থানায় মামলা

সেই খাদ্য কর্মকর্তাকে অপহরণের পর ১৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি!

আপডেট : ১৫ জুলাই ২০২৫, ১৩:৪৫

খুলনায় খাদ্য কর্মকর্তা সুশান্ত কুমার মজুমদারকে অপহরণের ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের হয়েছে। তাকে অপহরণের পর ১৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। পরে ৩ লাখ ২০ হাজার টাকা দিতে রাজি হলে ছেড়ে দেওয়া হয় তাকে।

মঙ্গলবার (১৫ জুলাই) খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় খাদ্য কর্মকর্তা সুশান্ত কুমার মজুমদার নিজেই এ তথ্য জানিয়েছেন।

এদিকে বিকাশের মাধ্যমে চাঁদার অর্থ লেনদেনের অভিযোগে এ ঘটনায় দুইজন বিকাশ এজেন্টকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অপহৃত খাদ্য কর্মকর্তার স্ত্রীর দায়ের করা মামলায় তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

গ্রেপ্তাররা হলেন- আলমগীর কবির ও মুসা খান।

এর আগে খুলনায় খাদ্য পরিদর্শক সুশান্ত কুমার মজুমদারকে পুলিশ পরিচয়ে অপহরণের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। পরে রোববার দিবাগত রাত ১২টার দিকে তেরখাদা উপজেলার আজগড়া স্কুলের সামনে তাকে রেখে যায় অপহরণকারীরা। 

সুশান্ত কুমার খাদ্য বিভাগের খুলনা মহানগরীর ৪ নম্বর ঘাট ইনচার্জ হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। তার মূল পদ খাদ্য পরিদর্শক।

পুলিশ জানায়, অপহরণের ঘটনায় ওই কর্মকর্তার স্ত্রী মাধবী রানী মজুমদার বাদী হয়ে ৫ অপহরণকারী এবং বিকাশে টাকা গ্রহণের দুই এজেন্টসহ সাতজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেছেন।

আসামিরা হলো, তেরখাদা উপজেলার আজগড়া গ্রামের মো. রেজা, বাবু মন্ডল, জামাল হাওলাদার, নাছির, টুনু এবং বিকাশ এজেন্ট আলমগীর কবির ও মুসা খান। তাদের মধ্যে দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মূল অপহরণকারী পাঁচজন এখনো পলাতক।

খুলনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাওলাদার সানওয়ার হুসাইন মাসুম বলেন, অপহরণের ঘটনায় ৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, বাকিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

উল্লেখ্য, গত রোববার সন্ধ্যা ৭টার দিকে নগরীর ৪ নম্বর ঘাট এলাকা থেকে খাদ্য কর্মকর্তা সুশান্ত কুমার মজুমদারকে তুলে নিয়ে যায় কয়েকজন ব্যক্তি। অপহরণের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়। পুলিশের একাধিক টিম সাড়ে ৫ ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে রাত সাড়ে ১২টার দিকে খুলনার তেরখাদা উপজেলার আজগড়া বিআরবি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে হাত ও চোখ বাঁধা অবস্থায় সুশান্তকে উদ্ধার করে। বর্তমানে তিনি খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সার্জারি বিভাগে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

ইত্তেফাক/এপি