প্রবল বেগে ধেয়ে আসছে টাইফুন ‘উইফা’। এর মোকাবেলায় রোববার (২০ জুলাই) সকালে হংকং কর্তৃপক্ষ সর্বোচ্চ ঝড় সতর্কতা জারি করেছে। ভয়াবহ এই ঝড়ের প্রভাবে শহর ও আশপাশের অঞ্চলজুড়ে শুরু হয়েছে প্রবল বাতাস ও ঝড়ো বৃষ্টি। বাতাসের গতি ঘণ্টায় ১৬৭ কিলোমিটারেরও বেশি, যা হারিকেনের তীব্রতা নিয়ে দক্ষিণ হংকংয়ে আঘাত হানতে শুরু করেছে।
রয়টার্স জানিয়েছে, হংকংয়ের আবহাওয়া দপ্তর স্থানীয় সময় সকাল ৯টা ২০ মিনিটে সতর্কতার মাত্রা ১০ নম্বরে উন্নীত করে। এটি শহরটির সর্বোচ্চ ঝড় সতর্কতা। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই সতর্কতা কিছু সময়ের জন্য বলবৎ থাকবে। পূর্বাভাস অনুযায়ী, টাইফুন উইফা আবহাওয়া দপ্তরের অবস্থান থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার দক্ষিণ দিয়ে অতিক্রম করবে।
ঝড়ের কারণে নগরজুড়ে বিপর্যয় নেমে এসেছে। বাতিল করা হয়েছে ২০০টিরও বেশি ফ্লাইট। ক্যাথে প্যাসিফিক এয়ারওয়েজ স্থানীয় সময় রোববার ভোর ৫টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত হংকংগামী এবং হংকং থেকে ছেড়ে যাওয়ার কথা থাকা সব ফ্লাইট স্থগিত করেছে।
ঝড়ের আশঙ্কায় পুরো হংকংয়ে গণপরিবহন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, উত্তাল সমুদ্রের কারণে ফেরি চলাচলও স্থগিত রাখা হয়েছে। নগরজুড়ে ঝড়ের প্রভাব স্পষ্ট—বাতাসে কেঁপে উঠছে ভবন, রাস্তাঘাট জনশূন্য হয়ে পড়েছে।
টাইফুন উইফা শুধু হংকং নয়, এর আগেও ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে। শনিবার, ভিয়েতনামের হা লং উপসাগরে এর প্রভাবে ঝড়ো আবহাওয়ার মধ্যে একটি পর্যটকবাহী নৌকা উল্টে যায়। এতে অন্তত ৩৮ জন পর্যটকের মৃত্যু হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা এবং উদ্ধারকাজ নিয়ে হংকং প্রশাসন এখন সর্বোচ্চ প্রস্তুতিতে রয়েছে। তবে ঝড়ের প্রকৃত প্রভাব মোকাবিলায় আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে, বিশেষ করে জননিরাপত্তা এবং পরিবহন ব্যবস্থার ওপর।

