অপহরণের পর মুক্তিপণ দাবি, ৮ দিন পর মিললো ব্যবসায়ীর খণ্ডিত মরদেহ

আপডেট : ১৫ জুলাই ২০২৫, ১২:২৮

রাঙ্গামাটি কাউখালীতে নিখোঁজের আট দিন পর পোলট্রি ব্যবসায়ী মো. মামুনের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (১৫ জুলাই) সকালে উপজেলার সুগারমিল আদর্শ গ্রাম থেকে তার বস্তাবন্দী দ্বিখণ্ডিত মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তারা হলেন- মো. কামরুল ইসলাম (৩০), সাথী আক্তার (১৯), আনোয়ার (২০)। এদের মধ্যে কামরুল ও সাথী সম্পর্কে স্বামী-স্ত্রী। তাছাড়া কামরুল ইসলাম নিহত ব্যবসায়ী মামুনের পোলট্রি খামারের সাবেক কর্মচারী।

নিহত মামুন সুগারমিল আদর্শ গ্রাম এলাকার আলী আহম্মেদের একমাত্র সন্তান। মামুনের দুই ছেলে ও এক মেয়ে সন্তান রয়েছে। এর মধ্যে দুই ছেলে বয়স তিন ও আট বছর এবং ছোট মেয়েটির বয়স ৯ মাস।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৭ জুলাই বিকেল থেকে নিখোঁজ হন মামুন। পরে সেদিন রাতে মামুন তার স্ত্রীকে ফোন করে রাঙ্গুনিয়া এলাকার এক ব্যক্তিকে দুই লাখ টাকার চেক দিতে বলেন। এসময় তিনি স্ত্রীকে জানান, তিনি ঝামেলায় আছে তবে চিন্তা করার কিছু নেই। সেদিন রাতেই মামুনকে চায়ের সঙ্গে নেশাজাতীয় ওষুধ খাইয়ে হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। তবে ৮ জুলাই ঘাতকরা মামুনের পরিবারকে ফোন করে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে।

পরে মামুনের স্ত্রী থানায় অভিযোগ করলে তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় কামরুলকে আটক করে পুলিশ। পরে তার স্বীকারোক্তি অনুসারে মামুনের মরদেহ উদ্ধার করা হয় এবং ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে সাথী আক্তারকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাছাড়া রাঙ্গুনিয়ায় চেক গ্রহণকারী আনোয়ারকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

পুলিশ হেফাজতে কামরুল জানায়, মামুনকে রানীরহাট এলাকায় তার ভাড়া বাসায় চায়ের সঙ্গে নেশাজাতীয় খাবার খাইয়ে অজ্ঞান করে ফেলে। পরে তাকে হত্যা করে লাশ দুভাগ করে ভরা হয় বস্তায়। সবশেষ বস্তাটি মাটিতে পুঁতে ফেলা হয়। পুরো কাজে সঙ্গে ছিলেন তার স্ত্রী সাথী আক্তার।

কাপ্তাই সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাহেদুল ইসলাম জানিয়েছেন, নিহত মামুনের সাবেক কর্মচারী ছিলেন ঘাতক কামরুল। কিন্তু কর্মচারী থাকলেও সম্প্রতি তারা দুজনে মিলে শেয়ারে ব্যবসা করছিলেন। ধারণা করা হচ্ছে ব্যবসায়িক দ্বন্দ্বের কারণে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।

কাউখালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাইফুল ইসলাম সোহাগ জানান, এ ব্যাপারে কাউখালী থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। ঘাতক কামরুলকে আদালতে উপস্থাপন করে রিমান্ড চাওয়া হবে। এ হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের খুঁজে বের করা হবে। ইতোমধ্যে চেক গ্রহণ করা আনোয়ারকে গ্রেপ্তার করে রাঙ্গামাটির আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

ইত্তেফাক/এপি