নালিতাবাড়ীতে তুচ্ছ ঘটনায় সংঘর্ষ, মোটরসাইকেলে আগুন

আপডেট : ১৫ জুলাই ২০২৫, ২০:৪২

শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার হাজী নুরুল হক নন্নী-পোড়াগাঁও মৈত্রী কলেজে তুচ্ছ বিষয়কে কেন্দ্র করে একাদশ শ্রেণির দুই পরীক্ষার্থীর মধ্যে বাকবিতণ্ডা ও হাতাহাতির জেরে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের হয়েছে। মঙ্গলবার (১৫ জুলাই) দুপুরে সীমান্তবর্তী নন্নী উত্তরবন্দ এলাকার কলেজ চত্বরে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় কলেজের চার শিক্ষার্থীসহ বহিরাগত মোট ১৮ জনকে আটক করেছে পুলিশ।

সংঘর্ষের সময় দু’টি মোটরসাইকেলে আগুন দেওয়া হয়। গুরুতর আহত হন শাকিল নামে এক শিক্ষার্থী। কলেজে কয়েক ঘণ্টা অবরুদ্ধ ছিলেন ছাত্রনেতা ও শিক্ষকরা। পরে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং পুলিশ প্রশাসনের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে একাদশ শ্রেণির পরীক্ষা চলাকালে নন্নী উত্তরবন্দ গ্রামের পরীক্ষার্থী ফরহাদকে ধাক্কা দেন একই শ্রেণির খালভাঙা এলাকার শিক্ষার্থী আমিনুল ইসলাম আকাশ। ধাক্কায় আকাশ বেঞ্চের সঙ্গে আঘাতপ্রাপ্ত হলে তাদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে ফরহাদের বন্ধু শাকিল প্রতিবাদ করলে আকাশ কলেজ ছাত্রদল সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান মুক্তারকে বিষয়টি জানান।

খবর পেয়ে মুক্তার ও তার অনুসারীরা কলেজে গেলে শাকিলের ওপর হামলা চালানো হয় এবং ক্ষুর দিয়ে আঘাত করা হয় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। এরপর উত্তেজিত এলাকাবাসী বহিরাগতদের ওপর পাল্টা হামলা চালায়। পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হলে ছাত্রদল সভাপতি ও তার সহযোগীরা কলেজের অফিসকক্ষে আশ্রয় নেন।

বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী এ সময় ছাত্রনেতাদের দুটি মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। সংঘর্ষের ফলে কলেজ এলাকায় কয়েক ঘণ্টা আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

খবর পেয়ে সহকারী পুলিশ সুপার (নালিতাবাড়ী সার্কেল) আফসানা আল আলম ঘটনাস্থলে পৌঁছান এবং স্থানীয় নেতৃবৃন্দের সহযোগিতায় বিকেল সাড়ে চারটার দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য ও বিএনপি নেতা আবদুল্লাহ অভিযোগ করেন, শহর থেকে বহিরাগত এনে স্থানীয় শিক্ষার্থী শাকিলকে রক্তাক্ত করা হয়েছে। শিবির ও পতিত সরকারের সমর্থক একটি গোষ্ঠী এ হামলার সঙ্গে জড়িত।

এ বিষয়ে সহকারী পুলিশ সুপার আফসানা আল আলম বলেন, বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক। কেউ লিখিত অভিযোগ দিলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ইত্তেফাক/এএইচপি