বাগেরহাটে শ্বশুরবাড়ির লোকজনের মারধরে যুবদল নেতার মৃত্যুর অভিযোগ

আপডেট : ২৪ জুলাই ২০২৫, ২১:২২

বাগেরহাটে শ্বশুরবাড়ির লোকজনের মারধরে সোহাগ সরদার (২৭) নামে যুবদল এক নেতার মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। 

বুধবার (২৩ জুলাই) দিবাগত রাতে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে বাগেরহাট ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।

নিহত সোহাগ চিতলমারী উপজেলার সন্তোষপুর গ্রামের আবেদ আলী সরদারের ছেলে এবং সন্তোষপুর ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য ছিলেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বছর দেড়েক আগে পারিবারিকভাবে বাগেরহাট সদর উপজেলার আদিখালি গ্রামের দেলোয়ার মাঝির মেয়ে সনিয়া আক্তারকে বিয়ে করেন সোহাগ। তবে বিয়ের পর থেকেই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে দাম্পত্য কলহ চলছিল।

নিহতের পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বুধবার সোহাগ তার শ্বশুরবাড়িতে গেলে সেখানে তাকে বেধড়ক মারধর করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, মারধরের একপর্যায়ে মুখে বিষ প্রয়োগ করে হাসপাতালে নেওয়া হয় তাকে। ঘটনার পর থেকে স্ত্রী সনিয়া আক্তার, শ্বশুর দেলোয়ার মাঝি ও তাদের পরিবারের সদস্যরা পলাতক রয়েছেন।

এ ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে রজো পাইক নামে একজনকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছে নিহতের স্বজনরা। 

পুলিশ জানিয়েছে, সনিয়া আক্তারের মায়ের সঙ্গে রজো পাইকের ফোনালাপের প্রমাণ পাওয়া গেছে। আটক রজো পাইক আদিখালি গ্রামের ইনছান পাইকের ছেলে।

সোহাগের বড় বোন রেখা বেগম বলেন, বিয়ের পর থেকেই ভাইয়ের দাম্পত্য জীবনে অশান্তি ছিল। এর আগেও শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাকে মারধর করে হাসপাতালে পাঠিয়েছিল। এবার তারা আমার ভাইকে মেরে ফেলেছে। আমরা এ হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার চাই।”

বাগেরহাট মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাহমুদ-উল-হাসান বলেন, নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। একজনকে আটক করা হয়েছে। এটি হত্যা না আত্মহত্যা—তা ময়নাতদন্ত রিপোর্ট পেলেই নিশ্চিতভাবে বলা যাবে।

ইত্তেফাক/এএইচপি