বিশ্বের দূষিত শহরের তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে ঢাকা, বাতাস ‘অস্বাস্থ্যকর’

আপডেট : ২১ জুলাই ২০২৫, ০৯:২০

একদিনের ব্যবধানে ঢাকার বায়ুমানে ব্যাপক অবনতি হয়েছে। বর্ষার শুরু থেকেই বায়ুদূষণের মাত্রা তুলনামূলকভাবে কম থাকলেও সোমবার (২১ জুলাই) তা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে।

সকাল ৮টা ৩০ মিনিটে সুইজারল্যান্ডভিত্তিক বায়ুমান পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা ‘আইকিউ এয়ার’-এর তথ্য অনুযায়ী, ঢাকার বায়ুমান সূচক (একিউআই) দাঁড়িয়েছে ১৫২-তে, যা 'সবার জন্য অস্বাস্থ্যকর' হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ। এর ফলে ঢাকা আজ বিশ্বের দূষিত শহরের তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে।

অথচ রোববার (২০ জুলাই) ঢাকার বায়ুমান ছিল মাত্র ৬২, যার ফলে শহরটি অবস্থান করেছিল ৩১ নম্বরে। গত শনিবার সূচক ছিল ৭৩ এবং অবস্থান ছিল ১৯। তার আগে, বৃহস্পতিবার ঢাকার একিউআই ছিল ৮৬ এবং অবস্থান ছিল ১৭তম। এমন ধারাবাহিক উন্নতির পর আজ হঠাৎ করে দূষণের এই ব্যাপক বৃদ্ধি পরিবেশবিদদের ভাবিয়ে তুলেছে।

বর্তমানে তালিকার শীর্ষে রয়েছে উগান্ডার রাজধানী কাম্পালা, যার বায়ুমান সূচক ১৫৯। ঢাকার পরে রয়েছে চিলির সান্তিয়াগো, ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তা এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই। এসব শহরের একিউআই যথাক্রমে ১৫২, ১৩৭ ও ১৩৭।

আইকিউ এয়ারের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ঢাকার দূষণের প্রধান উৎস হলো বাতাসে থাকা অতিক্ষুদ্র বস্তুকণা (PM2.5)। এই কণাগুলো শ্বাসতন্ত্রের রোগ, হৃদরোগ এবং দীর্ঘমেয়াদে ক্যানসারের মতো গুরুতর স্বাস্থ্য ঝুঁকি তৈরি করে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) মানদণ্ড অনুযায়ী, বায়ুমান সূচক ৫০-এর নিচে থাকলে তা বিশুদ্ধ ধরা হয়। ১০১-১৫০ হলে তা সংবেদনশীল ব্যক্তিদের জন্য ক্ষতিকর এবং ১৫১-২০০ হলে তা সকলের জন্যই অস্বাস্থ্যকর হিসেবে বিবেচিত হয়।

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে নাগরিকদের মাস্ক পরার পরামর্শ দিয়েছে, বিশেষ করে যাঁরা শিশু, বয়স্ক বা আগে থেকেই শ্বাসতন্ত্রের জটিলতায় ভুগছেন। একই সঙ্গে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া সংবেদনশীল ব্যক্তিদের বাইরে না যাওয়ার অনুরোধও জানানো হয়েছে।

এছাড়া পরিবেশ সংরক্ষণের স্বার্থে ইটভাটা ও শিল্পকারখানার মালিকদের কঠিন বর্জ্য পোড়ানো থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্মাণস্থলে ছাউনি ও বেষ্টনী স্থাপন, নির্মাণসামগ্রী ঢেকে রাখা এবং পরিবহনের সময় যানবাহন ঢেকে চালানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি নির্মাণস্থলের আশপাশে দিনে কমপক্ষে দু’বার পানি ছিটাতে এবং ধোঁয়াযুক্ত পুরোনো যানবাহন চলাচল থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, গত বছরের এক প্রতিবেদনে দেখা যায়, সবচেয়ে দূষিত বায়ুর দেশ হিসেবে তালিকায় ছিল বাংলাদেশ এবং চাদ। অপরদিকে, ২০২৩ সালের নভেম্বরে ব্রিটিশ মেডিকেল জার্নালে (BMJ) প্রকাশিত এক গবেষণায় বলা হয়, জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে উৎপন্ন বায়ুদূষণের কারণে বিশ্বজুড়ে প্রতি বছর প্রায় ৫২ লাখ মানুষ মারা যায়। আর বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) জানায়, গৃহস্থালি ও পরিবেশগত বায়ুদূষণ মিলে বছরে মৃত্যু হয় প্রায় ৬৭ লাখ মানুষের।

ইত্তেফাক/টিএইচ