বেনাপোল কাস্টমস ও বন্দরে জলাবদ্ধতা, আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমে বিপর্যয়

আপডেট : ১৫ জুলাই ২০২৫, ১৬:৫০

টানা অতি বর্ষণের কারণে দেশের সর্ববৃহৎ স্থলবন্দর বেনাপোলের কাস্টম হাউস ও বন্দর এলাকায় দেখা দিয়েছে চরম জলাবদ্ধতা। মঙ্গলবার সকাল থেকেই কাস্টম হাউস ও বন্দর অভ্যন্তরে পানি জমে যাওয়ায় ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্টদের চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

জলাবদ্ধতার কারণে ওপেন ইয়ার্ড ও গুদামের সামনে পানি জমে থাকায় পণ্য খালাস ও পরিবহন কার্যক্রমে বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। এতে আমদানি-রপ্তানিতে ধীরগতির পাশাপাশি বিপাকে পড়েছেন ব্যবসায়ীরা।

বন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, পানি নিষ্কাশনের জন্য বন্দর এলাকা থেকে তিনটি গেট দিয়ে পাইপলাইনের মাধ্যমে তিনটি মোটর চালিয়ে পানি সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি কাস্টমস কর্তৃপক্ষও আলাদাভাবে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা নিচ্ছে।

তবে পানি নিষ্কাশনে প্রধান বাধা হিসেবে দায়ী করা হচ্ছে রেলওয়ের একটি প্রকল্পকে। বন্দর কর্তৃপক্ষের দাবি, রেলপথ সম্প্রসারণকালে পানি চলাচলের জন্য কালভার্ট না রেখে মাটি ভরাট করায় পানি জমে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

বন্দর ব্যবহারকারী সংগঠনগুলোর অভিযোগ, বৃষ্টিপাত হলেই বন্দর এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। এতে পণ্যবোঝাই ট্রাক চলাচলে বিঘ্ন ঘটে এবং নিরাপত্তারক্ষীদের চলাফেরাও কঠিন হয়ে পড়ে।

বেনাপোল বন্দর ব্যবহারকারী ব্যবসায়ী বকুল মাহাবুব বলেন, এই বন্দরে বছরে প্রায় ২২ থেকে ২৪ লাখ টন পণ্য আমদানি হয়। অথচ দীর্ঘমেয়াদি কোনো অবকাঠামোগত পরিকল্পনা ছাড়া গড়ে ওঠা সেড ও ইয়ার্ডগুলোর কারণে সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা তৈরি হয়।

তিনি আরও বলেন, বৃষ্টির পানি যদি পণ্যাগারে ঢুকে পড়ে, তাহলে আমদানিকারকরা বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়বেন। অথচ এখান থেকে সরকার বছরে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আদায় করে।

স্টাফ অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সাজেদুর রহমান জানান, জলাবদ্ধতা রোধে আমরা বারবার বন্দরের কাছে দাবি জানিয়েছি, কিন্তু কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

বন্দরের ডেপুটি পরিচালক মামুন কবীর তরফদার বলেন, আমরা দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা নিচ্ছি। বেনাপোল পৌরসভার সহায়তা চাওয়া হয়েছে। অচিরেই পানি সরিয়ে ফেলা হবে।

ইত্তেফাক/এএইচপি