সিরিয়ার সুওয়াইদা থেকে পালিয়ে গেছে হাজার হাজার বেদুইন: রিপোর্ট

আপডেট : ১৮ জুলাই ২০২৫, ২০:৩০

ড্রুজ এবং নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে লড়াইয়ের মধ্যে সিরিয়ার সুওয়াইদা অঞ্চল থেকে হাজার হাজার বেদুইন পার্শ্ববর্তী দারায শহরে চলে গেছে। 

সিরিয়ার টেলিভিশন চ্যানেলের খবর অনুযায়ী, ১ হাজারেরও বেশি আরব পরিবার দারা গভর্নরেটে প্রবেশ করেছে। পরিস্থিতি মোকাবেলায় এবং শরণার্থীদের অস্থায়ী আবাসন ও নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সরবরাহের জন্য স্থানীয় কর্তৃপক্ষ একটি বিশেষ কমিটি গঠন করেছে।

সানা সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, সরকারি সেনারা সুওয়াইদা শহর থেকে সরে যাওয়ার পর অবৈধ সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো অসংখ্য বেদুইন যোদ্ধাদের হত্যা করেছে।

আল ওয়াতান সংবাদপত্রের মতে, সুওয়াইদায় এই অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে উগ্র দ্রুজ ধর্মগুরু শেখ হিকমত আল-হিজরির সমর্থকরা। হিকমত তার সম্প্রদায়ের যোদ্ধাদের ইসরায়েলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক স্থাপন এবং দামেস্ক কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে অবাধ্যতার আহ্বান জানান।

এর আগে গত ১৩ জুলাই সিরিয়ার পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়ে ওঠে - যখন দ্রুজ-অধ্যুষিত সুওয়াইদায় আরব উপজাতি মিলিশিয়া এবং দ্রুজ গোষ্ঠীগুলির মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। ১৫ জুলাই সিরিয়ার সেনাবাহিনী অঞ্চলের প্রশাসনিক কেন্দ্রে প্রবেশ করে এবং শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার জন্য একটি অভিযান শুরু করে।

এর কিছুক্ষণ পরেই ইসরায়েল সিরিয়ার সেনাবাহিনীর অবকাঠামোতে বিমান হামলা শুরু করে। ইসরায়েল দাবি করে, দ্রুজ জনগোষ্ঠীকে 'রক্ষা করার জন্য' তারা অভিযান চালাচ্ছে। ১৬ জুলাই ইসরায়েল দামেস্কের বেশ কয়েকটি কৌশলগত লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে - এর মধ্যে রয়েছে দামেস্কের সেনা সদর দপ্তর।

১৬ জুলাইয়ের শেষের দিকে সিরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় 'যুদ্ধবিরতি' চুক্তির আওতায় শহর থেকে সরকারি বাহিনী প্রত্যাহারের ঘোষণা দেয়। হিকমত আল-হিজরির বিপরীতে দ্রুজ আধ্যাত্মিক নেতা শেখ ইউসুফ জারবো যুদ্ধবিরতির চুক্তিকে স্বাগত জানিয়েছেন।

দ্রুজরা মূলত সিরিয়া, লেবানন, ইসরায়েল এবং জর্ডানে বসবাসকারী একটি ঘনিষ্ঠ জাতিগত ধর্মীয় আরবিভাষী গোষ্ঠী। তারা মধ্যযুগে শিয়া মুসলিমদের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে একটি নির্দিষ্ট বিশ্বাসে বিশ্বাসী।

ইসরায়েলি দ্রুজরা দখলকৃত ভূখণ্ডের উত্তরে বাস করে এবং ইহুদিদের সঙ্গে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী ও পুলিশে কাজ করে।

তবে ১৯৬৭ সালে ছয় দিনের যুদ্ধে ইসরায়েল গোলান মালভূমির 'নিয়ন্ত্রণ' নিলে সেখানে বসবাসকারী বেশিরভাগ দ্রুজ তাদের সিরিয়ার নাগরিকত্বই রেখে দেয়। বর্তমানে সিরিয়ার দ্রুজ জনসংখ্যা প্রায় ৭০০০০০ - এটি কুর্দি এবং আলাউইতের পরে আরবের তৃতীয় বৃহত্তম জাতিগত ধর্মীয় সংখ্যালঘু।

ইত্তেফাক/এসকে