শিরোপা ধরে রাখার মিশনেই নামবে বাংলাদেশ

আপডেট : ১০ জুলাই ২০২৫, ১৬:০৩

প্রথমবারের মতো এএফসি নারী এশিয়ান কাপের মূল পর্বে জায়গা করে নিয়ে ইতিহাস গড়েছে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল। আফঈদা খাতুনের নেতৃত্বে এই অভাবনীয় সাফল্যে ফুটবলপ্রেমী দেশ জুড়ে বইছে আনন্দের জোয়ার। তবে সময় নেই উদযাপনে ডুবে থাকার। এই গৌরবের রেশ না কাটতেই ফের নতুন মিশনে নামছে লাল-সবুজ কন্যারা। এবার আফঈদার নেতৃত্বেই বাংলাদেশের বয়সভিত্তিক দল মাঠে নামছে সাফ অনুর্ধ্ব-২০ নারী চ্যাম্পিয়নশিপে, যেখানে তাদের লক্ষ্য আরো একটি শিরোপা জয়। 

আগামীকাল থেকে রাজধানীর কিংস অ্যারেনায় বসতে যাচ্ছে নারী সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপ। ভারতীয় নারী দল বয়সভিত্তিক টুর্নামেন্টে নিয়মিত অংশগ্রহণ করে। তবে এবার খেলবে না ভারত। ফলে এখন স্বাগতিক বাংলাদেশ, নেপাল, শ্রীলঙ্কা ও ভুটান চার দেশ নিয়েই হবে টুর্নামেন্ট। চার দল একে অন্যের সঙ্গে দুইবার করে মুখোমুখি হওয়ার পর শীর্ষ পয়েন্টধারী হবে চ্যাম্পিয়ন।

প্রতি বছর নারীদের বয়সভিত্তিক সাফ একেক ক্যাটাগরিতে হয়। সবশেষ অনূর্ধ্ব-২০ সাফ হয়েছিল ২০২৩ সালে। সেটিও বসেছিল ঢাকায়। চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল বাংলাদেশ। এক বছর পর ফের এই ক্যাটাগরিতে সাফ। তাই বলা চলে এটা লাল-সবুজের জন্য শিরোপা ধরে রাখার মিশন। গতকাল এই টুর্নামেন্টের জন্য শক্তিশালী ২৩ সদস্যের স্কোয়াড ঘোষণা করেছে বাফুফে। যেখানে মিয়ানমারে ইতিহাস গড়া স্কোয়াডের রয়েছেন ৯ জন সদস্য। আগামীকাল এই টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী ম্যাচেই মাঠে নামবে বাংলাদেশ, প্রতিপক্ষ শ্রীলঙ্কা। 

গতকাল বাফুফে ভবনে স্কোয়াড ঘোষণার পর গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে আসন্ন এই টুর্নামেন্টে নিজেদের লক্ষ্য নিয়ে কোচ পিটার বাটলার বলেন, 'এবার লিগ ফরম্যাটে প্রতিযোগিতা হওয়াটা একটু অস্বাভাবিক। পরিষ্কার করে বলতে গেলে সাফ বা যে কোনো টুর্নামেন্টেই গ্রুপ পর্ব, কোয়ার্টার ফাইনাল, সেমিফাইনাল, ফাইনাল-এই ফরম্যাটে হয়ে থাকে। কিন্তু এবার সেটা নেই তবুও, যেমন আছে, তেমনভাবেই মেনে নিতে হচ্ছে। টুর্নামেন্টকে আমি খেলোয়াড়দের পরিচর্যার একটি সুযোগ হিসেবে দেখছি। আমার কাছে পারফরম্যান্সই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ আমি জানি, ভালো পারফরম্যান্স করলে ফলাফল এমনিতেই আসবে। এই মানসিকতা নিয়েই আমরা মিয়ানমার, জর্ডান বা ইন্দোনেশিয়ায় খেলতে গিয়েছিলাম। আমার দর্শন সব সময়ই একই, ফলাফল নয়, আগে পারফরম্যান্স। কারণ আপনি যদি উলটোভাবে ভাবেন, তাহলে অনেক সময় অতিরিক্ত প্রতিশ্রুতি দিয়ে কম ফল দেন। আমার ক্যারিয়ারে শুরু থেকেই আমি ভালো পারফরম্যান্স, পেশাদারিত্ব, পরিশ্রম আর টিম ওয়ার্ককে গুরুত্ব দিয়েছি। এবারও তার ব্যতিক্রম নয়।'

জাতীয় দলের অধিনায়ক আফঈদা খন্দকার। গেল সপ্তাহেই শক্তিশালী মিয়ানমার, তুর্কমেনিস্তান, বাহরাইনের বিপক্ষে খেলে এসেছেন। এবার তার নেতৃত্বে খেলবে অনূর্ধ্ব-২০ দল। অর্থাৎ বয়স কম হওয়ায় তিনি খেলবেন বয়সভিত্তিক দলেও। এ নিয়ে অধিনায়ক বলেন, 'মাঠে ছোটবড় বলে কোনো কিছু নেই। মাঠে প্রতিপক্ষের বিপক্ষে মনোযোগ দিয়েই খেলতে হয়। সেখানে অনূর্ধ্ব-২০ বলে কিছু নেই। আমরা আমাদের শতভাগ দিয়েই খেলব। ভালো খেলব, জিতব।'

মিয়ানমার থেকে এসেছে তিন দিন আগে। তার পরই এই দলে যোগ দেওয়া স্কোয়াডের বাকিদের সঙ্গে অনুশীলনের সময় খুব একটা পায়নি। তবে তাতে সমস্যা নেই, কারণ অনুশীলন পর্বটা আগেই সেরে গিয়েছিলেন তারা। তাই আফঈদা বেশ আশাবাদী এই টুর্নামেন্ট নিয়েও। বলেন, 'আমরা অনূর্ধ্ব-২০ আর জাতীয় দল এক সঙ্গে অনুশীলন করেছি মিয়ানমার যাওয়ার আগে। আর আমরা যখন সেখানে খেলতে গিয়েছি দলের বাকিরা এখানে নিজেদের অনুশীলন সচল রেখেছিল। তো কমবেশি আমরা একসঙ্গে খেলেছি, আমাদের কম্বিনেশনও ভালো। আমাদের লক্ষ্য থাকবে প্রতিটি ম্যাচ জেতার। যেহেতু পয়েন্টে যারা এগিয়ে থাকবে তারাই চ্যাম্পিয়ন, আমাদের চেষ্টা থাকবে যাতে আমরা এগিয়ে থাকতে পারি।'

অনূর্ধ্ব-২০ নারী সাফের বাংলাদেশ স্কোয়াড

গোলরক্ষক: স্বর্ণ রানী, মিলি আক্তার, ফেরদৌসি আক্ত।

ডিফেন্ডার: জয়নব বিবি, আফঈদা খন্দকার (অধিনায়ক), সুরমা জান্নাত, কানোম আক্তার, রুমা আক্তার।

মিডফিল্ডার: কানন রানী বাহাদুর, স্বপ্না রানী, ঐশী খাতুন, অয়ন্ত বালা মাহাতো, রুপা আক্তার, বর্না খাতুন, মুনকি আক্তার, সিনহা জাহান শিখা, শান্তি মার্ডি, নাদিয়া আক্তার জুতি।

ফরোয়ার্ড: নবীরণ খাতুন, শ্রীমতি তৃষ্ণা রানী, পূজা দাস, উমেলা মারমা, মোসাম্মৎ সাগরিকা।

ইত্তেফাক/জেডএইচ