শিগগিরই পদত্যাগের পরিকল্পনার কথা অস্বীকার করলেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী

আপডেট : ২৩ জুলাই ২০২৫, ১৬:২১

উচ্চকক্ষ নির্বাচনে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) পরাজয়ের পর জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিগগিরই পদত্যাগের পরিকল্পনা করছেন - এ সংশ্লিষ্ট বেশ কয়েকটি দেশীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করেছেন শিগেরু ইশিবা।

নির্বাচনে দলের পরাজয়ের পর ইশিবা প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইয়োশিহিদে সুগা, ফুমিও কিশিদা এবং তারো আসোর সঙ্গে বৈঠক করেন। এরপরই মূলত তার পদত্যাগ নিয়ে গুঞ্জন ওঠে।

তবে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ওই বৈঠকে 'আমি পদে থাকব নাকি পদত্যাগ করব তা নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি।'

প্রধানমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, 'কিছু সংবাদমাধ্যম ভিন্ন কথা বলেছে, কিন্তু আমি কখনো এমন কিছু বলিনি। এই প্রতিবেদনগুলো সম্পূর্ণ সত্য নয়।'

এর আগে মাইনিচি সংবাদপত্র জানিয়েছে, ইশিবা তার সহযোগীদের আগস্টের শেষের দিকে পদত্যাগের ঘোষণা দেওয়ার পরিকল্পনা সম্পর্কে জানিয়েছেন।

এলডিপি'র ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে সংবাদপত্র কিয়োডো তার পদত্যাগকে 'অনিবার্য' বলেও বর্ণনা করে।

এছাড়া ইয়োমিউরি সংবাদপত্র জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী ইশিবা জুলাইয়ের শেষের দিকে পদত্যাগ করতে পারেন।

২০ জুলাইয়ের নির্বাচনে এলডিপি এবং কোমেইতোর ক্ষমতাসীন জোট পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষে তাদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারিয়েছে। এটি এক বছরেরও কম সময়ের মধ্যে ইশিবার দ্বিতীয় বড় নির্বাচনী পরাজয়।

গত শরতে জোটটি উচ্চকক্ষের চেয়ে আরও শক্তিশালী নিম্নকক্ষেও তাদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারিয়েছে। যদিও দলগুলো বিরোধী বিভেদকে পুঁজি করে 'সংখ্যালঘু সরকার' গঠন করতে সক্ষম হয়েছে। এরপর থেকে ইশিবার ওপর পদত্যাগের চাপ ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে।

যদি ইশিবা চলতি মাসে পদত্যাগ করেন, তাহলে আগস্টে নির্ধারিত একটি সংসদীয় অধিবেশনের সময় একজন নতুন প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত করবে পার্লামেন্ট।

মাইনিচি সংবাদপত্র উল্লেখ করেছে, নতুন এলডিপি সভাপতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রধানমন্ত্রী নিযুক্ত হবেন - এমন নিশ্চয়তা নেই। এর আলোকে বিরোধী দলগুলোর সঙ্গে পরামর্শের জন্য সময় দেওয়ার জন্য ইশিবা তার পদত্যাগ বিলম্বিত করার কথা বিবেচনা করছেন বলে জানা গেছে।

উচ্চকক্ষ নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর ইশিবা বলেছিলেন, তিনি পদে থাকার ইচ্ছা পোষণ করেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান আলোচনাকে একটি পদে থাকতে চাওয়ার 'মূল কারণ' হিসেবে তুলে ধরেন।

ইত্তেফাক/এসকে