সিনারের ইতিহাস নাকি আলকারাজের হ্যাটট্রিক

আপডেট : ১৩ জুলাই ২০২৫, ১৫:৫৩

উইম্বলডনের আজ পুরুষ এককের ফাইনাল যেন সাক্ষী হতে চলেছে টেনিস ইতিহাসের এক নতুন অধ্যায়ের। বছর ঘুরে আবারও মুখোমুখি হচ্ছেন নতুন প্রজন্মের দুই তারকা কার্লোস আলকারাজ ও ইয়ানিক সিনার। মাত্র ৩৬ দিন আগেই প্যারিসে, ফ্রেঞ্চ ওপেনের ফাইনালে দুই জন উপহার দিয়েছিলেন পাঁচ ঘণ্টারও বেশি সময়ের এক মহাকাব্যিক লড়াই। 

সেদিন ম্যাচ পয়েন্ট থেকে বেঁচে ফিরে অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনে শিরোপা জিতেছিলেন আলকারাজ। সেই রোমাঞ্চকর ম্যাচের স্মৃতি এখনো তাজা, তার মধ্যেই আজ উইম্বলডনের পুরুষ এককের ফাইনালে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে সেই একই দুই মুখ, তবে ভেন্যু ও আবহ একেবারেই ভিন্ন। কিন্তু এই ম্যাচটিও যে পরতে পরতে থাকবে রোমাঞ্চ তা বলাই যায়।

রোববারের উইম্বলডনের এই ফাইনাল কেবল রোমাঞ্চ বা প্রতিদ্বন্দ্বিতার গল্প নয় এটি হতে পারে ইতিহাসের পাতায় নতুন একটি নাম যুক্ত হওয়ার মুহূর্তও। কারণ ইয়ানিক সিনার আজকের ফাইনাল জিততে পারলে গড়বেন অনন্য এক রেকর্ড, উইম্বলডনের ইতিহাসে প্রথম ইতালিয়ান পুরুষ খেলোয়াড় হিসেবে জিতবেন একক শিরোপা। ১৪৮ বছরের পুরোনো এই প্রতিযোগিতায় ইতালির শিরোপা-খরা এখনও অটুট। 

এর আগে মাত্র একবার, ২০২১ সালে, মাত্তেও বেরেত্তিনি পুরুষ এককের ফাইনালে পৌঁছেছিলেন, কিন্তু তিনি হেরে গিয়েছিলেন নোভাক জোকোভিচের কাছে। সেই দুঃখের স্মৃতি এখনো তরতাজা ইতালির ক্রীড়াঙ্গনে। এবার সিনার সেই অপূর্ণতা ঘোচানোর দারুণ এক সুযোগ পেয়েছেন। 

কিন্তু সমস্যা হলো সিনারের সামনে এই ইতিহাস গড়ার হাতছানির সামনে বাধা হয়ে দাঁড়িয়ে আছেন কার্লোস আলকারাজ। স্প্যানিশ এই তরুণ যেন টেনিস দুনিয়ার নতুন রাজপুত্র। বয়স মাত্র ২২, কিন্তু এর মধ্যেই টেনিসের দুনিয়ায় করছেন রাজত্ব। আজ যদি ফাইনাল জেতেন, উইম্বলডনে হবে তার টানা তৃতীয় শিরোপা যা কি না তাকে বসিয়ে দেবে বিগ থ্রির পরবর্তী শীর্ষে। 

গেল জুন মাসে এর আগে এই দুই তরুণ মুখোমুখি হয়েছিল ফ্রেঞ্চ ওপেনের ফাইনালে। ঐ ম্যাচটি ছিল টেনিস ইতিহাসের অন্যতম সেরা ফাইনাল। আলকারাজ ম্যাচ পয়েন্ট থেকে ফিরে এসে জিতেছিলেন ৬-৩, ২-৬, ৫-৭, ৬-১, ৬-৪ সেটে। ম্যাচটি এতটাই তীব্র ছিল যে আলকারাজ স্বীকার করেছেন, এখনো সেটির পুরোটা দেখার সাহস হয়নি তার, শুধু কিছু হাইলাইটসই দেখেছেন। গতকাল তিনি এ প্রসঙ্গে বলেন, 'ওটা ছিল আমার জীবনের সেরা ম্যাচ। জানি, ইয়ানিক আমাকে এবারও সীমানায় ঠেলে দেবে।' 

অন্যদিকে সিনার জানেন, ইতিহাস গড়তে হলে তাকে পার করতে হবে সময়ের সবচেয়ে পরিপূর্ণ খেলোয়াড়কে। ফাইনাল ম্যাচের আগে বলেন, 'শেষ ম্যাচটা যেভাবে গেছে, এমন আরেকটা ম্যাচ হবে কি না নিশ্চিত নই, তবে সেরাটা দিতে আমরা দুজনই প্রস্তুত। এটা তো শুধু আরেকটা ফাইনাল নয়-এটা
আলাদাভাবে ইতিহাসের অংশ হয়ে যাবে।'

সিনার এই বছরই হয়েছেন বিশ্ব টেনিসের নতুন নাম্বার ওয়ান। তিনিই প্রথম ইতালিয়ান যিনি পুরুষ এককে র‍্যাংকিংয়ের শীর্ষে উঠেছেন। ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর থেকে এই পর্যন্ত ১২৭টি ম্যাচ খেলে তিনি হেরেছেন মাত্র ১১টিতে তার মধ্যে পাঁচবার হেরেছেন আলকারাজের বিপক্ষে! এই মুহূর্তে পুরুষদের টেনিসে সিনার ও আলকারাজ ছাড়া কেউ যেন দৃশ্যপটে নেই। গত ছয়টি গ্র্যান্ড স্ল্যাম তারা দুজনই ভাগ করে নিয়েছেন। 

এমনকি ১৯৭৮ সালের পর এই প্রথমবার বছরের প্রথম তিনটি গ্র্যান্ডস্ল্যামের ফাইনালে মুখোমুখি হয়েছে শীর্ষ দুই বাছাই। এমন দাপট নিয়েও সিনার নিজেকে তুলনা করতে চান না রজার ফেদেরার, রাফায়েল নাদাল কিংবা নোভাক জোকোভিচদের সঙ্গে। 

এখন প্রশ্ন একটাই আজ ইতিহাস লেখা হবে কার নামে? সিনার কি প্রথম ইতালিয়ান হিসেবে উইম্বলডন জিতে চিরস্মরণীয় হবেন? নাকি আলকারাজ শিরোপা ধরে রেখে টেনিস ইতিহাসে নিজের রাজত্বের পিলার আরও মজবুত করবেন? উত্তরের জন্য অপেক্ষা আর কিছু ঘণ্টার। তবে যার হাতেই উঠুক শিরোপা, এই ফাইনালটিও যে ইতিহাস হয়ে থাকবে তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।

ইত্তেফাক/জেডএইচ