দরপত্র ছাড়াই এলএনজি প্রকল্পে সরাসরি চুক্তির পথে সরকার 

আপডেট : ১৮ জুলাই ২০২৫, ১৭:২০

স্বচ্ছতা ও সংস্কারের প্রতি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতিশ্রুতি থাকা সত্ত্বেও প্রতিযোগিতামূলক টেন্ডার প্রক্রিয়া ছাড়াই একটি বৃহৎ জ্বালানি অবকাঠামো চুক্তি করতে পারে বাংলাদেশ সরকার—এমন ইঙ্গিত মিলেছে।

বুধবার (১৬ জুলাই) প্রকাশিত প্ল্যাটস-এর এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, মহেশখালীতে বছরে ৪ দশমিক ৫০ মিলিয়ন মেট্রিক টন ক্ষমতাসম্পন্ন একটি ভাসমান স্টোরেজ ও পুনঃগ্যাসিফিকেশন ইউনিট (FSRU) নির্মাণের জন্য ওমানভিত্তিক ওকিউ ট্রেডিং ইন্টারন্যাশনালের (OQT) উন্নত পর্যায়ের আলোচনায় রয়েছে বাংলাদেশ। ২০২৭ সালের মধ্যে বাস্তবায়নযোগ্য এই প্রকল্পটি দেশের কমে আসা গ্যাসের মজুত এবং এলএনজি আমদানির চাহিদা সামাল দিতে জরুরি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

যদিও এলএনজি অবকাঠামো সম্প্রসারণ জরুরি এবং প্রয়োজনীয় হিসেবে ব্যাপকভাবে স্বীকৃত, তবে একটি উচ্চ-মূল্যের এবং কৌশলগত প্রকল্পে কোনো দরপত্র ছাড়াই অগ্রসর হওয়ায় প্রশ্ন উঠেছে। 

পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান প্ল্যাটসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, ওমানভিত্তিক ওকিউ ট্রেডিং ইন্টারন্যাশনালের প্রস্তাবটি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা হচ্ছে এবং এটি এলএনজি আমদানি সক্ষমতা বাড়াতে প্রয়োজনীয় ভূমিকা রাখতে পারে। এলএনজি আমদানি ক্ষমতা জোরদার করার গুরুত্বপূর্ণ প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।


তবে ওকিউ ট্রেডিং ইন্টারন্যাশনাল (OQT) এই খাত সংশ্লিষ্ট অভিজ্ঞ কোনো প্রতিষ্ঠান নয়। বরং এটি একটি পণ্য-ভিত্তিক ট্রেডিং কোম্পানি। এই প্রতিষ্ঠানের ভাসমান স্টোরেজ ও পুনঃগ্যাসিফিকেশন ইউনিট বাস্তবায়ন বা পরিচালনার কোনো পূর্ব-অভিজ্ঞতা নেই। তারপরও সরাসরি এই কোম্পানিকে বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে কেন—তা নিয়েই উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।


এ ব্যাপারে সমালোচকরা বলছেন, ওকিউ ট্রেডিং ইন্টারন্যাশনালের সাথে এই সম্ভাব্য সরাসরি চুক্তিটি নীতি লঙ্ঘন করতে পারে।
এই বছরের শুরুতে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহের দ্রুত বর্ধন (বিশেষ বিধান) আইন, ২০১০ বাতিল করে—যা দীর্ঘদিন ধরে জ্বালানি খাতে দ্রুত-ট্র্যাক ও দরপত্রবিহীন (non-tendered) ক্রয়ের অনুমতি দিত। এই বাতিলকে অনেকেই অবকাঠামো খাতে প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র ও জবাবদিহিতা পুনঃস্থাপনের এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখেন।

তবে, যদি সরকার আনুষ্ঠানিক টেন্ডার ছাড়াই ওকিউ ট্রেডিং ইন্টারন্যাশনালের সঙ্গে সরাসরি চুক্তি স্বাক্ষর করে, তবে এটি বিশেষ আইন বাতিলের উদ্দেশ্যকেই কার্যকরভাবে বাতিল করে দেবে বলে মন্তব্য করেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জ্বালানি খাত-সম্পর্কিত একজন বিশ্লেষক।
তিনি বলেন, “এটি শুধু স্বচ্ছতাকেই ক্ষতিগ্রস্ত করবে না, বরং ভবিষ্যতের বড় প্রকল্পগুলোর জন্যও একটি বিপজ্জনক নজির তৈরি করবে।”
ঢাকা-ভিত্তিক একজন জ্বালানি আইন বিশেষজ্ঞ বিষয়টি আরও স্পষ্ট করে বলেন,“এই ধরনের ব্যাকডোর আলোচনা— বিশেষ করে একটি তুলনামূলক অনভিজ্ঞ ট্রেডিং ফার্মের সঙ্গে—শুধু দেশের বিদ্যমান নিয়ন্ত্রক কাঠামোকেই অবহেলা করে না, বরং প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অর্জনযোগ্য ব্যয় সাশ্রয় ও উদ্ভাবনের সুযোগ থেকেও জনগণকে বঞ্চিত করে।”

 

সূত্র: Platts LNG Daily, ১৬ জুলাই ২০২৫; জ্বালানি খাতের সাক্ষাৎকার স্বাধীনভাবে পরিচালিত।

ইত্তেফাক/আইএ