছেন।
ট্রাম্পের নতুন প্রতিশ্রুতি অনুসরণ করে মঙ্গলবার জেলেনস্কি বলেছেন, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সাথে যোগাযোগ সম্প্রসারণের নির্দেশ দিয়েছেন, যাতে গুরুত্বপূর্ণ সামরিক সরবরাহ, বিশেষ করে বিমান প্রতিরক্ষা সরবরাহ নিশ্চিত করা যায়।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে, এ অবস্থায় কিয়েভ এবং অন্যান্য প্রধান শহরের বাসিন্দারা মেট্রো স্টেশনসহ বিমান হামলা আশ্রয়কেন্দ্রে রাত কাটাচ্ছেন।
রাশিয়ার গত রাতের হামলার একটি অংশ ছিল ন্যাটো সদস্য পোল্যান্ডের কাছাকাছি একটি পশ্চিমাঞ্চলকে লক্ষ্য করে। জেলেনস্কি বলেন, পোল্যান্ড থেকে প্রায় ২০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর লুটস্ক ছিল প্রধান লক্ষ্যবস্তু, ইউক্রেনের আরও ১০টি প্রদেশের তালিকায় ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে।
পোল্যান্ডের সামরিক বাহিনীও জানিয়েছে, বিমান নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য পোলিশ এবং মিত্র বিমানগুলোকে সক্রিয় করা হয়েছে।
