গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ ও সাদুল্লাপুর উপজেলায় কচু তোলা ও আম পাড়া নিয়ে পৃথক দুটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।
শুক্রবার (১১ জুলাই) রাতে সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বেলকা ইউনিয়নের তালুক বেলকা (মাঝবাড়ি) গ্রামে এবং একই দিন বিকেলে সাদুল্লাপুর উপজেলার ফরিদপুর ইউনিয়নের মীরপুর গ্রামে এ ঘটনা দু’টি ঘটে।
নিহতরা হলেন- সুন্দরগঞ্জের তালুক বেলকা (মাঝবাড়ি) গ্রামের মৃত জাফর আলীর ছেলে জিয়ারুল ইসলাম (৪৪) ও সাদুল্লাপুর মীরপুর গ্রামের আফজাল হোসেন ওরফে দুলা মাস্টারের ছেলে ফুয়াদ হোসেন (৪৫)।
সুন্দরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল হাকিম আজাদ জানান, বাড়ির গাছ থেকে আম পাড়াকে কেন্দ্র করে শুক্রবার রাতে ইব্রাহিম আলী তার মা নছিরন বেওয়াকে গালিগালাজ করেন। এ ঘটনায় তার ভাই জিয়ারুল ইসলাম প্রতিবাদ করলে দুজনের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে ইব্রাহিমের ছেলে সাইফুল ইসলাম এসে চাচা জিয়ারুলের বুকে ধারালো ছুরি দিয়ে আঘাত করে। এতে ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যান। এ সময় তাকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে তার স্ত্রী আছমা বেগম ও ছেলে ইসমাইল হোসেনকেও ছুরিকাঘাত করে সাইফুল। গুরুতর আহত অবস্থায় তাদেরকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় থানায় হত্যা মামলা দায়ের হয়েছে। ঘাতককে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে।
অন্যদিকে সাদুল্লাপুর থানার ওসি তাজউদ্দিন খন্দকার জানান, মীরপুর গ্রামের নুরুল ইসলাম ওরফে নুরুর ছেলে মামুন মিয়া ও মেয়ে মুক্তা বেগম। তাদের চাচাতো ভাই ফুয়াদ মিয়া। মুক্তা বেগম তার বাবা নুরুল ইসলামের কাছ থেকে সম্প্রতি ১৭ শতক জমি বন্ধক ও ১৮ শতক জমি বর্গা নেন। এই জমিতে কচু চাষ করেন।
শুক্রবার বিকেলে মুক্তা তার স্বামী শাহারুল ইসলামকে সঙ্গে নিয়ে ওই ক্ষেত থেকে কচু তুলছিলেন। এ সময় মামুন ওই কচু তুলতে বাঁধা দেন। এনিয়ে তাদের মধ্যে বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। এক পর্যায়ে মামুন তাকে মারপিট করতে শুরু করলে ফুয়াদ ও তার স্ত্রী সান্তনা এই বিবাদ থামাতে এগিয়ে আসে। এ সময় মামুন তার হাতে থাকা কাঁচি দিয়ে ফুয়াদের বুকে আঘাত করে। গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পথে ফুয়াদ মারা যান।
তিনি আরও জানান, অভিযুক্ত মামুন মিয়াকে আটক করা হয়েছে। থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের হয়েছে।
