একটার পর একটা ম্যাচ, দুই দিন বা তারও কম সময়ের মধ্যে নতুন মাঠ, নতুন প্রতিপক্ষের বিপক্ষে নামতে হয় ক্লাব ফুটবলারদের, কিন্তু বিশ্রাম? যেন বিলাসিতা! পেশাদার ফুটবলে ম্যাচের পর ম্যাচ খেলে নিঃশেষ হয়ে পড়া এই সৈনিকদের পক্ষে দীর্ঘদিন ধরে সরব হয়ে উঠেছিল খেলোয়াড় ইউনিয়নগুলো। এ সময় বিশ্বব্যাপী পেশাদার ফুটবলারদের অতিরিক্ত ম্যাচ খেলার চাপ ও শারীরিক-মানসিক ক্ষয় নিয়ে শুরু হয় সমালোচনার ঝড়।
এবার তা থামাতে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে ফিফা। সংগঠনটি জানিয়েছে, প্রতিটি ম্যাচের মধ্যে অন্তত ৭২ ঘণ্টা বিশ্রাম এবং মৌসুম শেষে কমপক্ষে ২১ দিনের ছুটি নিশ্চিত করতে খেলোয়াড় ইউনিয়নগুলোর সঙ্গে একমত হয়েছে তারা।
গতকাল নিউ ইয়র্কে আয়োজিত বৈঠকে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোসহ শীর্ষ কর্মকর্তারা বিভিন্ন দেশের খেলোয়াড় সংগঠনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনায় বসেন। তারপর ফিফার বিবৃতিতে জানানো হয়, 'খেলোয়াড়দের স্বাস্থ্যকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে ৭২ ঘণ্টার ম্যাচ বিরতি ও ২১ দিনের মৌসুম-শেষ ছুটির বিষয়ে সম্মতি হয়েছে। এটি সংশ্লিষ্ট ক্লাব ও খেলোয়াড়ের ম্যাচ ক্যালেন্ডার অনুযায়ী বাস্তবায়ন করতে হবে।'
ক্লাব ফুটবলের ব্যস্ত মৌসুম শেষ হওয়ার পর পরই ৩২ দল নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে আয়োজিত ক্লাব বিশ্বকাপ বসে। যা নিয়ে বিভিন্ন কোচ, সাবেক খেলোয়াড় এবং ক্রীড়াসংগঠকদের ক্ষোভ ছিল। ইউরোপের গ্রীষ্মকালীন বিরতিতে আয়োজিত এ টুর্নামেন্টকে 'শারীরিক হত্যাযজ্ঞ' বলে অভিহিত করে ফ্রান্সের পেশাদার খেলোয়াড় ইউনিয়ন। ফিফা সেসব সমালোচনার পরিপ্রেক্ষিতেই বিশ্রামসংক্রান্ত এই নতুন মানদণ্ড ঘোষণা করলো।
নতুন নিয়ম কার্যকর হলে ইউরোপীয় লিগ সূচিতে বড় পরিবর্তন আসতে পারে। ইউরোপা লিগে বৃহস্পতিবার খেলা দলগুলোকে ঘরোয়া ম্যাচ খেলাতে হবে পরের সোমবার, যা জার্মান বুন্দেসলিগার জন্য বিরাট ধাক্কা। কারণ, সমর্থকদের দাবিতে ২০২১ সালেই সোমবারের ম্যাচ বাতিল করেছে জার্মান লিগ কর্তৃপক্ষ। ফিফা জানিয়েছে, খেলোয়াড়দের জন্য প্রতি সপ্তাহে অন্তত এক দিন পূর্ণ বিশ্রামের সুযোগও নিশ্চিত করতে হবে। সেই সঙ্গে ভ্রমণের চাপ, জলবায়ু ও প্রতিযোগিতার ধরন বিবেচনায় রেখে ভবিষ্যতের টুর্নামেন্ট সূচি ঠিক করা হবে বলেও জানিয়েছে সংস্থাটি।

