জাল ওয়ারিশ সনদ প্রদানের অভিযোগে ইউপি চেয়ারম্যান কারাগারে

আপডেট : ১৫ জুলাই ২০২৫, ২০:১২

বরগুনার আমতলী উপজেলায় জাল ওয়ারিশ সনদ প্রদান করার অভিযোগে আমতলী সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. জাহিদুল ইসলাম মিঠু মৃধাকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। 

মঙ্গলবার (১৫ জুলাই) দুপুরে তিনি আমতলী উপজেলা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির হয়ে জামিন আবেদন করলে বিজ্ঞ বিচারক মো. সাইফুল আলম তা নামঞ্জুর করে তাকে জেল হাজতে পাঠানোর আদেশ দেন।

মামলার সূত্রে জানা গেছে, দক্ষিণ আমতলী গ্রামের মৃত মৌজে আলী প্যাদার ছেলে মো. শাহিন প্যাদা চলতি বছরের ৪ মে আমতলী সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় অভিযোগ করা হয়, মৃত মৌজে আলী প্যাদার দুই স্ত্রী, পাঁচ ছেলে ও চার কন্যাসহ মোট ১১ জন ওয়ারিশ রয়েছেন। তারা পূর্বে ২০২১ সালের ২৭ জানুয়ারি (স্মারক নং: ৮১১৫), ২০২৩ সালের ১৫ নভেম্বর (স্মারক নং: ৪৩৭), এবং ২০২৪ সালের ২১ আগস্ট (স্মারক নং: ৩৭)—এই তিন দফায় ওয়ারিশ সনদ গ্রহণ করেন, যেখানে প্রতিবারই শাহিন প্যাদার নাম ছিল।

কিন্তু বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান জাহিদুল ইসলাম মিঠু মৃধা ২০২৫ সালের ১২ জানুয়ারি (স্মারক নং: ২১৩ ও ২০৫) দুটি নতুন ওয়ারিশ সনদ প্রদান করেন, যেখানে শাহিন প্যাদার নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। এতে বাদী দাবি করেন, তাকে ইচ্ছাকৃতভাবে তার পৈতৃক সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করার উদ্দেশ্যেই জাল সনদ তৈরি করা হয়েছে।

এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় ইউপি চেয়ারম্যান ছাড়াও আরও দুইজন—সংরক্ষিত ১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের নারী সদস্য মোসাম্মাৎ সাহিদা বেগম এবং তার ভাই মো. ফারুক প্যাদাকে আসামি করা হয়। মামলার নির্ধারিত তারিখ ছিল গত রোববার (১৩ জুলাই)। ওই দিন সাহিদা বেগম ও ফারুক প্যাদা আদালতে হাজির হলে, তাদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে আদালত কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

মঙ্গলবার মামলার প্রধান আসামি চেয়ারম্যান মিঠু মৃধাও আদালতে হাজির হয়ে জামিন আবেদন করলে, বিচারক তা নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

মামলার বাদী মো. শাহিন প্যাদা অভিযোগ করে বলেন, আমার ভাই ফারুক প্যাদা ইচ্ছাকৃতভাবে জাল ওয়ারিশ সনদ তৈরি করে আমাকে পৈতৃক সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করার চেষ্টা করেছে।

ইত্তেফাক/এএইচপি