উত্তর আমেরিকার অন্যতম বৃহৎ দক্ষিণ এশীয় সাংস্কৃতিক আয়োজন টিডি ফেস্টিভ্যাল অফ সাউথ এশিয়া ২০২৫-এর পর্দা নামলো রোববার (২০ জুলাই)। টরন্টোর বিখ্যাত জেরার্ড স্ট্রিট এলাকায় অনুষ্ঠিত এই উৎসব ছিল বর্ণাঢ্য আয়োজনের এক প্রাণবন্ত মিলনমেলা। এবারের আসর ছিল উৎসবটির ২৩তম বার্ষিক আয়োজন, যা শুরু হয়েছিল ১৯ জুলাই।
দুই দিনব্যাপী এই আয়োজনে প্রতিদিন দুপুর ১২টা থেকে রাত সাড়ে ১১টা পর্যন্ত দর্শনার্থীরা উপভোগ করেছেন নাচ-গান, কনসার্ট, চলচ্চিত্র প্রদর্শনীসহ নানা সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। পাশাপাশি চলেছে হস্তশিল্প, ফ্যাশন সামগ্রী ও দেশীয় খাবারের সমারোহে জমজমাট কেনাবেচা।
উৎসবের উদ্বোধন করেন টরন্টোর মেয়র অলিভিয়া চাউ। আয়োজক সংগঠন জেরার্ড ইন্ডিয়া বাজার বিজনেস ইমপ্রুভমেন্ট এরিয়া (BIA) এর তত্ত্বাবধানে উৎসবটি দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর বৈচিত্র্যময় ঐতিহ্য, শিল্প ও সংস্কৃতিকে তুলে ধরে।
বর্ণাঢ্য এ আয়োজন প্রতি বছর প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজারেরও বেশি দর্শনার্থীকে আকর্ষণ করে। এবছর বিভিন্ন মঞ্চে ২০০টিরও বেশি লাইভ পারফর্ম্যান্স অনুষ্ঠিত হয়েছে। দর্শনার্থীরা উপভোগ করেছেন ঐতিহ্যবাহী ও সমসাময়িক নৃত্য, সঙ্গীত, নাটক, এবং স্থানীয় ব্যবসায়ীদের স্টলে ঘুরে দেখেছেন রকমারি কারুশিল্প ও ঐতিহ্যবাহী পোশাক। খাবারের স্টলে ছিল বাংলাদেশের রকমারি পদসহ নানা দক্ষিণ এশীয় স্বাদের বাহার।
এবার বিশেষভাবে নজরকাড়া অংশগ্রহণ ছিল বাংলাদেশের। আয়োজকদের পক্ষ থেকে লামিয়া তাসনিম এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানান, এবারের মেলায় বাংলাদেশের নিজস্ব স্টল ‘হৃদয়ে বাংলাদেশ’ নামে পরিচিত ছিল। সেই প্যাভিলিয়নের ‘রঙের মঞ্চে’ বাংলাদেশি শিল্পীরা অংশ নেন। এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ এই উৎসবে প্রথমবারের মতো আনুষ্ঠানিকভাবে প্যাভিলিয়ন নিয়ে অংশ নেয়।
ইন্ডিয়ান স্টল ‘কালাকান্দার’-এ কর্মরত রুনা লায়লা জানান, 'এই প্রথম বাংলাদেশ প্যাভিলিয়নের উপস্থিতি ছিল অভূতপূর্ব। দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড় দেখে আমরা সত্যিই বিস্মিত হয়েছি।' তিনি আরও বলেন, 'পুরো জেরার্ড স্ট্রিটজুড়ে খোলা আকাশের নিচে দুই ধারের স্টোর মিলিয়ে অসাধারণ এক পরিবেশ তৈরি হয়েছিল।'
প্রসঙ্গত, ১৯৮১ সালে প্রতিষ্ঠিত জেরার্ড ইন্ডিয়া বাজার BIA এখন টরন্টোর অন্যতম পুরনো ও বৃহৎ সাংস্কৃতিক বাণিজ্যিক সংগঠন। এই উৎসব কেবল বিনোদনের জন্যই নয়, দক্ষিণ এশীয় ব্যবসা ও সংস্কৃতিকে আন্তর্জাতিক পরিসরে তুলে ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবেও বিবেচিত।
