বৃষ্টির অনুপস্থিতি সত্ত্বেও গত কয়েক দিন ধরে রাজধানী ঢাকার বায়ুমানে দৃশ্যমান উন্নতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সাধারণত বৃষ্টির সময় বাতাসে ধূলিকণার পরিমাণ কমে গিয়ে বায়ুর মান কিছুটা উন্নত হয়। তবে এবার বৃষ্টিহীন আবহাওয়ার মধ্যেও বাতাসের গুণগত মান তুলনামূলক ভালো রয়েছে।
রোববার (২০ জুলাই) সকাল ৮টা ৩৫ মিনিটে সুইজারল্যান্ডভিত্তিক বায়ুমান নির্ধারণকারী প্রতিষ্ঠান আইকিউ এয়ারের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্যে দেখা গেছে, ঢাকার এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (একিউআই) দাঁড়িয়েছে ৬২। এ অবস্থানে ঢাকা বিশ্বের দূষিত শহরের তালিকায় রয়েছে ৩১তম স্থানে।
এর আগের দিন, শনিবার ঢাকার একিউআই ছিল ৭৩, তখন অবস্থান ছিল ১৯ নম্বরে। আর বৃহস্পতিবার একিউআই ৮৬ নিয়ে অবস্থান ছিল ১৭তম। তার আগের দিন, বুধবার ঢাকার বাতাসে একিউআই ছিল ৯৬। এসব তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে ঢাকার বাতাসে দূষণের মাত্রা কমে এসেছে ধারাবাহিকভাবে।
বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত শহরের তালিকায় বর্তমানে শীর্ষে রয়েছে কঙ্গোর রাজধানী কিনশাসা (একিউআই ১৭০), এরপর উগান্ডার কাম্পালা (১৫৩), পাকিস্তানের লাহোর (১৪৯), মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুর (১৩৫) এবং চিলির সান্তিয়াগো (১৩৪)।
আইকিউ এয়ারের প্রতিবেদনে জানানো হয়, ঢাকার বায়ুদূষণের প্রধান উৎস হলো অতিক্ষুদ্র বস্তুকণা, যা সহজেই শ্বাসতন্ত্রে প্রবেশ করে। এসব কণা হৃদরোগ, শ্বাসকষ্ট ও দীর্ঘমেয়াদে ক্যানসারের মতো গুরুতর স্বাস্থ্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
বায়ুমান সূচক অনুযায়ী, ৫০-এর নিচে থাকা বাতাসকে বিশুদ্ধ ধরা হয়। সূচক ৫১ থেকে ১০০ এর মধ্যে থাকলে তা সহনীয়। তবে ১০১ থেকে ১৫০ হলে তা সংবেদনশীল ব্যক্তিদের জন্য অস্বাস্থ্যকর হতে পারে। ১৫১-২০০ হলে তা সবার জন্য ক্ষতিকর, আর ২০১-৩০০ এর মধ্যে সূচক থাকলে বাতাস খুব অস্বাস্থ্যকর বলে বিবেচিত হয়। সূচক ৩০০ ছাড়িয়ে গেলে তা দুর্যোগপূর্ণ স্তরে পড়ে।
বায়ুদূষণের কারণে প্রতি বছর লাখ লাখ মানুষ মারা যাচ্ছেন। ২০২৩ সালের নভেম্বরে প্রকাশিত ব্রিটিশ মেডিকেল জার্নাল (বিএমজে)-এর এক গবেষণা বলছে, জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে উৎপন্ন বায়ুদূষণ বিশ্বজুড়ে বছরে প্রায় ৫২ লাখ মানুষের মৃত্যুর জন্য দায়ী। অন্যদিকে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) তথ্যে জানানো হয়েছে, গৃহস্থালি ও পরিবেশগত দূষণের সম্মিলিত প্রভাবে বছরে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়ায় প্রায় ৬৭ লাখে।
এমন পরিস্থিতিতে, ঢাকার পরিবেশকে আরও নিরাপদ রাখতে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় নাগরিকদের মাস্ক পরার পরামর্শ দিয়েছে। সংবেদনশীল ব্যক্তি—বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের—অত্যাবশ্যকীয় প্রয়োজন ছাড়া বাইরে না যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
তাছাড়া পরিবেশ রক্ষায় সংশ্লিষ্টদের ইটভাটা ও শিল্পকারখানায় কঠিন বর্জ্য পোড়ানো বন্ধ রাখা, নির্মাণস্থলে ঢেকে রাখা, বেষ্টনী তৈরি করা, নির্মাণসামগ্রী পরিবহনের সময় ট্রাক-লরি ঢেকে নেওয়া এবং দিনে অন্তত দুবার পানি ছিটানোর নির্দেশনা দিয়েছে মন্ত্রণালয়। পাশাপাশি ধোঁয়া তৈরি করা পুরোনো যানবাহন সড়কে না নামানোর কথাও বলা হয়েছে।
