প্রধান বিচারপতি নিয়োগে দুটি বিষয়ে ঐকমত্য হয়েছে: আলী রীয়াজ

আপডেট : ১১ জুলাই ২০২৫, ০২:৫৬

প্রধান বিচারপতি নিয়োগ ও জরুরি অবস্থার বিধান সংশোধনের বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ দুটি বিষয়ে ঐকমত্য গঠিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে অনুষ্ঠিত জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর দ্বিতীয় পর্যায়ের ১১তম দিনের সংলাপ শেষে তিনি সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।

প্রধান বিচারপতি নিয়োগে পরিবর্তনের ইঙ্গিত

অধ্যাপক আলী রীয়াজ জানান, সংবিধানের ৯৫ অনুচ্ছেদ সংশোধনের মাধ্যমে প্রধান বিচারপতি নিয়োগের প্রচলিত পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনার বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মতৈক্য সৃষ্টি হয়েছে। অধিকাংশ দল চায়, রাষ্ট্রপতি যেন আপিল বিভাগের বিচারপতিদের মধ্য থেকে জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে প্রধান বিচারপতি নিয়োগ দেন। কিছু দল আবার আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠ দুই বিচারপতির মধ্য থেকে একজনকে বেছে নেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে।

“রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা সীমিত রেখে প্রধান বিচারপতি নিয়োগের একটি নির্ধারিত কাঠামো তৈরির বিষয়ে আলোচনা চলছে,” বলেন আলী রীয়াজ। কমিশন রাজনৈতিক দলগুলোকে বিষয়টি আরও গভীরভাবে পর্যালোচনা করে সুনির্দিষ্ট মতামত দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা নিয়ে অগ্রগতি

তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে “উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি” হয়েছে বলেও জানান আলী রীয়াজ। তিনি বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনে আইনসভার মাধ্যমে প্রধান নিয়োগের একটি প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এ ব্যবস্থাটি যেন ভবিষ্যতে আর কোনো বিতর্কের জন্ম না দেয়, সে বিষয়ে দলগুলো ঐকমত্য পোষণ করেছে।

জরুরি অবস্থার বিধানেও সংস্কারের প্রস্তাব

সংবিধানের ১৪১ অনুচ্ছেদ সংশোধনের বিষয়েও একমত হয়েছে রাজনৈতিক দলগুলো। “জরুরি অবস্থা যেন কোনো রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত না হয়”—এ বিষয়ে সবাই একমত। দলগুলোর মতামতের ভিত্তিতে ‘অভ্যন্তরীণ গোলযোগ’ শব্দটি বাদ দিয়ে এর পরিবর্তে ‘সাংবিধানিক সংকট’, ‘মহামারি’ বা ‘প্রাকৃতিক দুর্যোগ’ ইত্যাদি বাস্তব কারণ যুক্ত করার বিষয়ে আলোচনা চলছে।

এছাড়া জরুরি অবস্থার ঘোষণায় শুধু প্রধানমন্ত্রীর নয়, বরং পূর্ণ মন্ত্রিসভার অনুমোদনের প্রস্তাব করা হয়েছে। কেউ কেউ সংসদের নির্ধারিত কমিটির অনুমোদনের কথাও বলেছে।

জুলাই সনদ চূড়ান্তে আশাবাদ

অধ্যাপক আলী রীয়াজ আশা প্রকাশ করেন, “জুলাই মাসের মধ্যেই আলোচনার ভিত্তিতে একটি ঐকমত্যভিত্তিক ‘জুলাই সনদ’ প্রস্তুত করা সম্ভব হবে।” তিনি বলেন, বিষয়গুলো তাড়াহুড়োর নয়, শব্দচয়ন থেকে শুরু করে কাঠামোগত দিকগুলোও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, আজকের আলোচনায় বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), ইসলামী আন্দোলন, গণসংহতি আন্দোলনসহ মোট ৩০টি রাজনৈতিক দল অংশগ্রহণ করে।

ইত্তেফাক/এএম