সত্যজিৎ রায়ের বাড়ি নয়, শিশু একাডেমির পরিত্যক্ত ভবন ভাঙা হচ্ছিল

আপডেট : ১৬ জুলাই ২০২৫, ২১:০৫

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে—ময়মনসিংহ শহরের হরিকিশোর রায় রোডে যেই পরিত্যক্ত ভবনটি ভাঙা হচ্ছে, সেটিই নাকি কিংবদন্তি চলচ্চিত্রকার সত্যজিৎ রায় কিংবা তার পূর্বপুরুষের বাড়ি। তবে তথ্যটি সঠিক নয় বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট গবেষক ও স্থানীয় বিশিষ্টজনেরা।

গবেষক স্বপন ধর জানান, বাড়িটি মূলত রনদা প্রসাদের অস্থায়ী বাসভবন ছিল। সত্যজিৎ রায়ের পরিবারের সঙ্গে এই স্থাপনার কোনো যোগসূত্র নেই। বিভ্রান্তির মূল কারণ—এই রোডের নাম সত্যজিৎ রায়ের পূর্বপুরুষ হরিকিশোর রায়ের নামে, কিন্তু এই নির্দিষ্ট ভবনটি তাদের নয়।

বাড়িটি গত তিন দশক ধরে বাংলাদেশ শিশু একাডেমির ময়মনসিংহ জেলা কার্যালয় হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল। দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ায় ভবনটি সরকার পরিত্যক্ত ঘোষণা করে এবং নতুন ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়। সম্প্রতি সেই কাজ শুরু হলে ভুল তথ্য ছড়িয়ে পড়ে—ভেঙে ফেলা হচ্ছে সত্যজিৎ রায়ের পৈতৃক বাড়ি।

বাড়িটি গত তিন দশক ধরে বাংলাদেশ শিশু একাডেমির ময়মনসিংহ জেলা কার্যালয় হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল।

বীর মুক্তিযোদ্ধা বিমল পাল ও কবি ইয়াজদানি কোরাইশী কাজল জানান, এই বাড়িতে কখনো সত্যজিৎ রায়ের পরিবার থাকতেন না। এটি ছিল জমিদারির এক কর্মকর্তার বাসভবন। দেশভাগের পর এটি অর্পিত সম্পত্তি হিসেবে সরকারের নিয়ন্ত্রণে আসে।

তারা আরও জানান, হরিকিশোর রায় রোডের পাশেই ‘দুর্লভ ভবন’ নামে পরিচিত বাড়িটিই ছিল সত্যজিৎ রায়ের পূর্বপুরুষদের পৈতৃক নিবাস। বর্তমানে সেখানে ‘দুর্লভ ডালিয়া টাওয়ার’ নামে একটি সুউচ্চ ভবন দাঁড়িয়ে আছে। ফলে যে ভবনটি ভাঙা হচ্ছে, সেটিকে সত্যজিৎ রায়ের স্মৃতিবিজড়িত বাড়ি বলে উল্লেখ করা সম্পূর্ণ ভুল।

জেলা শিশুবিষয়ক কর্মকর্তা মেহেদী জামান বলেন, জেলা প্রশাসকের নির্দেশে ভবন ভাঙার কাজ আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে। এই জমিটি শিশু একাডেমি নামে বরাদ্দ আছে। সত্যজিৎ রায়ের পরিবারের সঙ্গে এই স্থাপনার কোনো সম্পৃক্ততা নাই

তিনি আরও জানান, এই বিষয় নিয়ে জেলা প্রসাশকের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে। এতে সংশ্লিষ্টদের মতামত নেওয়া হয়েছে। তবে, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এই স্থাপনা ভাঙার কাজ স্থগিত করা হয়েছে।

অতিরিক্ত জেলাপ্রশাসক (রাজস্ব) মোহাম্মদ আজিমুদ্দিন বলেন, এই জমিটি শিশু-একাডেমির নামে বন্দোবস্ত দেওয়া আছে। এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই।

বিশিষ্টজনেরা মনে করেন, দীর্ঘদিন ধরে অব্যবহৃত ও ঝুঁকিপূর্ণ ভবনটিকে ঘিরে গড়ে ওঠা এই বিভ্রান্তি অপসারণ করে দ্রুত শিশু একাডেমির নতুন ভবন নির্মাণের কাজ শুরু করা উচিত। তারা বলেন, এই শহরের সাংস্কৃতিক চর্চা ধরে রাখতে নতুন ভবনের কোনো বিকল্প নেই। আবেগ নয়, প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরি।

ইত্তেফাক/এএইচপি