স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চার বছরেও চালু হয়নি ইনডোর সেবা, চরম ভোগান্তিতে সালথাবাসী

আপডেট : ১৩ জুলাই ২০২৫, ১৯:৫০

ফরিদপুরের সালথা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চালু হয়েছে প্রায় সাড়ে চার বছর আগে। ২০২০ সালের ২৪ মার্চ ৫০ শয্যার এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কার্যক্রম শুরু হলেও এখনও চালু হয়নি ইনডোর (ভর্তিকৃত রোগী) চিকিৎসাসেবা। ফলে ন্যূনতম চিকিৎসার জন্যও রোগীদের ছুটতে হচ্ছে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ অন্যান্য দূরবর্তী হাসপাতালে।

যন্ত্রপাতি থাকলেও নেই প্রয়োজনীয় জনবল
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিতে এক্স-রে মেশিনসহ প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি থাকলেও নেই প্রয়োজনীয় চিকিৎসক ও সহায়ক কর্মী। বিশেষ করে শিশু, গাইনী ও সার্জিক্যাল বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পদ না থাকায় ইনডোর সেবা চালু করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে ইনডোর ওয়ার্ডে থাকা যাবতীয় সরঞ্জামাদি পড়ে রয়েছে অচাল অবস্থায়।

নেই ওয়ার্ডবয় বা পরিচ্ছন্নতাকর্মী
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্র জানায়, এখানে বর্তমানে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সহ মাত্র ৪ জন মেডিকেল অফিসার কর্মরত আছেন। নার্স রয়েছেন ২১ জন, কিন্তু কোনো আয়া, পরিচ্ছন্নতা কর্মী বা ওয়ার্ডবয় নেই। জনবল সংকটের কারণে ইনডোর ওয়ার্ড সম্পূর্ণ বন্ধ থাকায় কার্যত এ হাসপাতালটি একটি আউটডোর ক্লিনিকেই সীমাবদ্ধ।

প্রতিদিন আউটডোরে ২০০-২৫০ জন রোগী
এ বিষয়ে সালথা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. শাহিনুল ইসলাম বলেন, আমরা প্রতিদিন ২০০ থেকে ২৫০ জন রোগীকে আউটডোরে চিকিৎসা সেবা দিয়ে থাকি। এনসিডি কর্নারের মাধ্যমে ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপের রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এক্স-রে ও অন্যান্য পরীক্ষার সুযোগও রয়েছে। তবে ইনডোর চালুর জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক চিকিৎসক ও জনবল দরকার। বিষয়টি আমরা বারবার উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। আশা করছি শিগগিরই এ সমস্যার সমাধান হবে।

জনগণের দাবি: দ্রুত ব্যবস্থা নিক সরকার
স্থানীয়দের অভিযোগ, ৫০ শয্যার হাসপাতাল থাকার পরও ইনডোর সেবা না থাকায় এর পূর্ণ সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছে জনগণ। অনেকেই সামান্য অসুস্থতা নিয়েও শহরে গিয়ে চিকিৎসা নিতে বাধ্য হচ্ছেন, যা সময় ও অর্থ দুটোতেই চাপ তৈরি করছে।

সালথাবাসীর প্রত্যাশা, সরকার অগ্রাধিকার ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ দিয়ে ইনডোর সেবা চালু করবে এবং স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিকে একটি পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসা কেন্দ্রে রূপান্তর করবে।

ইত্তেফাক/এএইচপি