পিআর পদ্ধতির কথা উঠলে, কেউ কেউ ভয় পায়: মুফতি রেজাউল করীম

আপডেট : ১৯ জুলাই ২০২৫, ০২:৩০

আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (পিআর) পদ্ধতির নির্বাচনের প্রসঙ্গ উঠলেই একটি মহল ভয় পায় বলে মন্তব্য করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম (চরমোনাই পীর)। তার ভাষায়, এই পদ্ধতি চালু হলে চাঁদাবাজি, ভোট ডাকাতি, দলীয়করণ ও অর্থপাচার বন্ধ হয়ে যাবে—সেজন্যই ভয় পায় একটি মহল।

শুক্রবার (১৮ জুলাই) পুরানা পল্টনে ইসলামী আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ‘জুলাই জাগরণ ও স্বৈরাচার প্রতিরোধ দিবস’ উপলক্ষে ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের আয়োজিত দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

চরমোনাই পীর বলেন, ‘পিআর পদ্ধতির বিরুদ্ধে যারা কথা বলেন, তারা আজও এর কোনো যৌক্তিক অসুবিধা তুলে ধরতে পারেননি। কারণ এই পদ্ধতিতে ফ্যাসিস্ট, খুনি, চাঁদাবাজরা নির্বাচন জিতে যেতে পারে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা ইসলাম, দেশ ও মানবতার পক্ষে সংগ্রাম করছি। রাষ্ট্র সংস্কার চাই, গণহত্যার বিচার চাই। কিন্তু কিছু দল ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য উন্মাদ হয়ে উঠেছে।’

আবু সাঈদের হত্যার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘মুগ্ধের “পানি লাগবে পানি” এখনো কানে বাজে। আবু সাঈদের মতো নিরপরাধ মেধাবী ছাত্রকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। আমরা মায়েদের বুকফাটা কান্না সহ্য করতে পারিনি। তাই একমাত্র আমরাই তখন রাজনৈতিক দলের ব্যানারে মাঠে নেমেছিলাম।’

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে দলের মহাসচিব মাওলানা ইউনুস আহমদ বলেন, ‘চরমোনাই পীর যুগোপযোগী ও বাস্তবভিত্তিক প্রস্তাব দিয়েছেন—দেশে পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন। এতে ভোট চুরি, সন্ত্রাস, দলবাজি কমবে। কিন্তু যারা এই ব্যবস্থার বিরোধিতা করছে, তারা জানে, এতে তাদের অবৈধ আধিপত্য আর থাকবে না।’

দোয়া মাহফিল ও আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের সভাপতি ইউসুফ আহমাদ মানসুর, সেক্রেটারি জেনারেল শেখ মাহবুবুর রহমান নাহিয়ানসহ সংগঠনের কেন্দ্রীয় ও মহানগর নেতারা।

এর আগে একই দাবিতে ইসলামী আন্দোলনের নেতা-কর্মীরা জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররম উত্তর গেটে বিক্ষোভ করেন। সেখানে গোপালগঞ্জে ‘জুলাই যোদ্ধাদের’ ওপর হামলা, আইনশৃঙ্খলার অবনতি ও ঢাকায় জাতিসংঘের মানবাধিকার কার্যালয়ের অনুমতি বাতিলের দাবিও জানান তারা।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, ‘আজ ব্যবসায়ীরা নিরাপত্তাহীনতায়, পরিবহন ব্যবসায়ীরা চাঁদাবাজদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ। এমন দেশ চায়নি শহীদরা, এমন শাসন চাই না আমরা।’

ইত্তেফাক/এএম