জয় না পেলে নিজের কোনো ইনিংস গোনায় ধরেন না জাকের আলি

আপডেট : ২৩ জুলাই ২০২৫, ১৩:২৪

পাকিস্তানের বিপক্ষে দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে ম্যাচসেরা পারফরম্যান্সে দলকে জয় এনে দিলেও, জাকের আলি বলছেন—দল না জিতলে কোনো ইনিংসকেই নিজের সাফল্য হিসেবে গণ্য করেন না তিনি।

মিরপুরে মঙ্গলবারের (২২ জুলাই) ম্যাচে ৪৮ বলে ৫৫ রানের ইনিংস খেলেন জাকের। স্ট্রাইক রেট ছিল ১১৪.৫৮—টি-টোয়েন্টির প্রচলিত ঘরানায় খুব বেশি চোখধাঁধানো না হলেও, ম্যাচের প্রেক্ষাপটে সেটিই হয়ে দাঁড়ায় সবচেয়ে কার্যকরী ইনিংস। দল জয় পাওয়ায় নিজের এই পারফরম্যান্সকে গুরুত্বপূর্ণ বলেই বিবেচনা করছেন তিনি।

জাকের আলি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এখনও তুলনামূলক নবীন। তবে এর মধ্যেই তিন সংস্করণে কিছু মনে রাখার মতো ইনিংস উপহার দিয়েছেন তিনি। কখনও বিপর্যয়ে হাল ধরেছেন, কখনও করেছেন পাল্টা আক্রমণ। তবে সেই সব ম্যাচে বাংলাদেশ হেরে যাওয়ায় নিজের সেসব ইনিংসও মূল্যহীন মনে হয়েছে তার কাছে।

আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে জাকেরের আনুষ্ঠানিক অভিষেক ২০২৩ সালের এশিয়ান গেমসে হলেও, তখন মূল জাতীয় দল অংশ নেয়নি ওই টুর্নামেন্টে। তাই প্রকৃত অভিষেক বলতে যা বোঝায়, সেটি ঘটে ২০২৪ সালের মার্চে, সিলেটে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে। সেখানে ছয় নম্বরে নেমে ৩৪ বলে ৬৮ রানের দুর্দান্ত এক ইনিংস খেলেছিলেন তিনি। কিন্তু বাংলাদেশ ৩ রানে হেরে যায়, ফলে সেই ইনিংসও তার কাছে তেমন গুরুত্ব পায়নি।

এরপর পাকিস্তান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিপক্ষে আরও কয়েকটি কার্যকর ইনিংস খেলেন জাকের, যার দুটি ছিল গত মে মাসে। তবে দুটি ম্যাচেই বাংলাদেশ হেরে যাওয়ায় সেই পারফরম্যান্সগুলোকেও নিজের খাতায় তেমনভাবে যোগ করেন না তিনি।

তবে মঙ্গলবারের জয়জয়কার ভিন্ন বাস্তবতা এনে দেয় জাকেরের জন্য। ৮ রানের জয় নিশ্চিত হওয়ার পর সংবাদ সম্মেলনে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে বলেন তিনি, 'ম্যাচ জেতানো ইনিংস খুব জরুরি। আমি শুধু ম্যাচ জেতানো ইনিংসগুলোই কাউন্ট করি। যদি ভালো খেলি আর দল না জেতে, আমি কাউন্ট করি না। আজকে অবদান রাখতে পেরেছি, আজকে কাউন্ট হবে।'

জাকের বেশিরভাগ সময় খেলেছেন ৬ কিংবা ৭ নম্বরে। সাম্প্রতিক কয়েকটি ম্যাচে পাচ্ছেন ৫ নম্বরে খেলার সুযোগ, তবে এতে বড় পরিবর্তন আসেনি, কারণ বরাবরের মতোই লোয়ার অর্ডার ব্যাটসম্যানদের সঙ্গে খেলতে হচ্ছে তাকে।

মঙ্গলবারের ম্যাচেও বাংলাদেশ ২৮ রানে ৪ উইকেট হারায়। এরপর শেখ মেহেদি হাসানের সঙ্গে গড়েন ৫৩ রানের জুটি। কিন্তু একশ ছুঁতেই আবারও ধস নামে। শেষদিকে লেজের ব্যাটসম্যানদের নিয়ে দলকে ১৩০ রানের ওপারে নিয়ে যান জাকের।

জাকের জানান, বয়সভিত্তিক ক্রিকেট থেকেই তিনি লোয়ার অর্ডারে খেলার সঙ্গে অভ্যস্ত। বলেন, 'আমি অনূর্ধ্ব-১৭তে ৭ নম্বরে নেমে একটা শতক করেছি, লেজের ব্যাটসম্যানের সঙ্গে ৭১ রানের জুটি গড়ে। এটা আমার অভ্যাস হয়ে গেছে। তাই এসব নিয়ে আলাদা চাপ নিই না। চেষ্টা করি, যিনি আমার সঙ্গে থাকেন, তাকে ব্যাটসম্যান হিসেবে নিরাপদ রেখে দুই দিক থেকেই রান তুলতে।'

তিন সংস্করণেই জাকের আলির পরিণত ব্যাটিং আগামীর জন্য আশাব্যঞ্জক বার্তা দিচ্ছে বাংলাদেশ ক্রিকেটকে। তবে তার চোখে—শুধু ব্যক্তিগত রান নয়, দলের জয়ই সবকিছুর ওপরে।

ইত্তেফাক/টিএইচ