মানিকগঞ্জের সিংগাইর পৌর বাজার থেকে বায়রা সড়ক—বর্তমানে যেন জনভোগান্তির এক স্থায়ী নাম। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই ব্যস্ততম সড়কটি চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। রাস্তায় বড় বড় গর্ত, খানাখন্দ, জলাবদ্ধতা ও ধুলাবালির কারণে প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা। এতে বিপাকে পড়েছেন ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থী, কৃষক, রোগী ও সাধারণ পথচারীরা।
স্থানীয়রা জানান, এই সড়কে প্রতিদিনই ট্রাক, প্রাইভেটকার, সিএনজি, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, হ্যালো বাইক, মোটরসাইকেলসহ অসংখ্য যানবাহন চলাচল করে। দীর্ঘদিন ধরে রাস্তাটির কার্পেটিং উঠে গিয়ে এখন শুধুই খানাখন্দ আর ধুলার রাজত্ব। এতে একদিকে যেমন যানবাহনের যন্ত্রাংশ অকেজো হয়ে পড়ছে, তেমনি বাড়তি সময় ও ব্যয় হচ্ছে সাধারণ মানুষের।
বিশেষ করে ঐতিহ্যবাহী বায়রা পশুর হাট ও বাজারের ব্যবসা চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। যানবাহনের সংকট, অতিরিক্ত ভাড়া ও দুর্ঘটনার আশঙ্কায় ক্রেতা-বিক্রেতার উপস্থিতি কমে গেছে। ভাঙা রাস্তায় যাত্রীদের গুণতে হচ্ছে দ্বিগুণ ভাড়া, এমনকি বিকল্প রুটে কয়েক কিলোমিটার ঘুরে যেতে হচ্ছে উপজেলা সদরে।
বায়রা উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মো. নুরুল আমীন ও ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুল হালিম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে রাস্তাটি এতটাই খারাপ যে দূরবর্তী এলাকার শিক্ষার্থীরা এ স্কুলে আসতে চায় না। ফলে অনেকেই অন্য প্রতিষ্ঠানে চলে যাচ্ছে। বায়রা কলেজের শিক্ষার্থীরাও একই দুর্ভোগের শিকার।
বায়রা বাজারের ব্যবসায়ীরা জানান, সর্বশেষ ১০ বছর আগে এই সড়কে কার্পেটিং কাজ হয়েছিল। এরপর থেকে আর কোনো সংস্কার হয়নি। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)-এর নিকট বারবার জানালেও কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কামরুল হাসান সোহাগ বলেন, আমি নিজেও রাস্তাটির নাজুক অবস্থা পরিদর্শন করেছি। এমনকি আমার অফিসাররাও ওই ইউনিয়নে যেতে অনিচ্ছা প্রকাশ করেন। তবে পৌরসভার প্রশাসক হিসেবে হাসপাতাল পর্যন্ত একটি অংশের সংস্কার কাজ দুই সপ্তাহের মধ্যে শুরু হচ্ছে। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে যতটা পেরেছি কাজ করার চেষ্টা করছি।
এ প্রসঙ্গে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপজেলা প্রকৌশলী মোহাম্মদ আশরাফুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, বাজেট না থাকায় কাজ করা সম্ভব হচ্ছে না। শুধু এই রাস্তা নয়, আরও অনেক রাস্তারই একই অবস্থা।
স্থানীয়রা অবিলম্বে এই সড়কের পূর্ণ সংস্কার দাবি করছেন। অন্যথায় জনদুর্ভোগ আরও বাড়বে এবং এলাকার শিক্ষাব্যবস্থা ও অর্থনীতি আরও বিপর্যস্ত হয়ে পড়বে।
