প্রথম হাইপারসনিক ব্যালিস্টিক মিসাইল সামনে আনল তুরস্ক

আপডেট : ২৩ জুলাই ২০২৫, ১৭:৩২

নিজেদের প্রথম হাইপারসনিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উন্মোচন করল তুরস্ক। মঙ্গলবার (২৩ জুলাই) ইস্তাম্বুলে আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা শিল্প মেলার (IDEF) উদ্বোধনী দিনে ক্ষেপণাস্ত্রটি সামনে আনা হয়।

তুর্কি টুডের প্রতিবেদন অনুসারে, দেশীয় প্রতিরক্ষা সংস্থা রকেটসানের নির্মিত 'টাইফুন ব্লক-৪' এর ওজন ২ হাজার ৩০০ কিলোগ্রাম। এটির দৈর্ঘ্য ৬.৫ মিটার এবং পাল্লা ৮০০ কিলোমিটার। ক্ষেপণাস্ত্রটি উচ্চগতি এবং উন্নত চালচলনের জন্য বিশেষভাবে প্রশংসিত হয়েছে।

রকেটসান এক বিবৃতিতে বলেছে, এটি তুরস্কের প্রতিরক্ষা শিল্পের জন্য আরেকটি রেকর্ড। এই নতুন ক্ষেপণাস্ত্রটির বহুমুখী ওয়ারহেড আছে। বহু দূর থেকে অসংখ্য কৌশলগত লক্ষ্যবস্তু - যেমন বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র, বৃহৎ সামরিক ছাউনি এবং গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনা ধ্বংস করতে সক্ষম হবে।

ক্ষেপণাস্ত্রটি সামনে আনার পর প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান বলেছেন, আজ আমরা কেবল তুর্কি প্রতিরক্ষা শিল্পের উন্নয়নই প্রত্যক্ষ করছি না, বরং স্বাধীনতার দিকে একটি জাতির অগ্রযাত্রাও প্রত্যক্ষ করছি। আমরা একটি দেশের নিজস্ব আকাশের নিচে, নিজস্ব ডানায় উপরে ওঠার গল্প দেখতে পাচ্ছি।

এরদোয়ান আরও বলেন, তুরস্ক 'নিষেধাজ্ঞা, দ্বৈত মান এবং কূটনৈতিক চাপ কাটিয়ে' একটি বৈশ্বিক শক্তিতে পরিণত হয়েছে এবং প্রতিরক্ষা শিল্পের মাধ্যমে বিশ্ব বাজারে একটি ছাপ রেখেছে।

এদিকে, গতকাল মঙ্গলবার থেকে শুরু হওয়া ছয় দিনের এই অনুষ্ঠানে ৪৪টি দেশের প্রতিনিধিত্বকারী ৯০০টিরও বেশি দেশীয় এবং ৪০০টি বিদেশি প্রতিরক্ষা সংস্থা অংশগ্রহণ করছে।

চীন, দক্ষিণ আফ্রিকা, যুক্তরাজ্য, কাতার, সৌদি আরব, আজারবাইজান ও পাকিস্তানসহ বিভিন্ন দেশের কোম্পানি এবং প্রতিনিধিদল উন্নত প্রতিরক্ষা, বিমান চলাচল এবং মহাকাশ প্রযুক্তি প্রদর্শন করছে।

প্রতিরক্ষা শিল্প মেলায় তুরস্কের প্রতিরক্ষা শিল্পের শীর্ষস্থানীয় বায়কার, টার্কিশ অ্যারোস্পেস ইন্ডাস্ট্রিজ, আসেলসান, হাভেলসান, এফএনএসএস, ওটোকার, এমকেই এবং রকেটসানের পাশাপাশি বিএই সিস্টেমস, রোলস-রয়েস, লকহিড মার্টিন এবং এয়ারবাসের মতো শীর্ষস্থানীয় বৈশ্বিক সংস্থাগুলো উপস্থিত রয়েছে।

এই মেলায় বিভিন্ন ধরণের সামরিক সরঞ্জাম প্রদর্শিত হচ্ছে - যার মধ্যে রয়েছে যুদ্ধ ট্যাঙ্ক, সাঁজোয়া যান, ইলেকট্রনিক যুদ্ধ ব্যবস্থা, কৌশলগত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, গাইডেড যুদ্ধাস্ত্র এবং মানবহীন স্থল যানবাহন।

ইত্তেফাক/এসকে