তাহাদের তুচ্ছতাচ্ছিল্য করা উচিত নহে

আপডেট : ১৮ জুলাই ২০২৫, ০৬:০০

পুলিশ বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের ব্যাপারে আমরা মাঝেমধ্যে বিরূপ মন্তব্য করি। তাহাদের প্রতি বিশ্রদ্ধ হই। অনেক সময় কারণে-অকারণে তাহাদের অপমান-অপদস্থ করি, অকথ্য ভাষায় গালাগালি করি। এমনকি তাহাদের উপর চড়াও হই বা আক্রমণ করি; কিন্তু ব্যক্তিগত-পারিবারিক, সামাজিক এমনকি রাজনৈতিকভাবে বিপদে-আপদে পড়িলে ঠিকই তাহাদের শরণাপন্ন হই।

তাহাদের অবস্থা হইয়াছে বাংলা সেই প্রবাদবাক্যের মতো- 'কাজের সময় কাজি, কাজ ফুরালেই পাজি'। তাহাদের সহিত অনেক সময় এমন আচরণ করা হয় যাহাতে প্রশ্ন উঠিতে পারে, সংকটে পড়িলে পুলিশ অ্যাকশনে যাইবে কেন? তাহারা তো ভাবিতে পারে, তাহারা এখন অতি উৎসাহী হইয়া কোনো কাজ করিলে তাহাদের বিরুদ্ধেও একসময় মামলা হইতে পারে, তাহাদের জেলে যাইতে হইতে পারে। যেমনটা পূর্বের সরকারের আমলে অতি উৎসাহী ভূমিকার জন্য এখন অনেকে বিপাকে পড়িয়াছেন। সুতরাং তাহারা ঝুঁকি লইবে কেন?

আমাদের বক্তব্য হইল, কথায় কথায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের তুচ্ছতাচ্ছিল্য করা অনুচিত। তাহারা জনগণের বন্ধু। যদিও তাহাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকাটা অস্বাভাবিক নহে। তবে ঢালাওভাবে একটি বাহিনীকে অপমান-অপদস্থ করিতে পারি না আমরা। ইহাতে দিন শেষে আমাদেরই ক্ষতি। অবশ্য পুলিশ বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নিয়মকানুনের মধ্যে থাকিতে হইবে এবং সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের পরিচয় দিতে হইবে। তাহারা যেমন দায়িত্বশীল আচরণ করিবেন, তেমনি আমাদেরও পূর্বাপর চিন্তা করিয়া তাহাদের ব্যাপারে মন্তব্য করিতে হইবে। তাহাদের কথায় কথায় পূর্ব সরকারের দালাল ইত্যাদি উপাধিতে ভূষিত করা অবাঞ্ছনীয়। একটি অতীব জরুরি বাহিনী হিসাবে তাহাদের ব্যাপারে দলমতনির্বিশেষে ও সামগ্রিকভাবে আমাদের সুধারণা পোষণ করা উচিত।

অনেক সময় দেখা যায়, যতজন মানুষ কোনো কর্মসূচি পালন করেন, তাহাদের রক্ষায় পুলিশের সংখ্যাই থাকে বেশি। সংঘাত-সংঘর্ষে জীবন রক্ষায় আমরা তাহাদের নিরাপত্তা বেষ্টনীতে আশ্রয় নিই। তাই কথায় কথায় আমরা যেন তাহাদের বিরুদ্ধে বিষোদগার না করি। আন্ডারমাইন না করি। বরং সম্ভব হইলে তাহাদের সহযোগিতা করি। বিশেষ করিয়া তাহাদের জন্য উপযুক্ত ট্রেনিং, অত্যাধুনিক অস্ত্রশস্ত্র, পর্যাপ্ত যানবাহন ও আবাসনের ব্যবস্থা করা ইত্যাদি সুযোগসুবিধা বৃদ্ধির প্রতি আমাদের সুদৃষ্টি দিতে হইবে। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর তাহারা নানাভাবে বিপর্যস্ত হইয়াছেন। তাহারা যাহাতে এখন সুশৃঙ্খল বাহিনী হিসাবে পূর্ণোদ্যমে ও পূর্বের মতো মনোবল লইয়া কাজ করিতে পারেন সেই ব্যাপারে আমাদের সর্বাধিক উৎসাহ দেওয়া প্রয়োজন।

অবশ্য অতীতের মতো তাহাদের ব্যক্তিগত বা দলীয়ভাবে লাঠিয়াল বাহিনীতে পরিণত করা যাইবে না। কেননা ইহার পরিণাম কখনো শুভ হয় না। যাহারা ক্ষমতায় থাকিয়া তাহাদের নগ্নভাবে ব্যবহার করিবার চেষ্টা করেন, ক্ষমতায় না থাকিলে তাহাদের এত শক্তিমত্তা যায় কোথায়? অর্থাৎ কি সরকারি বা বিরোধী দল সংকট বা বিপদে পড়িলে আমরা সকলেই পুলিশের সাহায্য প্রত্যাশা করি। তাই তাহাদের অপরিহার্যতার কথা মাথায় রাখিয়া তাহাদের ব্যাপারে যে কোনো মন্তব্য করিবার ক্ষেত্রে অধিক সতর্কতা অবলম্বন করা একান্ত আবশ্যক।

ইত্তেফাক/এএম