ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার কামারখালী ইউনিয়নের মধুমতি নদীতে ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। ভাঙন আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন নদীর পশ্চিম ও উত্তর পাড়ের বেশ কয়েকটি গ্রামের মানুষ। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, গত কয়েকদিনের প্রবল বৃষ্টি এবং নদীতে পানি বৃদ্ধির কারণে দয়ারামপুর ও সালামতপুর গ্রামের মানুষের একমাত্র সম্বল ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। এসব জমিতে ধান, পাট ও ভুট্টা চাষাবাদ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন কৃষকরা। আরও দেখা যায়, সালামতপুরে স্থায়ী বাঁধ দেওয়ার কারণে নদীর পানির চাপ দয়ারামপুর মাঠে গিয়ে পড়ছে যার কারণে দ্রুত কৃষি জমি নদী ভাঙনের শিকার হচ্ছে।
এ ব্যাপারে দয়ারামপুর গ্রামের বিরেন্দ্রেনাথ দেউড়ী বলেন, বাপ-দাদার ফসলি জমি চাষাবাদ করে জীবিকা নির্বাহ করতাম কিন্তু নদীগর্ভে আমাদের ফসলি জমি বিলীন হয়ে যাচ্ছে। এ সময় কান্নাজড়িত কণ্ঠে বিরেন্দ্রেনাথ আরও বলেন, কৃষিকাজ করে সংসার চালাই। কিন্তু মুহূর্তেই আমার সব জমি নদীর পেটে চলে যাচ্ছে। এইভাবে কৃষিজমি নদী গর্ভে চলে গেলে চাষাবাদ করার কোনো জমি আর থাকবে না। এখন ছেলে অন্যের জমিতে কামলা দিয়ে সংসার চালায়।
একই এলাকার জলধর দেউড়ী ও রবিউল লস্কর জানান, হঠাৎ বন্যা ও নদীর পানি বৃদ্ধির ফলে মাঠের জমি নদীর ভাঙনে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। অপর কৃষক ফারুক মোল্লাও জানান, তার ফসলি জমি নদীতে বিলীন হয়ে গেছে।
এ প্রসঙ্গে, কামারখালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রাকিব হোসেন চৌধুরী ইরান বলেন, সরেজমিন পরিদর্শনে গিয়ে দয়ারামপুর মাঠের কৃষিজমি মধুমতি নদীতে বিলীন হওয়ার বিষয়টি দেখেছি। তিনি আরও বলেন, এটা প্রতিরোধে ফরিদপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলীকে জানিয়ে জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন রোধের ব্যবস্থা করা হবে।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের বিষয়ে মধুখালী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহাবুব ইলাহী জানান, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের একটি তালিকা পর্যায়ক্রমে প্রণয়ন করা হবে। কখনও যদি সরকারি ভাবে কোন প্রণোদনা আসে তাহলে তাদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা করা হবে।
ফরিদপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী (মধুখালী-বোয়ালমারী অঞ্চল) সন্তোষ কর্মকার জানান, ফসলি জমি বিলীনের ব্যাপারে খোঁজখবর নিয়ে আপদকালীন জিও ব্যাগ ফেলানো হবে। ভবিষ্যতে নদীর স্রোত ও অন্যান্য বিষয় পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের আঞ্চলিক প্রধান প্রকৌশলী মো. শাহজাহান কবীর ইত্তেফাককে বলেন, এ অঞ্চলের অনেক নদীই ভাঙনের শিকার হচ্ছে। ইতিমধ্যে কামারখালী ও মধুমতি এলাকার ভাঙন এলাকা পরিদর্শন করেছি। ইচ্ছা থাকলেই উপায় নেই। তারপরও যত দ্রুত সম্ভব ভাঙন রোধে এ এলাকায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।
