মোহামেডানের আক্রমণভাগ হবে শক্তিশালী

আপডেট : ২১ জুলাই ২০২৫, ১৪:২৯

দেশের ফুটবলে বড় দল হলেও মোহামেডান এখন সবচেয়ে কম বাজেটে ফুটবল দল তৈরি করে। গত আসরেও সেটি করেছিল। ২৩ বছর পর প্রথমবার প্রিমিয়ার লিগ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে মোহামেডান। তার এক মৌসুমে আগে ফেডারেশন কাপ ফুটবলেও চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল মোহামেডান। আসছে মৌসুমে মোহামেডান কম বাজেট নিয়েও ভালো দল গড়ার চেষ্টা করছে। মোহামেডানের অর্থ সংগ্রহের একমাত্র যোগানদাতা হচ্ছেন দুজন। তারাই ক্লাবটাকে এখনো সচল রাখছেন বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের।

সাব্বির-নকিবদের কথা হচ্ছে ক্লাবের সভাপতি জেনারেল আবদুল মুবীন (অব.), ফুটবল কমিটির সাবেক চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ আলমগীর; তারা দুজনেই ফুটবল দলের জন্য টাকা দিয়েছেন। এখানে অর্থের ছাড়াছড়ি নেই। কোচ আলফাজ আহমেদ, ম্যানেজার ইমতিয়াজ আহমেদ নকিব; দুজন মিলে খেলোয়াড় সংগ্রহ করেন।

নতুন মৌসুমের দলগঠনে মোহামেডানের ঘর গোছানোর কাজ প্রায় সম্পন্ন। আগামী ১৪ আগস্ট শেষ হচ্ছে খেলোয়াড় রেজিস্ট্রেশনের কাজ। তার আগেই মোহামেডান দল গঠনের বাকি কাজ সম্পন্ন করতে চায়। রহমতগঞ্জের বোয়েটাং, ফকিরাপুলের লেফট উইং রাফায়াল ট্রুডো ও গোলরক্ষক তায়েব, আবাহনীর সুমন রেজা, ব্রাদার্সের রহমত মিয়া। অনূর্ধ্ব-১৯ দলের ৫ জন। গত মৌসুমে খেলা উজবেকিস্তানের মোজাফফরভ থাকছেন। সানডে চলে গেছেন। আরও একজন বিদেশি স্ট্রাইকার নেবে মোহামেডান। 

এর বাইরে মোহামেডানের পুরোনো দলটা থাকছে বলে জানিয়েছেন নকিব। তিনি বলেন, 'দুই জন ফরেন নেব। আমাদের সৌরভ, রাজু, মইন, মাহবুব, শান্ত, তপু, অনন্ত, মেহেদী, রাফি, জুয়েল, আরিফ, রহিমসহ পুরোনো অনেকেই আছেন। দেশি খেলোয়াড়দের নেওয়ার কাজ শেষ। দুই জন বিদেশি নেওয়ার চিন্তা আছে।' নকিব বলেছেন, 'মোহামেডানের আক্রমণভাগ হবে শক্তিশালী।'

গতকাল বিকালে মোহামেডান টেন্টে এসেছিলেন ব্রাদার্সে খেলা রহমত মিয়া। বসুন্ধরা কিংস, আবাহনী হয়ে এবার সাদাকালো মোহামেডানে রহমত মিয়া। রক্ষণভাগের এই ফুটবলারকে সাইন করিয়েছে মোহামেডান। এ সময় সাবেক তারকা ফুটবলার ইমতিয়াজ সুলতান জনি, জোসি, সাব্বির এবং ম্যানেজার নকিব ছিলেন। রহমতকে দলে নিয়ে মোহামেডান মনে করেছে, তাদের রক্ষণভাগের জায়গাটা শক্তিশালী হয়েছে। সাব্বির, জনি, জোসিরা গত লিগের প্রায় সব খেলাই দেখেছেন। তারা জানেন, কে কোথায় ভালো খেলেছেন। তাকে দিয়ে কোন কাজটা হবে। কে কোথায় ভালো খেলতে পারবে। 

সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে বাজেট অনুযায়ী দল গঠন করতে হলে কাকে কাকে দলে নিতে হবে। স্বল্প বাজেটে ভালো খেলোয়াড় দিয়ে লড়াই করতে চায় মোহামেডান। তাদের কাছে হিসাব রয়েছে বসুন্ধরা কিংস রক্ষণে কাকে নিচ্ছে। আক্রমণে কাকে রাখছে। আবাহনীর রক্ষণে কারা খেলবে। আক্রমণে কারা খেলবে। এসব হিসাবের খাতায় অঙ্কের ভুল যেন না হয়, সেভাবেই একটা দলকে মাঠে দাঁড় করাতে চাইছেন। মোহামেডানের তারকা খেলোয়াড় কয়জন খেলবেন কিংবা জাতীয় দলের কোন ফুটবলার খেলবেন, সেটি নিয়ে ভাবে না মোহামেডান। বরং কার কাছ থেকে সেরা খেলাটা আদায় করা যাবে, সেটা পরিকল্পনা করেই খেলোয়াড় নেওয়া হয়।

সুলায়মান দিয়াবাতে চলে গেছেন, তাকে নিয়ে মোহামেডান আগ্রহ দেখায় না। দিয়াবাতে ভালো খেলোয়াড় কিন্তু তিনি অনেক সময় মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়াতেন। সাব্বির, জনিরা বলতেও পারতেন না, অনেক সময় মুখ বুজে সহ্য করে গেছেন। আফসোস করে সাব্বির বললেন, 'মিটিংয়ের ভেতরে দিয়াবাতে এমন কথা বলেছেন, আমরা অবাক হয়ে গিয়েছি। সেটার উত্তর দিতে গেলে দলের মধ্যে শৃঙ্খলা নষ্ট হয়ে যেতে পারে, হুট করে বলবে আমি খেলব না। বাধ্য হয়ে দাঁতে দাঁত চেপে সয়ে গিয়েছি।'

অন্য কারো মতে মোহামেডান লিগ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পেছনে সব কৃতিত্ব দিয়াবাতের নয়। যদি তাই হতো তাহলে দিয়াবাতে ছয় বছর মোহামেডানে খেলে লিগের ট্রফি একটা, কেন। মোজাফফরভ আছে, মেহেদী হাসান আছে, গোলরক্ষক সুজন আছে, সবার অবদান রয়েছে। কোচ আলফাজ, ম্যানেজার নকিব, টিম ম্যানেজম্যান্ট রয়েছে। সবাই মিলে একটা টিম ওয়ার্ক হয়েছে। এককভাবে কেউ চ্যাম্পিয়ন করেনি।

রহমতগঞ্জের বোয়েটাং আসায় মোহামেডানের আক্রমণ শক্তিশালী হয়েছে। বোয়েটাং গত লিগে ২১ গোল করেছেন। শীর্ষ গোলদাতা। তার বয়সও কম, অনেক দিন সার্ভিস দিতে পারবেন মোহামেডানকে। দিয়াবাতের চেয়ে ভালো খেলা উপহার দিতে পারবে এমন বিশ্বাস মোহামেডানের।

ইত্তেফাক/জেডএইচ