স্বপ্ন ছিল পাইলট হবে। পাখির চোখে দেখবে দেশকে। উড়বে নী আকাশে। তবে, পাইলট হওয়ার সেই স্বপ্ন পূরণ হলো না তানভীর আহমেদর
মাইলস্টোন স্কুল এন্ড কলেজের ৮ম শ্রেণীর ছাত্র ছিলেন তানভীর আহমেদ। ক্লাস চলছিল। ঠিক সে সময় বিমানবাহিনীর এফটি-৭ বিজিআই যুদ্ধবিমানটি আছড়ে পড়ে ওই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের হায়দর আলী ভবনের প্রধান ফটকে। নিমিষেই যেন যমদূত নেমে আসে। আগুনের লেলিহান শিখা গ্রাস করে নেয় ভবনে থাকা শিক্ষার্থীদের। তাদের মধ্যে একজন তানভীর।
তানভীর আহমেদের পিতার নাম রুবেল মিয়া এবং মাতার নাম লিপি বেগম। গ্রামের বাড়ি মির্জাপুর উপজেলার ওয়ার্শি ইউনিয়নের নগরভাতগ্রাম গ্রামে। পুত্র শোকে ঢাকার বাসায় বার বার মূর্ছা যাচ্ছেন বাবা-মা। গ্রামে পুরো বাড়ি জুড়ে বইছে শোকের মাতম। আশপাশের শতশত লোকজন ভিড় করছে বাড়িতে।
নিহত তানভীরের চাচাতো ভাই সজিব জানায়, তার চাচা রুবেল মিয়া ও চাচী লিপি বেগম সন্তানকে ভাল লেখাপড়া ও সু-শিক্ষায় শিক্ষিত করে তোলার জন্য মাইলস্টোন কলেজে ভর্তি করেছিলেন। তার চাচা ঢাকায় ব্যবসা করেন। তানভীরের ছোট ভাই তাসবীর চতুর্থ শ্রেণীতে পড়ে।
সজিব জানায়, তানভীরের স্বপ্ন ছিল পাইলট হওয়ার। সে লক্ষ্য নিয়েই সে প্রচুর লেখাপড়া করতো। ছটিতে যখন গ্রামে আসতো তখনও পড়াশোনায় ব্যস্ত থাকতো।
আগামীকাল মঙ্গলবার (২২ জুলাই) তানভীরের মরদেহ গ্রামরে বাড়িতে আসবে। সেখানেই নামাজে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে।
অপর দিকে একই বিমান দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছে সখীপুর উপজেলার হতেয়া কেরানীপাড়া গ্রামের দেলোয়ার হোসেনের শিশু কন্যা তৃতীয় শ্রেণীর শিক্ষার্থী মেহেনাজ আক্তার হুমাইরা। তার পিতা মাইলস্টোন স্কুল এন্ড কলেজের শিক্ষক। তার মৃত্যুর খবর এলাকায় ছড়িয়ে পরলে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
