কিশোরগঞ্জের ভৈরবে ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষ হয়েছে। এতে ৫ জন আহত হয়েছেন। একইসঙ্গে ১৫টি বাড়িঘর ও দোকানপাট ভাঙচুর করা হয়েছে। শুক্রবার (১৮ জুলাই) রাত ১০টায় পৌর শহরের কমলপুর পঞ্চবটি পুকুরপাড় ও দক্ষিণপাড়ার কসাইহাটির এলাকার যুবকদের মধ্যে এ ঘটনা ঘটে।
ভৈরব-কুলিয়ারচর সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার নাজমুস সাকিব এসব বিষয় নিশ্চিত করেছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পৌর শহরের ভৈরবপুর দক্ষিণপাড়া কসাইহাটির কিশোররা বিকেলে কমলপুর পঞ্চবটি বালুর মাঠে ফুটবল খেলতে গেলে পুকুরপাড় এলাকার যুবকেরা খেলতে বাধা দেন। এ ঘটনায় তাদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। এক পর্যায়ে পুকুরপাড়ের যুবকেরা কসাইহাটির যুবকদের মারধর করেন। পরে আবারও কসাইহাটির যুবকেরা বিষয়টি মিটমাট করতে গেলে পুকুরপাড়ের যুবকদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা হয়। রাত ১০টায় কসাইহাটির যুবকেরা পঞ্চবটি পুকুরপাড় এলাকায় হামলা চালায়।
এ সময় উভয়পক্ষ দা, বল্লম লাঠিসোঁটা ও ইটপাটকেল নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনায় পুকুরপাড় এলাকায় ১৫টি দোকানপাট ও বাড়িঘর ভাঙচুর করা হয়েছে। এতে পুকুরপাড় এলাকার তামিম ও কসাইহাটি এলাকার রাহাতসহ ৫ জন আহত হয়েছেন। খবর পেয়ে ভৈরব থানা পুলিশ স্থানীয়দের সহযোগিতায় ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
কসাইহাটি এলাকার রিফাত ও রাহাত বলেন, আমরা পঞ্চবটি বালুর মাঠে ফুটবল খেলতে গেলে পুকুরপাড় এলাকার যুবকেরা আমাদের খেলতে বাধা দেয়। জোরপূর্বক আমাদের খেলার বল রেখে আমাদের মারধর করে। আমাদের এলাকার বড় ভাইয়েরা বিষয়টি জিজ্ঞাসা করতে গেলে তারা তাদের উপরও হামলা চালায়।
এ বিষয়ে পুকুরপাড় এলাকার আরমান ভূঁইয়া বলেন, খেলা হয়েছে মাঠে এবং যুবকেরা মাঠে ঝগড়া করেছে। কিন্তু হঠাৎ করে কসাইহাটির যুবকেরা আমাদের পুকুরপাড় এলাকায় অতর্কিত হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও লুটপাট করেছে।
এদিকে ভুক্তভোগী ক্ষতিগ্রস্ত দোকানদার রুবেল মিয়া বলেন, আমি জানি না মাঠে কী হয়েছে। হঠাৎ কিছু যুবক এসে আমাদের এলাকায় দোকানপাট ও বাড়িঘর ভাঙচুর করেছে। আমার ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। দোকানের সবকিছু ভেঙেছে ও দোকানে নগদ টাকা ছিল টাকাসহ সবকিছু লুট করে নিয়ে গেছে। আমরা নিরপরাধ মানুষ, আমাদের কেন ক্ষতি হবে। আমরা এর কঠিন বিচার চাই।
এ প্রসঙ্গে ভৈরব-কুলিয়ারচর সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার নাজমুস সাকিব বলেন, তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষ হয়েছে। পুকুরপাড় এলাকার কয়েকটি বাড়িঘর ও দোকানপাট ভাঙচুর হয়েছে। উভয়পক্ষের অভিযোগের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
